Manikgonj news

দেওয়ান আবুল বাশার, স্টাফ রিপোর্টর : সড়ক মহাসড়কে ইঞ্জিনচালিত নছিমন, করিমন, ট্রলি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মানিকগঞ্জে প্রশাসনের সামনে দিয়েই প্রতিনিয়ত চলছে ভয়ঙ্কর মরণ ফাঁদ ইঞ্জিনচালিত এসব অবৈধ যানবাহন। নিয়ন্ত্রণহীন ফিটনেসবিহীন এসব যানবাহন সড়কে প্রতিনিয়ত নানা দূর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মানিকগঞ্জ শহরের সব অলি গলিতে অবাধে চলছে ইঞ্জিনচালিত নছিমন, করিমন, ট্রলিসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ গাড়ি। মানিকগঞ্জ শহরের বেউথা, দুধবাজার, খালপাড়, বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়মিত প্রকাশ্যে এসব অবৈধ ইঞ্জিনচালিত যানবাহন চলাচল করলেও প্রশাসনিকভাবে এসব গাড়ির বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এদিকে পরপর কয়েকটি দূর্ঘটনা ও মৃত্যু ভাবিয়ে তুলছে সচেতন মহলকে।

বিশেষ করে মাহিন্দ্রা, নছিমন, করিমন, ভটভটি ও ভ্যানগাড়ি দিয়ে মাটি, গাছের গুঁড়ি, ইট রডসহ বিভিন্ন মালামাল ও যাত্রী নিয়ে নিয়মিত চলাচল করছে সড়ক-মহাসড়কে। এসব গাড়ির অদক্ষ চালকের কারণে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় নানা ধরনের দুর্ঘটনা। এছাড়া এসব অবৈধ যানবাহনের বিকট শব্দের কারণে হচ্ছে ভয়াবহ শব্দদূষণ। ফলে পথচারীসহ জনসাধারণকে সার্বক্ষণিক আতংকের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে।

জানা যায়, কৃষিকাজের জন্য ভর্তুকি দিয়ে বিদেশ থেকে ট্রাক্টর আমদানি করা হয়। আমদানিকারকরা অধিক মুনাফার আশায় এসব ট্রাক্টর বিক্রি করে ইটভাটার মালিক, মাটি, বালু, কাঠ ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকসহ সাধারণ পরিবহন ব্যবসায়ীদের কাছে। ওইসব ব্যবসায়ীরা ট্রাক্টরের পিছনে ট্রলির বডি লাগিয়ে মহাসড়কে মালামাল পরিবহনের কাজে ব্যবহার করছে। জেলায় অবৈধ এসব ট্রলি-ট্রাক্টরের সংখ্যা কত সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কারও কাছে সঠিক  কোনো তথ্য নেই।

তবে জেলাজুড়ে শত শত ট্রলি-ট্রাক্টর মহাসড়ক থেকে শুরু করে গ্রামের রাস্তাগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে অবৈধ ট্রলি জেলার বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে। একটি চক্র ট্রাফিক পুলিশের সাথে যোগাযোগ রেখে এসব অবৈধ যান চলাচলে সহযোগিতা করে। এসব ট্রলি-ট্রাক্টর থেকে প্রত্যেকটির জন্য মালিকের কাছ থেকে ৫ শত থেকে ১ হাজার টাকা মাসোহারা আদায় করা হয়। মাসোহারা না দিলেই বিভিন্নভাবে তাদের হয়রানি করা হয়।

অবৈধ এসব গাড়ির বিষয়ে, জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর(টিআই) আবুল হোসেন গাজী জানান, এসব অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হচ্ছে ও ডাম্পিং করা হচ্ছে। অবৈধ যান চলাচল বন্ধে অভিযান অব্যাহত আছে।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ভাস্কর সাহা বলেন, এসব অবৈধ যানবাহন চলাচলের কোন সুযোগ নেই। প্রতিনিয়তই এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা হচ্ছে।

Comments

comments