অমিত চক্রবর্তী সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই বিচারে বিলম্ব তথা সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার মারাত্মক ত্রুটি ফের সামনে এল হাইকোর্টে। সন্তানকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন নিয়ে ১৯৯৭ সালে একটি হেবিয়স কর্পাস মামলা হয়েছিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে। প্রথম দিনের শুনানিতে হাইকোর্ট রাজ্য পুলিশের ডিজিকে মামলা রুজু করে তদন্ত চালিয়ে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দেয়। তিন মাস পরে মামলাটির ফের শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল হাইকোর্ট। তিন মাস নয়, সেই মামলাই হাইকোর্টে ফের উঠল শুক্রবার, ২৩ বছর পরে! ঘটনা পরম্পরায় যুগপৎ বিব্রত, বিরক্ত প্রধান বিচারপতি টিবিএন রাধাকৃষ্ণনের স্বগতোক্তি, এমন মারাত্মক ত্রুটি-বিচ্যুতি বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের সম্ভ্রমকেই নষ্ট করে। গত ২৪ নভেম্বর এমনই আর একটি ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৭ সালে দায়ের হওয়া একটি মামলা সে দিনই প্রথম শুনানির জন্য ওঠে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে। তিন বছর পরে মামলা কেন প্রথম শুনানির জন্য উঠল–তা নিয়ে সে দিনও প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রধান বিচারপতি। এমন ঘটনা বিচারব্যবস্থার সম্মানহানি করছে, তাও বলেছিলেন। যদিও সে দিন বা এ দিন–কোনও তদন্ত বা কড়া পদক্ষেপ হাইকোর্ট করেনি। তবে শুক্রবারের ঘটনায় হাইকোর্ট লিখিত রায়ে জানিয়েছে, কারা এমন ঘটনার পিছনে রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আগেই তদন্ত হওয়া উচিত ছিল। কারণ, কিছু লোকের গাফিলতির জন্য মানুষের বিচার পাওয়া এই ভাবে ব্যাহত হতে পারে না। যদিও শেষ পর্যন্ত এই মামলাটি আর চালানোর যুক্তি নেই মনে করেই নিষ্পত্তি করে দিয়েছে আদালত। ২৩ বছর পরে মামলা এজলাসে আসা প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, দুর্ভাগ্য আমাদের, আদালতের কোনও আলমারিতে হয়তো ২৩ বছর ধরে এই মামলার নথি বন্ধ হয়ে পড়েছিল। বিচারব্যবস্থার পদ্ধতিগত দিক নিয়েই এই ঘটনা প্রশ্ন তুলে দেবে। এমন ঘটনায় বিচারব্যবস্থার সম্মানই নষ্ট হয়। ১৯৯৭ সালের ২২ ডিসেম্বরের পরে আর এক দিনই মাত্র মামলাটি শুনানির জন্য উঠেছিল আদালতে। প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, নথি দেখে বোঝা যাচ্ছে, সেই ঘটনায় মামলাকারীর বোনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনি মুক্তভাবে ঘোরার অনুমতি পেয়েছিলেন আদালতেরই নির্দেশে। পুলিশ সিআরপিসি’র ১৬১ ধারায় কোনও জবানবন্দিও গ্রহণ করেনি। ঠিক কী হয়েছিল, পরে কী হল–কিছুই জানা গেল না বিচার ব্যবস্থার ত্রুটিতে!এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন-

Source link

Comments

comments