নিজের গ্রামে কেউই তাঁকে খেলায় নিতে চাইত না। এমনকি মারধর খেতেন নিজ ভাইদের কাছেও। সেই ফখর জামান এখন রীতিমতো নায়ক বনে গেছেন পাকিস্তানে। সব জায়গাতেই পাচ্ছেন বীরের সম্মান। পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জেতানোর পেছনে যে বড় ভূমিকা রেখেছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ফাইনালে তাঁর দারুণ এক শতরানের ইনিংসে ভর করেই পাকিস্তান হারিয়েছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে। মেতে উঠেছিল শিরোপাজয়ের উল্লাসে।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা জিতে দেশে ফেরার পর পাকিস্তানের সব খেলোয়াড়ই পেয়েছেন বীরোচিত সম্মান। ফখর জামান যেন পাচ্ছেন আরেকটু বেশিই। উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে নিজের ছোট্ট শহরে পৌঁছানোর পর সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ফখরের সঙ্গে সেলফি তোলার জন্য। এত কিছু যে ঘটে যাবে, সেটা নাকি শিরোপা জয়ের সময়ও ভাবেননি ফখর। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘এত কিছু আমি ভাবতেই পারিনি। এখানে আসার পর সবাই আমার কাছে আসা শুরু করেছে। সবাই আমাকে খুব সম্মান দিচ্ছে। এখন মনে হচ্ছে আমি বীরের মতো কিছু একটা করেছি।’

অথচ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলাই নিশ্চিত ছিল না ফখরের। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামারই সুযোগ হয়নি তাঁর। সেই ম্যাচে আহমেদ শেহজাদ ভালো নৈপুণ্য দেখাতে না পারায় ভাগ্য খুলেছিল ফখরের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচেই হয়ে যায় তাঁর ওয়ানডে অভিষেক। সুযোগ পেয়ে ফখর খেলে ফেলেন ৩১ রানের ঝড়ো একটি ইনিংস। পরের দুই ম্যাচে করেন অর্ধশতক। আর ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে অসাধারণ এক শতরানের ইনিংস খেলে মুখ্য ভূমিকা রাখেন পাকিস্তানের শিরোপাজয়ের পেছনে।

ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট খেলা খুব পছন্দ করলেও ফখর কখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার কথা ভাবেননি। যোগ দিয়েছিলেন সেনাবাহিনীতে। হতে চেয়েছিলেন নৌবাহিনীর কমান্ডো। সেনাবাহিনীতে থাকার সময়ই তাঁর ব্যাটিং চোখে লেগে গিয়েছিল কোচ নাজিম খানের। তাঁর পরামর্শেই ক্রিকেটে মনোযোগ দিয়েছিলেন ফখর। ঘরোয়া ক্রিকেট ও পাকিস্তান সুপার লিগে ভালো নৈপুণ্য দেখিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই নজর কেড়েছিলেন পাকিস্তানের নির্বাচকদের।

(Why?)

Comments

comments