র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে কেন ঢাবি, যা বললেন আরেফিন সিদ্দিক

 
প্রকাশিত: 07/17/2021 at 9:28 am

সারাবিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও প্রভাবশালী তিনটি র‌্যাংকিং হলো— কুয়াককুয়ারলি সিমন্ডস বা কিউএস, টাইমস হায়ার এডুকেশন এবং সাংহাই র‌্যাংকিং কনসালট্যান্সি, যেটি একাডেমিক র‌্যাংকিং অব ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিজ নামেও পরিচিত। কিউএস একটি লন্ডনভিত্তিক র‌্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, যেটিকে বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ের মানদণ্ড হিসাবে ব্যাপকভাবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

কিউএস ২০০৪ সালে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং প্রকাশ শুরু করে। এর পর তারা ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো এশিয়ান ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং প্রকাশ করে। এ ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৫ নভেম্বর এশিয়ান ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ২০২০-২১ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বছরের ওই তালিকায় এশিয়ার ৬৫০ বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে।

এতে এশিয়ার সেরা একশর মধ্যে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা করে নিতে পারেনি। ১৩৪ ও ১৯৯ নম্বর অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট।

চলতি বছরের ৯ জুন কিউএস বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে— গত বছরের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের কোনো উন্নতি হয়নি। বৈশ্বিক এ র‌্যাংকিংয়ে ৮০০-এর মধ্যে নেই দেশসেরা এ দুই বিদ্যাপিঠ। উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৮০১-১০০০-এর স্তরে।

অথচ ২০১২ সালেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৬০১-এর স্তরে ছিল, যেখান থেকে ২০১৪ সালে এর অবনমন ঘটে ৭০১-এর স্তরে, ২০১৯-এ আরও অবনমন ঘটে। বর্তমানে বিশ্বসেরা ৮০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও নাম নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।

এর কারণ নিয়ে সুলোক সন্ধানে জানা গেছে, কিউএস র‌্যাংকিংয়ে ছয়টি সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মান নিরূপণ করা হয়। এগুলো হলো— প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম, চাকরির বাজারে সুনাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, শিক্ষকপ্রতি গবেষণা-উদ্ধৃতি (সাইটেশনস পার ফ্যাকাল্টি), আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত (ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাকাল্টি রেশিও) ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাত (ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট রেশিও)।

ছয়টি সূচকের মোট স্কোর ১০০। এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সুনামে ৪০, চাকরির বাজারে সুনামে ১০, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে ২০, শিক্ষকদের গবেষণার উদ্ধৃতিতে ২০ এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাতের প্রতিটিতে ৫ করে স্কোর থাকে।

তবে তালিকায় ৫০০-এর পর থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান সুনির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেনি কিউএস। স্বভাবতই তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৮০০-এরও পরে; তাই স্কোর জানা যায়নি।

শুধু যে কিউএসের র‌্যাংকিংকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে এমনটি ভাবার কারণ নেই। লন্ডনভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন প্রতি বছর বিশ্বের বিশ্ব্যবিদ্যালয়গুলোর যে র‌্যাংকিং প্রকাশ করে, তাতে দেশের প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এক হাজারেরও পরে।

অথচ গত শতাব্দীর বিশ ও ত্রিশের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ বলা হতো। যারা এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই ব্রিটিশ শাসকরাই একে ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ বলতেন। কেননা কলকাতা, মাদ্রাজ ও বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একদম স্বতন্ত্রভাবে গড়ে তোলা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে। লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে আবাসিক ও টিউটোরিয়াল পদ্ধতিসহ পূর্ববঙ্গের ঢাকায় এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

বাজেটের স্বল্পতা, গবেষণায় পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাব, শিক্ষক নিয়োগের স্বজনপ্রীতি-দুর্নীতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধের অভাব এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন ও উচ্চতর জ্ঞান সৃষ্টির প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যা যা প্রয়োজন তা উপলব্ধিতে নীতিনির্ধারকদের উপলব্ধির ঘাটতি হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈন্যদশার মূল কারণ।

র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছিয়ে পড়ার কারণ নিয়ে এমনটিই জানালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

যুগান্তরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি কীভাবে র‌্যাংকিংয়ে এগোনো যাবে সে বিষয়েও সুচিন্তিত মত দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো—

প্রশ্ন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ পার করল। দীর্ঘ এই সময়েও বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের তলানিতে দেশসেরা এ বিদ্যাপীঠ। একজন সাবেক ভিসি ও শিক্ষাবিদ হিসেবে আপনার কাছে এর কারণ জানতে চাই?

আরেফিন সিদ্দিক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অনেক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় জড়িয়ে আছে। এটি এই অঞ্চলের শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না হলে এই উপমহাদেশে শিক্ষার এতটা বিস্তার হতো না।

এটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একশ বছর পার করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটির বহু অর্জনের পরও একে ঘিরে অতৃপ্তিও কম নয়। সেই অতৃপ্তির একটি হচ্ছে র‌্যাংকিং। এটি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, আমরা বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে পেছনে পড়ে আছি। একটা সময় তো বিশ্বের সেরা ৪০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এখন আমরা সেখান থেকে পিছিয়ে পড়েছি। বেশ কিছু সূচক বিবেচনায় নিয়ে র‌্যাংকিং করা হয়। সেই সূচকগুলোতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালগুলোর তুলনায় আমরা পিছিয়ে আছি।

এ ছাড়া শিক্ষায় নৈতিক মূল্যবোধ, বাজেটের অপ্রতুলতা, শিক্ষায় বিনিয়োগের অভাব, গ্রন্থাগার ফেসিলিটিজের সীমাবদ্ধতা এবং গবেষণায় উন্নতি করতে না পারাও র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকার কারণ।

 

প্রশ্ন: কোন কোন সূচকে আমরা পিছিয়ে আছি বলে আপনি মনে করেন?

