এই সময়, ডায়মন্ড হারবার: রাজ্যে করোনা-যোদ্ধাদের মৃত্যুমিছিলে লাগাম নেই।এ বার একই দিনে প্রথম সারির দুই করোনা-যোদ্ধার মৃত্যু হলো দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। প্রথমজন সইদ আহমেদ (৫৬) মন্দিরবাজার ব্লকের বিডিও। অন্যজন নোদাখালি থানার আইসি অনিন্দ্য বসু (৪৪)। দু’জনেই করোনা-আবহে মানুষের পাশে থেকেছেন, বার বার ছুটে গিয়েছেন জনতার মাঝে। মনে করা হচ্ছে, তারই মাসুল গুনে প্রাণ গেল দু’জনের।সইদ ও অনিন্দ্যর মৃত্যুতে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে জেলার পুলিশ-প্রশাসনের অন্দরেই। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ডায়মন্ড হারবার মহকুমা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলছিলেন, ‘সরকার সচেতনতা নিয়ে এত প্রচার করেছে। তার পরেও উৎসবের নাম করে করোনা-বিধি না-মেনে রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষই তো মোচ্ছব করছে। সভা-মিছিল করছে রাজনৈতিক দলগুলোও। মাস্ক পরা ও দূরত্ববিধি মানার কোনও বালাই নেই! এতে সংক্রমণ বাড়বে না তো কি কমবে?’ তাঁর তীব্র ক্ষোভ, সাধারণ মানুষ বা রাজনৈতিক কর্মীদের বিপদ থেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিতে হচ্ছে সরকারি আধিকারিক ও কর্মচারীদের। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব ও সব স্তরের মানুষ সচেতন না-হলে এই মৃত্যুর ঘটনা বাড়তেই থাকবে। জেলার এক পুলিশকর্তাও বলছেন, ‘সংবাদমাধ্যমে দেখানো হচ্ছে, মৃত্যুর চেয়ে সুস্থতার হার বেশি। আর তা দেখেই সাধারণ মানুষের বড় অংশ আহ্লাদে আত্মহারা। তাঁদের সেই আনন্দের মাসুল গুনতে হচ্ছে আমাদের।’ সইদ আহমেদই যেমন। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে মন্দিরবাজার ব্লকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মানুষের জন্য তাঁর অফিস ছিল অবারিত দ্বার। লকডাউন ও উম্পুনের সময় ব্লকের মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন খিদিরপুরের বাসিন্দা সইদ। ২১ অক্টোবর কোভিডের উপসর্গ নিয়ে কলকাতার এমআর বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি হন। ধীরে ধীরে সুস্থও হয়ে উঠছিলেন। কিন্তু কো-মর্বিডিটি থাকায় বুধবার রাত থেকে আচমকা অসুস্থতা বাড়তে থাকে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তান। মন্দিরবাজারের বিধায়ক জয়দেব হালদার বলেন, ‘বিডিও সাহেবের মৃত্যু আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। মন্দিরবাজারের সমস্ত স্তরের মানুষের সঙ্গে খুব অল্প দিনেই তাঁর পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই অতিমারীতেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ও করোনা-বিধি নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা এখানকার বাসিন্দারা সকলেই জানেন।’ অনিন্দ্য বসুর করোনা ধরা পড়েছিল চলতি মাসের ১২ তারিখে। বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন তিনিও। বুধবার রাতে আচমকা তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় গ্রিন করিডর করে অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় অনিন্দ্যকে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে মারা যান মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা অনিন্দ্য। ২০১৯ সালের নভেম্বরে নোদাখালি থানার আইসি পদে যোগ দিয়েছিলেন। সইদের মতো তিনিও করোনা-কালে বারবার মানুষকে সচেতন করতে তাঁদের মধ্যে গিয়েছেন। সময় পেলে একমাত্র কিশোরী মেয়েকে পাশে বসিয়ে গিটার বাজিয়ে গান, চুটিয়ে রান্নাবান্না ও আড্ডা মারতে ভালোবাসতেন এই তরুণ পুলিশ অফিসার।

Source link

Comments

comments