হাইলাইটসকঙ্কালীতলা, হাঁসুলিবাঁক, শ্রীনিকেতনের নাম তো সকলেই জানে, কিন্তু সোনাঝুরির জঙ্গলের পাশে যে একটা আদিবাসী গ্রাম আছে তার খোঁজ কেউ রাখেন কি?রাজত্ব নেই, তবে ভাঙা রাজবাড়ির পরতে পরতে রয়েছে অজানা ইতিহাসের রহস্য।পাহাড়িয়া সংকীর্ণ পথ, পাইন, সিঙ্কোনা, এলাচ গাছ আর অর্কিডের ছড়াছড়ি এখানে।এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: মুঠো ফোনের অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙার পর থেকেই শহুরে বাঙালির ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়। বাড়ির কাজ সেরেই অফিসের দিকে ছোটা, দিনের শেষে বাড়ি ফিরে ফের কাজে ডুবে যাওয়া। আজকের ইঁদুর দৌড়ের সময়ে শহরের ইট-কাঠ-পাথরের মতোই রুক্ষ জীবনে অভ্যস্ত হতে বাধ্য হয়েছে সে। বাঙালির রোম্যান্টিক মন রোজকার কড়া রুটিনে বাধা পড়েছে। কিন্তু এভাবে তো সবসময় চলতে পারে না। তাই খানিকটা সময় জোগাড় করে মাঝে মাঝে টো টো করার বাতিকটাকেও ঝালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে সে।ছুটি কাটাতে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার রেওয়াজ কলকাতাবাসীর সেই পুরোনোকালের অভ্যাস। কলকাতা বললে অবশ্য ভুল হবে, জেলার সদর শহরে যাঁরা থাকতেন তাঁরাও অবসর যাপনের জন্য নিজের গ্রামের বাড়িকেই বেছে নিতেন। সেই অভ্যাস বাঙালি এখনও বদলাতে পারেনি। কিন্তু যাঁদের গ্রামের বাড়ি নেই তাঁরা কী করবেন? তাঁদের জিনেও যে গ্রামবাসী হওয়ার ইচ্ছেটা মাঝে মাঝে ঘুরে বেড়ায়। তাই তাঁদের জন্য রইল টো টো কোম্পানির তরফে কিছু গ্রামের হদিশ। সপ্তাহান্তে এই গ্রামগুলি থেকে ঘুরে আসলে শরীর মন সব তরতাজা হবে।…ওই রাঙা মাটির পথবোলপুর। বীরভূমের এই গ্রামেটি রবি ঠাকুরের আপন দেশ। আর ঠাকুরও যে বাঙালির আপনার লোক। তাই হয়তো তাঁর প্রিয় শান্তিনিকেতন শহুরে বাঙালির সবচেয়ে প্রিয় বেড়ানোর জায়গা এই শান্তিনিকেতন. জ্যোৎস্নারাতে কোপাই নদীর ধারে বসে রবীন্দ্রসংগীত কিংবা বাউল গানের সুরে মেতে ওঠার আনন্দ এখানে না এলে মেলে না। প্রতি শনিবার এখানকার সোনাঝুরির বনে আদিবাসীদের হাট বসে। হাটের বিক্রেতারা স্থানীয় আদিবাসী, আর ক্রেতারা শহরের মানুষ। শাড়ি, গয়না, পোশাক, পিঠেপুলি, নাড়ু-নিমকি, ঘর সাজানোর জিনির সবই মেলে এখানে। সঙ্গে উপরি পাওনা বাউল গান। বিশ্বভারতী ছাড়াও শান্তিনিকেতনের আসপাশে অনেক ঘোরার জায়গা আছে। কঙ্কালীতলা, হাঁসুলিবাঁক, শ্রীনিকেতনের নাম তো সকলেই জানে, কিন্তু সোনাঝুরির জঙ্গলের পাশে যে একটা আদিবাসী গ্রাম আছে তার খোঁজ কেউ রাখেন কি? গ্রামেরটি বড় সুন্দর, “বনের পুকুর ডোবা”। এখানে গেলেই দেখবেন আদিবাসীদের রোজনামচা। এই গ্রামে চুরির ভয় নেই। তাই সদর দরজায় কেউ তালা দেন না। ইচ্ছে করলেই পর্যটকরা যে কারও বাড়িতে ঢুকতে পারেন। তবে অবশ্যই কাউকে বিরক্ত না করে। গ্রামের রাঙা মাটির পথ ধরে গেলে দেখা যায় নানা দৃশ্য, কখনও কচি কচি ছাগল ছানারা খেলা করছে, কখনও আবার ভেড়ার ছানার সঙ্গে মনের আনন্দে খেলা করছে কুকুর ছানারা। কোনও আদিবাসী রমণীকে দেখতে পেতে পারেন ঢেঁকিতে ধান ভানতে। গ্রামের মাটির বাড়ির দেওয়ালে দেখতে পাবেন পোড়ামাটির নকশা।