এই সময়: নো ভোট। নো ওয়ার্ক। না, এটা কোনও শ্লোগান নয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া বুলিও নয়। মঙ্গলবার দুবরাজপুর রবীন্দ্রসদনে বুথকর্মী সম্মেলনে কার্যত এই সুর শোনা গিয়েছে চড়াম চড়াম বোল-এর প্রবক্তা কেষ্ট ওরফে অনুব্রত মণ্ডলের গলায়। ফলে তাঁর বেলাগাম বক্তব্যে জলঘোলা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এ দিন দুবরাজপুরে দলীয় কর্মীদের ফতোয়া দিয়ে তিনি বলেন, ‘যে এলাকা থেকে ভোট পাওয়া যায়নি সেই এলাকায় কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করা যাবে না।’এ দিন খয়রাশোলের নাগরাকোন্দা বুথে গত লোকসভা নির্বাচনের বিজেপি ও তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট নিয়ে কেষ্ট কথা বলছিলেন ৫৬ নম্বর বুথ সভাপতি চন্দ্রশেখর বাগদির সঙ্গে। গত লোকসভায় তৃণমূল ২১৬টি ভোট পেলেও বিজেপি কেন ৪৫১টি ভোট পেয়েছিল, তা জানতে চান তাঁর কাছে। কথোপকথনের সময় বলেন, ‘কাল থেকে কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করা যাবে না ওখানে।’ ওই বুথ সভাপতিকে অনুব্রত জিজ্ঞাসা করেন, ‘ওই এলাকায় তৃণমূলের পিছিয়ে থাকার কারণ কি? কোন পাড়া থেকে ভোট খারাপ হয়েছে?’ চন্দ্রশেখর বাগদি বলেন, ‘ওরা আমাদের সঙ্গে থাকল, খেলো, মিটিং করল কিন্তু আমরা বুঝতে পারলাম না কোথায় যে কী ভুল হয়েছে। ভোট খারাপ হয়েছে মুখার্জি পাড়া থেকে।’ এরপরেই দলের কর্মীদের সামনে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘ওই পাড়ায় কাল থেকে কাজ বন্ধ রাখুন। কোনও কাজ করবেন না। দেখি বিজেপি কাজ করে দেয় কিনা। উন্নয়ন করে দেয় কিনা।’ একটু থেমে ফের বলেন, ‘আমি কি অন্যায় বলছি?’ বুথ সভাপতি বিনয়ের সঙ্গে বলেন, ‘না স্যর, আপনি ঠিকই বলছেন।’ পালে হাওয়া পেয়ে মেজাজ সপ্তমে চড়িয়ে জেলা তৃণমূল সভাপতির মন্তব্য, ‘দেখি দিল্লি থেকে এসে কাজ করে দেয় কিনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাজ করেননি? উন্নয়ন করেননি?’ বুথ সভাপতি ফের বলেন, ‘করেছেন স্যর।’ কেষ্ট বলেন, ‘তাহলে। বিবেকে লাগল না? বিবেক বলে কি কোনও জিনিস নেই? আজ যদি কামু আমার উপকার করে থাকে কাল কামুকে ভুলে যাব? কাল যদি শ্যামল উপকার করে শ্যামলকে ভুলে যাব? কাঞ্চন যদি উপকার করে কাঞ্চনকে ভুলে যাব? এটা কী নীতি। তারপরেও বলবেন কাজ করতে। তারপরেও বলবেন রাস্তা হয়নি।’ বীরভূম জেলা বিজেপি সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকার উন্নয়নের জন্য যে টাকা বরাদ্দ করে সেটা সাধারণ মানুষের। সেটা কারও ব্যক্তিগত নয়। ভোট না পেলে উন্নয়নমূলক কাজ হবে না, এ ধরনের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

Source link

Comments

comments