জাবি শিক্ষকের সঙ্গীতযাত্রা

 
প্রকাশিত: 07/26/2021 at 10:27 am

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সানিয়াত সাত্তার এতদিন পুরোদস্তুর একজন শিক্ষক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু শিক্ষকতার পাশাপাশি একজন সংগীতশিল্পী হিসেবেও রয়েছে তার সফল পদচারণা।

ছোটবেলায় ফিনল্যান্ডে কাটানো সানিয়াতের সংগীত জগতের হাতছানি ঘটে চার বছর বয়সে ফিনল্যান্ডের বিখ্যাত কঞ্জারভেটরীয় মিউজিক একাডেমিতে বেহালা শেখার মধ্য দিয়ে। দেশে ফিরে তিনি শিশু একাডেমি ও ওস্তাদ ধীরেন্দ্র চন্দ্র বর্মণের কাছে গানের তালিম নেন। এরপর পড়ালেখা ও চাকরি জীবনের ব্যস্ততার কারণে সংগীতে বিরতি ঘটে তার।

২০০৭ সালে যখন তিনি পিএইচডি উপলক্ষে জাপান যান তখন জাপানি ঐতিহ্যবাহী ‘এনকা’ গান তাকে আকৃষ্ট করে। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষণাকালীন কয়েকজন উদ্যমী অস্ট্রেলীয় শিল্পীর সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। তাদের সঙ্গে কাজ, প্রশিক্ষণ ও উৎসাহে ইডিএম, টেকনো, ইলেক্ট্রোপপসহ অন্যান্য ইলেট্রনিক ধারার সঙ্গীতে তার হাতেখড়ি ঘটে। সেই থেকেই শুরু। এরপর শিক্ষকতার পাশাপাশি সানিয়াত সঙ্গীতে মনোযোগ দেন এবং সুর তৈরির পর তাতে নিজেই কথা লিখে, কণ্ঠ দিয়ে তৈরি করতে থাকেন একের পর এক গান। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ‘শ্লাগার’ ধারার সুর, জাপানি ‘এনকা’ সুর ও দেশীয় সুরের সমন্বয় ঘটিয়ে ফিউশন তৈরি করেন তিনি।

তার প্রথম অ্যালবাম ‘ইলেক্ট্রোওয়ার্ল্ড’ আইটুন্সসহ অন্যান্য সব আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে মুক্তি পায় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে, যা বিশ্বের অনেক সঙ্গীতবোদ্ধার মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশের গীতিকার অনুরূপ আইচের কথায় ও সানিয়াত সাত্তারের সুরে একটি একক গান মুক্তি পায় আন্তর্জাতিক বাজারে।

এ গান প্রসঙ্গে সানিয়াত বলেন, অনুরূপ ভাই দেশের একজন স্বনামধন্য গীতিকার। ঘটনা চক্রে তার সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে। ‘লাভ ব্লাইন্ডেড’ নামের গানটি আমি চেষ্টা করেছি ইডিএম আদলে তৈরি করতে। সঙ্গে হিপহপেরও কিছু কাজ আছে।

পাঁচ ভাষায় পারদর্শী সানিয়াত ইংরেজি ভাষায় গান করা প্রসঙ্গে বলেন, আমার ইংরেজিতেই বেশি গান করা হয়, কিন্তু আমি বাংলায়ও গান করি। ছোটবেলায় আমার বাংলা ভাষার দক্ষতা ভালো ছিল না বলে হয়তো এখনো একটু অস্বস্তি কাজ করে, কিন্তু আমি বাংলায় গান শিখেছি- রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল গীতি, পুরনো দিনের বাংলা ছবির গান আমার অসম্ভব প্রিয়। ইচ্ছে আছে বাংলা গান নিয়ে আরও কাজ করব। এছাড়া আমি ফিনিশ আর জাপানি ভাষাতেও গান করেছি।

এই শিল্পী সামনের সময়গুলোতে আরও কিছু এক্সপেরিমেন্টাল কাজ করার পরিকল্পনাও করছেন বলে জানিয়েছেন যুগান্তরকে।

 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন । আজই পাঠিয়ে দিন - write@sarabangla.in