যেভাবে বুঝবেন আপনি টনসিল ইনফেকশনে ভুগছেন

যে কোনও বয়সী মানুষেরই টনসিলে ইনফেকশন হতে পারে। ঘনঘন গলাব্যথা হওয়া, খাবার খেতে অনীহা, জ্বর ইত্যাদি হলো টনসিলে ইনফেকশনের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।টনসিল মূলত আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি অংশ। মানুষের মুখের ভেতর চারটি গ্রুপে এটি অবস্থান করে। লি’ঙ্গুয়াল, প্যালাটাইন, টিউবাল ও অ্যাডেনয়েড এই টনসিলগুলোর কোনো একটির প্রদাহ হলেই তাকে বলে টনসিলাইটিস।টনসিল ইনফেকশনের উপসর্গ: ১. ঘন ঘন গলাব্যথা ও সঙ্গে জ্বর। সাধারণত গলাব্যথার সঙ্গে জ্বর থাকে, যা অনেক সময় ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত হতে পারে। ২. টনসিলে ইনফেকশন হলে এটি আকারে বড় হয়ে যায় এবং শ্বা’সের রাস্তা ও খাদ্যগ্রহণের পথ বাধাগ্রস্ত হয়।৩. এডেনয়েড গ্রন্থি বড় হলে ঘনঘন সর্দি-কাশি ও ঠাণ্ডায় ভোগে এবং ঠাণ্ডা সহ’জে সারতে চায় না। কোনও কোনও ক্ষেত্রে শ্বা’সক’ষ্ট এবং রাতের বেলায় কাশিতে ভোগে।৪. শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমতে থাকে এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শরীর ঝুঁ’কিপূর্ণ অবস্থানে উপনীত হবে। এ সময়ে শরীরের ভেতরের জীবন বাঁ’চানোর প্রক্রিয়াগুলো (রিরিক্স মেকানিজম) সক্রিয় হয়ে ওঠে।৫. ঘুমানোর সঙ্গে সঙ্গে নাক ডাকতে শুরু করে। নাক ডা’কা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। শ্বা’সের রাস্তা ক্রমাগত ছোট হতে হতে যখন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়; তখন শ্বা’স নেয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখে। এ পর্যায়ে শরীরের জন্য মা’রাত্মক হু’মকিস্বরূপ। ৬. কানের ভেতর ঘন ঘন ইনফেকশন বা কানের ভেতর লম্বা সময় পুঁজ পানি জমা থাকার ফলে কানের পর্দাগুলো ক্ষতিসাধিত হয় এবং একসময় পর্দা সম্পূর্ণরূপে ছিদ্র হয়ে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কান পাকা রোগ এবং শ্রবণের সমস্যা এভাবে শুরু হয়ে থাকে।৭. গলা বা নাকের প্রদাহ কানের ভেতর চলে যায়। ফলে কানের মধ্যে ঘন ঘন ব্যথা হয় এবং কানে কম শোনে। অনেক সময় ব্যথা ছাড়াও কানের মধ্যে পুঁজ বা পানি জমতে পারে।৮. টনসিলে ঘনঘন ইনফেকশন থেকে বাতজ্বর (রিউম্যাটিক ফিভা’র) হতে পরে। এ রোগের ফলে হার্টের এবং কিডনির মা’রাত্মক ক্ষতি-সাধিত হতে পারে। অল্প বয়সে হার্টের বাল্ব নষ্ট হয়ে যাওয়া বা কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ার (কিডনি ফেইলিওরের) অন্যতম প্রধান কারণ বাতজ্বর, যা টনসিলে ইনফেকশন থেকেই হয়ে থাকে।টনসিলের এসব উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই নিকটস্থ চিকিৎসকের পরাম’র্শ নিতে হবে।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *