মৈত্রেয়ী ভট্টাচার্যসংক্রমণের মাত্রা বেশি হলে, যে কোনও বয়সের করোনা-আক্রান্তেরই মৃত্যু হতে পারে। তা বলে, ষাটের নীচে যাঁরা, তাঁদের মৃত্যুহার ৪০ শতাংশ ছুঁইছুঁই কেন? এর পিছনে একাধিক কারণ থাকার সম্ভাবনা চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। এসএসকেএমের শিক্ষক-চিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকার বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশের জনসংখ্যার একটা বড় অংশই ৬০ বছরের নীচে। ফলে, আমাদের দেশে ওই মানুষদের আক্রান্তের সংখ্যাও সেদিক থেকে বেশিই হবে।’ স্বাস্থ্য ভবনের সূত্র বলছে, শনিবার পর্যন্ত কোভিড-আক্রান্তদের মধ্যে ষাট বছরের কম বয়সিদের সংখ্যাটা ছিল ৭৫ হাজারের কিছু বেশি। প্রশ্ন হচ্ছে, আক্রান্ত বেশি হওয়ার কারণেই কি ষাটের নীচে থাকা মানুষদের মৃত্যুহার ৪০ শতাংশের দোরগোড়ায়? স্বাস্থ্য দপ্তরের এক কর্তা বলছেন, ‘ব্যাপারটা সে ভাবে দেখলে একটু বেশি সরলীকরণ হবে। আসলে ৬০ বছরের নীচে ব্যক্তিদের আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর পিছনে বেশ কিছু ফ্যাক্টর রয়েছে।’ তাঁর মতেই সায় দিয়ে হৃদশল্য বিশেষজ্ঞ প্লাবন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের দেশ ডায়াবিটিস ক্যাপিটাল। অনেক কমবয়সিরা নিজেরাও জানতে পারেন না, কখন তাঁদের অজান্তেই ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের অসুখের মতো বিপদ শরীরে বাসা বেঁধেছে। ফলে বয়স কম হলেও তাঁরা কিন্তু কো-মর্বিড। সেটা মাথায় রাখতে হবে।’ এসএসকেএমের এন্ডোক্রিনোলজি বিশেষজ্ঞ শুভঙ্কর চৌধুরীর কথায়, ‘আমাদের দেশে এমনিতেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার হার খুব খারাপ। তার উপর যদি সেই ব্যক্তির বয়স কম হয়, তা হলে তো টেস্ট করানোই হয় না প্রায়। তুলনামূলক ভাবে, ষাটোর্ধ্বরা কো-মর্বিড হলেও তাঁরা কিন্তু অনেক সময়ে বয়সের কারণেই নিজেদের সমস্যার বিষয়ে হুঁশিয়ার ও সচেতন থাকেন।’ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অরিন্দম বিশ্বাসের আবার ব্যাখ্যা, জনসংখ্যা বেশি থাকার কারণেই বেশি মৃত্যু, এতটা সরলীকরণ করে বিষয়টা দেখা ভুল হবে। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘শরীরে কতটা ভাইরাস ঢুকছে (ভাইরাল লোড) বা তা শরীরে ঢোকার পর কতটা প্রদাহ সৃষ্টি করছে, তার উপর পুরো বিষয়টা নির্ভর করছে। রোগীর বয়স কত, তার উপর নয়।’ এই অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের নিদান, কারও বয়স কম হতে পারে, কিন্তু করোনার সংক্রমণকে হালকা ভাবে নেবেন না। ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞ রাজা ধর যেমন বলছেন, ‘উপসর্গ না-থাকলে বাড়িতেই থাকতে পারেন অপেক্ষাকৃত কমবয়সি কোভিড-আক্রান্তরা। কিন্তু সচেতন ও সাবধান থাকতে হবে।’ সেই সাবধানতা ঠিক কী রকম? আমরি হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের প্রধান শাশ্বতী সিনহার পরামর্শ, ‘বাড়ি থেকে অপ্রয়োজনে বেরোনোর অভ্যেস ছাড়তে হবে প্রথমেই। আর যদি আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে থাকেন কেউ (কোনও কো-মর্বিডিটি নেই যাঁদের), তাঁরা দিনে অন্তত দু’বার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা করুন। যদি দেখা যায় অক্সিজেনের মাত্রা ৯৪-এর নীচে থাকছে ধারাবাহিক ভাবে অথবা গত কয়েক দিনে অক্সিজেনের মাত্রা অল্প অল্প করে হলেও ক্রমাগত কমেছে, তা হলে সময় নষ্ট না-করে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।’

Source link

Comments

comments