পিয়ালী চক্রবর্তীকরোনা-আক্রান্ত রাজ্যগুলির মধ্যে মহারাষ্ট্র প্রথম স্থানে। সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কম্যান্ডে, কলকাতায় কর্মরত এক মহিলাকর্মীকে সেই রাজ্যের রাজধানী মুম্বইয়ে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ৫৪ বছরের সেই মহিলাকে এখনই সশরীরে সেখানে কাজে যোগ দিতে হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল (ক্যাট)। তাদের নির্দেশ, ওই মহিলা এখন মুম্বইয়ে কাজে যোগ দেবেন ঠিকই, তবে ডিজিটালি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না-হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর ওই মহিলাকর্মীকে কলকাতার বাড়ি থেকে থেকেই মুম্বইয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইবুনাল।রুনা মুখোপাধ্যায় নামে চেতলার বাসিন্দা ওই মহিলা ৩২ বছর ধরে সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডে কাজ করেছেন। ফোর্ট উইলিয়মের জেনারেল স্টাফ অ্যান্ড স্টাফ ডিউটিস বিভাগের মেজরের প্রাইভেট সেক্রেটারি পদে ছিলেন তিনি। তাঁর বদলির প্রথম নির্দেশ জারি হয় গত বছর ডিসেম্বরে। সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তর থেকে তাঁকে সাদার্ন কম্যান্ডের সদর দপ্তরে বদলি করা হয়। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে বদলির নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে ওই মহিলা তা খারিজের জন্য ক্যাটে মামলা করেন। রোটেশনাল ট্রান্সফার পলিসির উপর হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্ট-সহ একাধিক আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় তার ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর ওই মহিলাকর্মীর বদলির নির্দেশের উপর গত ৩০ ডিসেম্বর স্থগিতাদেশ জারি করে ক্যাট। তবে এই বছর ফেব্রুয়ারিতে হিমাচল প্রদেশ হাইকোর্ট ট্রান্সফার পলিসি বা বদলি নীতির উপর থাকা ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। যার ফলে, ওই মহিলার বদলির নির্দেশের উপর যে স্থগিতাদেশ ছিল, সেটিও খারিজ হয়ে যায়। এর পর ১৫ জুলাই নতুন করে রুনা মুখোপাধ্যায়ের বদলির নির্দেশ জারি হয়। ইস্টার্ন কম্যান্ড থেকে সাদার্ন কম্যান্ডের অধীন মুম্বইয়ে বদলি করা হয় তাঁকে। আর তার বিরুদ্ধেই ফের ক্যাটের দ্বারস্থ হন ওই মহিলা।আদালতে ওই মহিলার আইনজীবী কল্যাণ সরকার জানান, কোনও প্লেসমেন্ট কমিটি তৈরি না-করেই তাঁকে বদলি করা হয়েছে। ওই মহিলার ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা যে পদমর্যাদার অফিসার, সেই একই পদমর্যাদার অফিসার বদলি করেননি। ফলে, এ ক্ষেত্রেও অমান্য হয়েছে নিয়ম। বর্তমান মহামারী পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিভিন্ন বিভাগে রোটেশনাল বদলির উপর স্থগিতাদেশ রয়েছে। একই সঙ্গে ওই মহিলার মেয়ের বোর্ড পরীক্ষাও সামনে বলে ক্যাটে তাঁর আইনজীবী জানান। মামলকারীর আইনজীবীর মূল বক্তব্য ছিল, বর্তমানে মু্ম্বইয়ের কোভিড পরিস্থিতি যে রকম, তাতে কোনও ভাবেই ওই মহিলাকে মুম্বইয়ে বদলির জন্য জোর করা বাঞ্ছনীয় নয়।সেনাবাহিনীর আইনজীবী অবশ্য ট্রাইবুনালে জানান, মামলাকারী ৩২ বছর ধরে ইস্টার্ন কম্যান্ডে রয়েছেন। যেখানে তাঁর সর্বাধিক ১০ বছর থাকার কথা। রোটেশন্যাল বদলির উপর যে স্থগিতাদেশ রয়েছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীন কর্মী হওয়ায় মামলাকারীর ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয় বলেও আদালতেকে জানানো হয়। সেনাবাহিনীর আইনজীবী এটাও জানান, বদলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা রাখতে নির্দিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছিল। দু’পক্ষের সওয়াল-জবাবের পর ক্যাটের বিচারপতি বিদিশা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চ শুক্রবার জানায়, আবেদনকারী একবারও বদলি ছাড়া লাগাতার ৩২ বছর ধরে ইস্টার্ন কম্যান্ডে কাজ করেছেন এবং বদলির নির্দেশ খারিজ করার জন্য যে সব যুক্তি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি যথেষ্ট নয়। ফলে, তাঁকে দ্রুত মুম্বইয়ে কাজে যোগ দিতে হবে। কিন্তু সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে আবেদনকারীকে ডিজিটালি কলকাতা থেকে মুম্বইয়ে কাজে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ক্যাট জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর ওই মহিলা ফের তাঁকে মুম্বই থেকে কলকাতায় বদলি করার জন্য আবেদন করতে পারেন। সেই আবেদন পাওয়ার দু’মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে হয় তা গ্রাহ্য, না-হয় তা খারিজ করতে হবে বলেও ক্যাট তার নির্দেশে জানিয়েছে।

Source link

Comments

comments