shazadpur

রাজিব আহমেদ রাসেল, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আখি খাতুন (২০) নামের এক গৃহবধুকে নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করেছে পরিবারের লোকজন। নিহত আখি খাতুন পাবনা জেলার সাথিয়া উপজেলার সোনাতলা মধ্যপাড়ার আশরাফুল ইসলামের মেয়ে।

জানা যায়, রবিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামের মোহাম্মদ মেকারের ছেলে রিক্সার মিস্ত্রী মোঃ মামুন (২৫) মেকারের ঘর থেকে দীর্ঘ সময় তার শিশু কন্যা মুসকানের কান্নার শব্দ প্রতিবেশীরা শুনতে পায়। পরে তারা জানালা দিয়ে উকি দিয়ে মামুনের স্ত্রী আখি খাতুনের লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। তখন বাড়িতে কোন লোকজন ছিল না।

পরে এলাকাবাসী শাহজাদপুর থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে শাহজাদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাহমিদা হক শেলী ও শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।পরে স্থানীয়দের সহায়তার পুলিশ দরজা খুলে আখি খাতুনের লাশ নামায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাহমিদা হক শেলী উপস্থিত থেকে লাশের সুরতহাল করেন। এসময় আখি খাতুনের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। নিহত আখি খাতুনের পিতা মোঃ আশরাফুল ইসলাম ও মা রাজিয়া খাতুন জানায়, প্রায় আড়াই বছর পূর্বে মামুনের সাথে আখির পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।

তাদের ঘরে এক বছর বয়সী মুসকান নামক একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তারা আরো জানায়, বিয়ের পর থেকেই মামুন তুচ্ছ কারনে তাদের মেয়ে আখিকে প্রায়ই নির্যাতন করতো। বেশ কয়েকদিন আগে মামুন আখির হাতের কয়েকটি স্থানে আঘাত করে রক্তাক্ত করে।

আজ সকালেও আখিকে মারধর করা হয়েছে। আখিকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে মামুন সহ পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায় বলে তারা অভিযোগ করেন। এসময় সংবাদ সংগ্রহে যাওযা বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে পোতাজিয়া প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদন কারী সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ ওয়াজ আলী দুর্ব্যবহার করে।

শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদ মাহমুদ খান জানান, লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার ময়না তদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়েরের পক্রিয়া চলছে।

Comments

comments