করো’না‍ভাই’রাসের ভ’য়হতার মধ্যেই দেখতে দেখতে চলে এসেছে রমজান মাস। আর রহমতময় এ মাসে নিজেকে সুস্থ ও কাজ করার মতো সবল রাখতে চাইলে সেহরি ও ইফতারে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। আর এ জন্য কিছু বিষয় মেনে চলার পরাম’র্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।এ প্রসঙ্গে পুষ্টিবিদরা বলছেন, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর সেহরি ও ইফতারে খাদ্য দ্রব্য বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। এ সময় জীবনযাপনে কিছুটা পরিবর্তন আসে, পরিবর্তন আসে নিয়মিত কাজের ধরনেও।রোজায় একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ স্বাস্থ্য ঠিক রেখে কী’ভাবে রোজা করবেন বা রোজার সময় কোন ধরনের খাদ্য দ্রব্য বেশি নেয়া উচিত তা জানা প্রয়োজন।এ বিষয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক গো’লাম মা’ওলা বলেন, অ’তিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম থেকে যেমন বিরত থাকতে হবে, তেমনি সহ’জে হ’জম হয় এমন খাবার খেতে হবে। তবে তার মতে, কোনোভাবেই বেশি খাওয়া যাবে না।পুষ্টিবিদ অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলছেন, রোজার পানি জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। তবে এর মধ্য বিশুদ্ধ পানি ও ফলের রসই বেশি কাজে লাগে। তিনি বলেন, ইফতারে ঘরে তৈরি খাবারই সবচেয়ে নিরাপদ। বেশি তেলে ভাজা বাজারের ইফতার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।সংকটপূর্ণ এই সময়ে রোজায় সুস্থ থাকতে পুষ্টিবিদদের ১০ পরাম’র্শ-ভাজা’পো’ড়া খাবার নয়অধ্যাপক গো’লাম মা’ওলার মতে, মাছ ডাল ভাত আদর্শ খাবার। ভোররাতে গরুর মাংস এড়িয়ে মুরগী খেলে ভালো হবে। তবে শাকসবজি ও ডাল শরীরের জন্য ভালো হবে।খাদ্য তালিকায় কী’ থাকবে?পানি, ফল, চিড়া, রুটি, ভাত, সবজি, ডাল, ডিম, হালকা খিচুড়ি খাওয়া যেতে পারে। এসব খাবার শরীরে শক্তি বাড়ায়।সতর্ক হয়ে খেতে হবেঅধ্যাপক গো’লাম মা’ওলা বলছেন, মাঝেমধ্যে ইফতারির পর হালকা কম তেলযু’ক্ত তেহারি খাওয়া মন্দ না।নিয়মিত খাবারকে গুরুত্ব দিতে হবেএ ব্যাপারে পুষ্টিবিদ নাজমা শাহীন বলছেন, নিয়মিত যেসব খাবার খান রোজার সময়েই সেগুলোই তার জন্য যথেষ্ট। তবে সারাদিন রোজা পালন শেষে পানি খেতে হবে পর্যাপ্ত।শারীরিক পরিশ্রম কমানো ও শান্ত থাকারোজার সময় অ’তিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম গো’লাম মা’ওলা বলছেন, একেবারে অলস থাকাও যেমন ক্ষতিকর তেমনি অ’তিরিক্ত পরিশ্রমও ক্ষতিকর হবে।সহ’জে যাতে হ’জম হয়অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলছেন, রোজা পালনকারী ব্যক্তিকে বুঝতে হবে কোন খাবারগুলো সহ’জে হ’জম হয়। এসব খাবারকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। যেসব খাবার হ’জমে সমস্যা করে সেগুলো না খাওয়াই ভালো।একবারে বেশি খাবার থেকে বিরত থাকাঅধ্যাপক গো’লাম মা’ওলা বলছেন, অ’তিরিক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। ফল ও সবজি দিয়ে পরিমাণ মতো ইফতার করা যেতে পারে।খাবার কিভাবে খাবেন?গো’লাম মা’ওলা ও নাজমা শাহীন দুজনই বলছেন, ধীরে ভালো করে চিবিয়ে খেতে হবে। ইফতারির শুরুতেই পানি শরীরের জন্য উপকারী। পাশাপাশি খেজুর খেতে হবে। যা শরীরে শক্তি যোগান দেবে।স্যুপ হতে পারে দারুণ খাবাররোজার সময় সারাদিন পর স্যুপ শরীরকে সতেজ রাখে ও হ’জম প্রক্রিয়া ঠিক রাখে। অধ্যাপক গো’লাম মা’ওলা বলেন, শাক সবজি, বাঁ’ধাকপি বাদ দিয়ে ফুলকপির স্যুপ বা লেটুস পাতার স্যুপ অনেক উপকারী। লেটুস পাতায় কোনো গ্যাস হয় না।খাবার ও জীবনাচরণ ঠিক রাখাঅধ্যাপক গো’লাম মা’ওলা বলছেন, শুধু খাবারই নয় বরং এর পাশাপাশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম। ইফতারের পর বা সেহরির পর ধূমপান থেকেও বিরত থাকা উচিত।ওষুধ সেবনযারা দুর্বলতা, ক্লান্তি, অ্যাসিটিডি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা কিডনি জটিলতায় ভুগছেন তাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। অধ্যাপক গো’লাম মা’ওলা ও অধ্যাপক নাজমা শাহীন দুজনই এসব বিষয়ে চিকিৎসকের পরাম’র্শকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়ার পরাম’র্শ দিয়েছেন।

Comments

comments