রাজ্য অ্যাথলেটিকস মিটে জোড়া সোনা ছিনিয়ে নিয়েছে মালদার সপ্তমী মণ্ডল। এখন লক্ষ্য রিজিওনাল মিট। স্বপ্ন পূরণের জন্য গত ৬ বছর ধরে ক্রমাগত ছুটছে সপ্তমী। তবে পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াচ্ছে আর্থিক অনটন।

মালদা শহরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তেলিপুকুরে বসবাস সপ্তমী মণ্ডলের। বাবা অমল মণ্ডল পেশায় একজন সবজি বিক্রেতা। মা নন্দরানি মণ্ডল মানসিক ভারসাম্যহীন। সপ্তমীর ভাই সূর্য সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। বোন ঝর্ণা পঞ্চম শ্রেণিতে পাঠরত। অমলবাবু সবজি বিক্রি করে যা আয় করেন তার বেশিরভাগটাই নন্দরানি দেবীর চিকিৎসায় ব্যয় হয়ে যায়। তিন ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচের পড়ে প্রতিদিন দু’বেলা খাবার জোটে না সকলের। এই অভাবের মধ্যেই নিজের স্বপ্নের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সপ্তমী। মিলছে সাফল্যও। ৬৯ তম রাজ্য অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে অনূর্ধ্ব ২০ বছর বিভাগে ১০ হাজার মিটার রেস ওয়াকিং ও ৫ হাজার মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় জোড়া সোনা ছিনিয়ে নিয়েছে সপ্তমী।

সপ্তমীর প্রশিক্ষক মানসকুমার রায়বর্মণ জানান, দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার মতো যোগ্যতা রয়েছে সপ্তমীর। তবে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্থিক সমস্যা। যে কোনও ধরণের খেলাধুলোর জন্য পুষ্টিকর খাদ্যের দরকার। কিন্তু পুষ্টিকর খাদ্য দূরের কথা প্রতিদিন দুবেলা ঠিকমতো খাবার জোটে না সপ্তমীর। শুধু তাই নয়, প্র্যাকটিসের জন্য নিজের কিটও নেই তার। অন্যের সাহায্যেই চলছে। সরকারি সাহায্য পেলে সপ্তমী আরও এগিয়ে যেতে পারবে।

Comments

comments