আরেফিন সিদ্দিক: প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম, চাকরির বাজারে সুনাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, শিক্ষকপ্রতি গবেষণা-উদ্ধৃতি, আন্তর্জাতিক শিক্ষক অনুপাত ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী অনুপাত-মোটাদাগে এই সূচকগুলোই দেখা হয় র‌্যাংকিং করার সময়।

এর মধ্যে আমরা সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে আছি গবেষণায়। গবেষণায় আমাদের বাজেট অপ্রতুল। বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় বড় বাজেট দেয়। গবেষকদের প্রণোদনা দেয়। আমাদের দেশের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সেভাবে গবেষণা হয় না।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশের শিক্ষার্থীর তুলনামূলক কম। শিক্ষার্থীর অনুপাতে শিক্ষকের সংখ্যাও কম। শিক্ষা কারিকুলামেও পরিবর্তন আনা দরকার।

প্রশ্ন: শিক্ষা-গবেষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিন দিন পেছাচ্ছে না এগোচ্ছে?

আরেফিন সিদ্দিক: আমার দৃষ্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিন দিন ভালো করছে। এখানে শুধু র‌্যাংকিং দেখলে হবে না। শিক্ষার মান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব এসব দিক থেকে আমরা বহু এগিয়েছি।

আমাদের শিক্ষার্থীরা অক্সফোর্ড-হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে প্রতিযোগিতা করে সফল হচ্ছে। মেধার জোরেই এটা হচ্ছে। তাদের সেই মেধা বিকাশের সুযোগ করে দিতে হবে।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত। এটি আমাদের জন্য গর্বের। এটি ভবিষ্যতে আমাদের র‌্যাংকিংয়ে এগোতে সহায়তা করবে বলে আমার বিশ্বাস।

প্রশ্ন: শিক্ষকদের সততা ও মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনো শিক্ষকের গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির ঘটনাও ঘটছে…

আরেফিন সিদ্দিক: শিক্ষকতা মহান পেশা। শিক্ষকরা পড়াবেন, এটিই তার দায়িত্ব নন। একজন শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা অনুস্মরণ করে থাকেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে গবেষণা চুরির অভিযোগ মোটেও ভালো নজির নয়। পরীক্ষার ফল দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। তার মনুষত্ববোধ, দায়িত্ববোধও দেখতে হবে। শিক্ষকই যদি সৎ না হন তিনি সততার কী শিক্ষা দেবেন। ব্যক্তিস্বার্থ, দলীয় স্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ দেখে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈতিক শিক্ষার অভাবও লক্ষণীয়। আমরা নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষা দিতে পারছি না বলেই তো উচ্চশিক্ষিতরা দুর্নীতিতে জড়াচ্ছে। মৌলিক শিক্ষায় নৈতিকতা দিতে পারছি না বলেই তো প্রতিদিন গণমাধ্যমে দুর্নীতির খবর পাই। এগুলো যারা করছে তাদের বেশিরভাগই তো উচ্চশিক্ষিত। এতে বোঝা যায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নিয়েও অনেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে।

প্রশ্ন: বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে এগোতে হলে কী করতে হবে?

আরেফিন সিদ্দিক: মোটা দাগে বলতে গেলে আমাদের শিক্ষার কারিকুলাম যুগোপযোগী করতে হবে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিল রেখে সিলেবাস প্রণয়ন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট আপডেট রাখতে হবে যেন বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে ওয়েবসাইটে ঢুকলে আমাদের অর্জনগুলো সম্পর্কে জানতে পারে।

এ ছাড়া সূচকগুলোর দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। যেসব সূচকে আমরা পিছিয়ে সেগুলোতে উন্নতি করতে হবে।

একটি বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এবং র‌্যাংকিংয়ে এগোতে হলে এখানকার সব সীমাবদ্ধতা দূর করতে হবে। শিক্ষা-গবেষণায় বাজেট স্বল্পতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সীমাবদ্ধতা। এটি দূর করতে হবে। আমাদের পর স্বাধীন হয়েছে, এমন দেশ আজ উচ্চশিক্ষায় যে পরিমাণ বরাদ্দ দিচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ সেই তুলনায়ও অনেক কম।

শিক্ষকদের মূল্যবোধ, মেধা, সততা বাড়াতে হবে। যেটি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দেবে। ভালো মানের শিক্ষক বাড়াতে হবে। গবেষণায় আরও জোর দিতে হবে, এ জায়গায় আমরা পিছিয়ে। এছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থী বাড়াতে হবে। তাদের থাকা খাওয়া গবেষণার সুবিধা বাড়াতে হবে।

৪০ বছর ধরে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমার পর্যবেক্ষণ, মেধাবীরাই এখানে পড়তে আসে। তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বগুণ, সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, মূল্যবোধের বিস্তার ঘটাতে হবে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-গবেষণায় বিচরণের জায়গা বিস্তৃত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পূর্ণ মনুষত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটা কথা বলেছেন— ‘মনুষত্বের বিকাশই শিক্ষার একমাত্র লক্ষ্য’। এটি নিশ্চিত করতে পারলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যুগ যুগ স্বমহিমায় টিকে থাকবে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন । আজই পাঠিয়ে দিন - write@sarabangla.in