শিশুর তৎপরতায় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল Canning Local

 
প্রকাশিত: 08/03/2021 at 12:22 pm

দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রের উপস্থিত বুদ্ধিতে বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল শিয়ালদহগামী ক্যানিং লোকাল। লাইনে ফাটল দেখে বছর সাতেকের দীপ নস্কর ছুটে যায় বাড়িতে। খবর দেয় মাকে। মা সোনালী নস্কর বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পেরে প্রতিবেশী মহিলাদের খবর দেন। তারাই বাড়ি থেকে লাল কাপড় এনে লাইনের উপর উঠে পড়েন। সেই সময় হর্ন দিয়ে এগিয়ে আসছিল শিয়ালদহগামী ক্যানিং স্টাফ স্পেশ্যাল ট্রেন। তা দেখে বিপদের আশঙ্কায় ট্রেন থামান চালক।

ট্রেন থামার এলাকাবাসী গিয়ে বিদ্যাধরপুরের বুকিং সুপারভাইজারকে খবর দেন। এরপর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মীরা এসে লাইন মেরামতির কাজ শুরু করেন। প্রায় চল্লিশ মিনিট পর ট্রেনটি আবার যাত্রা শুরু করে। শিয়ালদহের ডিআরএম এসপি সিং প্রথম খবর পান ‘সংবাদ প্রতিদিন’ থেকে। তিনি বলেন, “লাইনে আগের থেকে ওয়েলডিং ছিল। তা খুলে যাওয়ায় বিপদের শঙ্কা ছিল। ওই শিশু বিষয়টি জানানোয় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় ট্রেনটি। আমি শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে কর্মীদের বলেছি। আমার হাতে যে ক্ষমতা রয়েছে তাতে হাজার পাঁচেক টাকা দিয়ে তাকে পুরস্কৃত করবে। এটা বড় কাজ। শিশুটিকে উৎসাহ দিতে রেলের এই উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

পূর্ব রেল জানিয়েছে, সোমবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ স্থানীয় মুকুন্দপুরের বাসিন্দাদের চেষ্টায় বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যায় আপ ক্যানিং লোকাল। তাও সম্ভব হয়েছে একটি শিশুর জন্য। এদিন বছর সাতেকের দীপ নস্কর রেল লাইনের ধারে খেলার সময় লক্ষ্য করে লাইনের উপর একটি বড়সড় ফাটল তৈরি হয়েছে। ওই ছাত্রটি শুনেছে লাইনে ফাটল থাকলে ট্রেন উলটে যেতে পারে। সেই আশঙ্কায় বাড়িতে গিয়ে তার মাকে প্রথম খবর দেয়। মা ছুটে এসে দেখেন আপ লাইনে একটি বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। একটা পাত আরেকটির ওপর উঠে বিপজ্জনক হয়ে রয়েছে। মা সোনালী নস্কর সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের মহিলাদের জড়ো করে লাল কাপড় নিয়ে লাইনে উঠে পড়েন। ঠিক তখনই কালিকাপুরের দিক থেকে ট্রেন ছেড়ে আসছিল। লাইনের উপরে মহিলাদের দেখে হর্ন দিতে শুরু করেন চালক। মহিলারা চালকের উদ্দেশ্যে লাল কাপড় নেড়ে সতর্ক করতে থাকেন। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এসে ট্রেনটি দাঁড়িয়ে যায়। চালকে তারা বিষয়টি জানান। গার্ড নেমে বুঝতে পারেন বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে। এরপর বিদ্যাধরপুরের বুকিং সুপারভাইজারকে বিষয়টি জানানোর পর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মীরা ছুটে আসেন। পরে সোনারপুর জিআরপি এবং আরপিএফের কর্মী এবং অন্যান্য আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে আসেন। আধঘন্টার মধ্যে লাইন মেরামতি হয়ে ট্রেন চলতে শুরু করে।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন । আজই পাঠিয়ে দিন - write@sarabangla.in