ইছামতির নদীর ধারেইছামতি নদীর ধারে উত্তর ২৪ পরগনার সাজানো গোছানো গ্রাম টাকি। কলকাতা থেকে ঘণ্টা দুয়েকের পথ। টাকিতে থাকার জন্য বিলাসবহুল রিসর্ট রয়েছে। সেখানে না হয় থাকুন। কিন্তু সারাদিন ইছামতি নদীতে নৌকা বিহার না করলে টাকি যাওয়া বিফল। নৌকা করে পৌঁছে যান মাছারাঙা দ্বীপে। সেখানে আছে এক রাজার বাড়ি। রাজত্ব নেই, তবে ভাঙা রাজবাড়ির পরতে পরতে রয়েছে অজানা ইতিহাসের রহস্য। টাকি গেলে ইছামতীর নদীর ধারে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত কিন্তু মিস করবেন না। শীতকালে টাকির সৌন্দর্য অসাধারণ। কিন্তু সেখানকার আসল মজা বিজয়া দশমীর দিন। ইছামতী নদীর দুই পারের ঠাকুর বিসর্জন উপভোগ করার জিনিস। এপারে পশ্চিমবঙ্গের ঠাকুর ভাসান আর ওপারে পূর্ববঙ্গের। ইছামতী নদীর ওপারে যে বাংলাদেশ।সুন্দরবনের সুন্দরী গাছমন-প্রাণ-দেহকে সুন্দর করতে ঘুরে আসুন সুন্দরবন থেকে। শীতকালে ঘুরে আসাটাই ভালো। না হলে ঝড়বৃষ্টির একটা ভয় থাকে। সুন্দরবনে গেলে থাকুন জলের উপর। হাউজ বোটের মতো বিলাসবহুল না হলেও, জলে ভেসে থাকা লঞ্চগুলিতে থাকার ব্যবস্থা মন্দ নয়। সুন্দরবনের ছোটো ছোটো দ্বীপগুলিতে ঘর বেঁধে নিজেদের গ্রাম বানিয়ে নিয়েছেন মানুষজন। রয়েছে বাঘ, কুমীর, হরিণ সংরক্ষণের জায়গা। ভাগ্যে থাকলে বাঘের দেখা পেতে পারেন। সুন্দরবনে গেলে লোকাল গাইড পেয়ে যাবেন। তাঁরাই যত্ন করে ঘুরিয়ে নিয়ে আসবে আপনাকে। জঙ্গলের দেবী বনবিবির পুজো দিয়ে নৌকা বা লঞ্চ ছাড়েন তাঁরা। নদীর ধারের সুন্দরী, গরান, গেঁওয়া গাছের শ্বাসমূল দেখে অবাক হতে হয়। বড়রা তো বটেই ছোটোদেরও খুব ভালো লাগবে এই সুন্দরবন।বক বিহীন বকখালিবক দেখতে পাবেন না। তবে বকখালিতে গেলে সমুদ্রের পাড়ে বিন্দাস ঘুরে বেড়াতে পারবেন। ঘুরে আসতে পারবেন হেনরিজ আইল্যান্ড থেকে। মাত্র একদিনেও বকখালি ঘুরে আসা যায়। সাগরদ্বীপের এই ছোট্টো গ্রামের সংরক্ষণকেন্দ্রে দেখতে পাবেন প্রচুর কুমীর আর হরিণ. সমুদ্রের পাড়ে একা সময় কাটানোর খুব ভালো জায়গা এটি।ডুয়ার্সের দুয়ারেদক্ষিণ তো হল এবার উত্তর দিকে ঢুঁ দেওয়া যাক? উত্তরের গ্রাম বললেই ডুয়ার্সের পাহাড়িয়া গ্রামগুলোর নাম চোখের সামনে ভেসে ওঠে। সিলেরি গাঁও, ইচ্ছে গাঁও, নামচি, শিটং, খাসমহল, বিন্দু, ঝালং বাহারি নামের গ্রামের ছড়াছড়ি সেখানে। প্রায় সব গ্রামেই রয়েছে হোম স্টের ব্যবস্থা। যে গ্রামেই যান না কেন কাঞ্চনজঙ্ঘাকে কাছ থেকে পাবেনই। মাঝে মাঝে ধরা দিতে পারে তিস্তা নদীও। পাহাড়িয়া সংকীর্ণ পথ, পাইন, সিঙ্কোনা, এলাচ গাছ আর অর্কিডের ছড়াছড়ি এখানে. নাম না জানা ফুলও আছে অঢেল. এদিক ওদিক ঘুরে মন না চাইলে শুধু গ্রামের রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলেই অবসরের দিনগুলো সার্থক হয়ে যাবে। আর অ্যাডভেঞ্চার করতে গেলে পাহাড়, জঙ্গল, নদী সবকিছুই আপনাকে স্বাগত জানাবে।

Source link

Comments

comments