Sirajdikha News

মোঃ রুবেল ইসলাম তাহমিদ,মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিন দিন বেড়েই চলছে দালাল এবং ঔষুধ কোম্পানীর দৌরাত্ব। ফলে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কমপ্লেক্সে আসা সাধারণ রোগীরা।

উপজেলাবাসীর একমাত্র সরকারী এই হাসপাতালটির সুনামের কথা জানিয়ে সেবা নিতে আসা সংশ্লিষ্টরা বলেন, ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা নাম সর্বস্ব ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পোষ্য দালালদের কারণেই সরকারি এ হাসপাতালের সেবা নিতে পারছে না সাধারণ রোগীরা।

অন্যদিকে স্থানীয়রা মনে করেন, সরকারী হাসপাতালের আশেপাশে গড়ে উঠা ক্লিনিক গুলোর প্রভাবশালী মালিকদের কারণেই  দালালদের বিরুদ্বে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না প্রশাসন।

তাদের ভাষ্যমতে, সাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে জরুরী বিভাগ ছাড়াও অর্থোপেড্রিক্সস, গাইনী ও প্রসূতি, শিশু, মেডিসিন, সার্জারী, প্যাথলজি বিভাগসহ অস্ত্রোপচার কক্ষ থাকার পরও দালাল এবং ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের উৎপাতে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত  উপজেলাবাসী। তারা আরো বলেন, হাসপাতালকে ঘিরে এক ডজনেরও বেশি দালাল চক্র সক্রিয়। কমিশন ভিত্তিতে কাজ করা এসব দালাল চক্রের হোতারা উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে নিরিহ রোগীদের বাগিয়ে নিচ্ছেন ক্লিনিকে। সেখানে ভর্তি ফি হতে শুরু করে রোগ নির্নয়ের জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা ফি থেকে কমিশন সুবিধা নিয়ে নিচ্ছেন চক্রটি।

সেবা নিতে আশা একাধিক রোগী অভিযোগ করে বলেন, এখানে চিকিৎসা নিতে আসলে কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা প্রয়োজন হলে অনেক সময় ডাক্তাররাই প্রাইভেট ক্লিনিকে যাওয়ার জন্য বলে দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, সরকারি হাসপাতালে বেশির ভাগ চিকিৎসক বিভিন্ন ক্লিনিকের ঠিকানা দিয়ে দেন ভাল চিকিৎসা পাওয়ার কথা বলে। এছাড়াও ক্লিনিক থেকে বাড়তি কমিশন পাবার আশায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরিক্ষা নিরীক্ষাও দিয়ে থাকেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। যদি আগে থেকে এ ধরনের দালাল চক্র থেকে থাকে তবে তা একমুহুর্তে বন্ধ করবো।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমি নিজে এ বিষয়ে তদারকি শুরু করেছি। আমার সামনে এখনো কোন দালাল পরেনি।

চিকিৎসক কতৃক রোগিদের ক্লিনিকে পাঠানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে ডা. আঞ্জুমান আরা বলেন, আমি মিটিং করে সকল চিকিৎসকদের বলে দিয়েছি হাসপাতালে আসা রোগীদের অসুবিধা হয় এমন কোন কাজ কেউ করলে আমি কঠোর ভাবে ব্যবস্থা নিব।

Comments

comments