অ্যালোভেরার ঔষধি গুণ

ঘৃতকুমা’রী একটি ভেষজ উদ্ভিদ। আদিনিবাস উত্তর আফ্রিকা। তবে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জন্মাতে দেখা যায়।ঘৃতকুমা’রী চিরহরিৎ রসালো বীরুৎ ও বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। গাছের আকার দেখতে অনেকটা আনারস গাছের মতো। পাতার রঙ সবুজ, বেশ পুরু ও নরম, দু’ধারের কিনারায় করাতের মতো কাঁ’টা থাকে এবং ভেতরে লালার মতো পিচ্ছিল শাঁস থাকে।গাছের গোড়া থেকে ঊর্ধ্বমুখী অনেক পাতা একের পর এক বের হয়। গাছের গড় উচ্চতা ৬০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার। গ্রীষ্মকালে লম্বা ডাঁটায় ফুল ফোটে। ফুলের ডাঁটা লম্বায় প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার। ফুল রঙে হলুদ, দেখতে নলাকার।রৌদ্রোজ্জ্বল সুনিষ্কাশিত উঁচু থেকে মাঝারি উঁচু ভূমি ঘৃতকুমা’রীর জন্য উপযু’ক্ত। দো-আঁশ থেকে বেলে দো-আঁশ মাটি ও অল্প বালিমিশ্রিত মাটিতে ঘৃতকুমা’রী ভালো জন্মে। তবে বেলে দো-আঁশ মাটি উত্তম।পানি জমা’র সম্ভাবনা আছে এমন নিচু জমি ও যেখানে রোদ পড়ে না এমন জমি ঘৃতকুমা’রী চাষের অনুপযোগী। প্রয়োজনে সেচ দিতে হবে।সরাসরি মাটি ও টবে চাষ উপযোগী উদ্ভিদ ঘৃতকুমা’রী। সাধারণত অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসে চারা লাগানোর উত্তম সময়।চারা রোপণের পর থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রায় ৬ মাস পর গাছের পাতা ব্যবহার উপযোগী হয়। বছরের শীত মৌসুম বাদে অন্য সময়ে গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করা যায়।ঘৃতকুমা’রীর ঔষধিগুণঘৃতকুমা’রীর ব্যবহার ও ভেষজ গুণাগুণের মধ্যে রয়েছে- প্রসাধন ও ভেষজ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার। এটি জন্ডিস রোগের মহৌষধ। সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া যায়।শরীর ঠাণ্ডা রাখার জন্য শরবতে ব্যবহার করা হয়। ময়েশ্চারাইজিং লোশন তৈরি হয়। পুড়ে যাওয়া স্থানে লাগালে আরাম পাওয়া যায়।শরীরের শক্তি বৃদ্ধি ও ওজন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। চামড়ার মেছতা দূর করতে সহায়ক, একজিমা ও চুলকানিতে উপকার পাওয়া যায়।লেখক: প্রকৃতিবিষয়ক লেখক ও কৃষিবিদ।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *