হাইলাইটসবৃহস্পতিবার রাজ্যে ডিসচার্জ রেট অর্থাৎ সুস্থতার হার পৌঁছল ৯৩.০১ শতাংশে।গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ৩৫০৭ জন নতুন করোনা-আক্রান্তর খোঁজ মিলেছে, কিন্তু মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের। রাজ্যের বর্তমান অ্যাক্টিভ করোনা-রোগীর সংখ্যাও একধাক্কায় কমে হয়েছে ২৪ হাজার ৬৭০ জন।এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: করোনা ভ্যাকসিন কবে আসবে ভারতে, তা নিয়ে কোনও নিশ্চিয়তা নেই। এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবারই আটটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেই বৈঠকে করোনা প্রতিরোধ ও ভ্যাকসিন বিতরণে কেন্দ্রের সঙ্গে একযোগে কাজের কথাও জানিয়েছেন মমতা। সেইসঙ্গেই প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, বাংলার করোনা পরিস্থিিত মোটের উপর নিয়ন্ত্রণেই আছে। কিন্তু বাংলার দুশ্চিন্তা এখনও করোনায় মৃতের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে করোনায় ৫২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।শীতের আগে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ফের দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই মুহূর্তে দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্য নিয়েই উদ্বেগ বেশি। সেই তালিকায় রয়েছে বাংলার নামও। ফলে ফের এরাজ্যে করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসার কথাও রয়েছে কেন্দ্রীয় দলের। তবে, বাংলায় লোকাল ট্রেন চালু হওয়ার পরও এখনও সংক্রমণের সে অর্থে বাড়েনি, তাই এক্ষেত্রে অন্তত আশার আলোই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। দু’সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও চালু হয়েছে বাংলায় লোকাল ট্রেন। কিন্তু সংক্রমণ এখনও লাগামছাড়া তো হয়ইনি, বরং উলটে বাড়ছে সুস্থতার হার।তবে, এখনও দৈনিক সাড়ে তিন হাজারের মতো আক্রান্ত হতে থাকায়, কিছুটা চিন্তিত চিকিৎসকমহল। অবশ্য একইসঙ্গে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে সুস্থতার হারও। স্বাভাবিক কারণেই দ্রুত গতিতে কমতে শুরু করেছে অ্যাক্টিভ আক্রান্তের সংখ্যাও। রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখা যাচ্ছে স্বাস্থ্যভবনের বুলেটিনে।বৃহস্পতিবার রাজ্যে ডিসচার্জ রেট অর্থাৎ সুস্থতার হার পৌঁছল ৯৩.০১ শতাংশে। এ দিন স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, গতকালের তুলনায় কিছুটা কমেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। মোটের উপর তা নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ৩৫০৭ জন নতুন করোনা-আক্রান্তর খোঁজ মিলেছে, কিন্তু মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের। বাংলায় করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা এখনও যথেষ্ট চিন্তায় জায়গায় রয়েছে। এমনকী দৈনিক মৃত্যুতে প্রায়ই প্রথম তিনের মধ্যেই থাকছে পশ্চিমবঙ্গ। স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, রাজ্যের বর্তমান অ্যাক্টিভ করোনা-রোগীর সংখ্যাও একধাক্কায় কমে হয়েছে ২৪ হাজার ৬৭০ জন।সার্বিক ভাবে রাজ্যের অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা কমলেও রাজ্যের ‘হাই বার্ডেন’ দুই জেলা, কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগনায় অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা এখনও মাথা ব্যথার কারণ। ওই দু’টি জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় যথাক্রমে ৮৮৫ এবং ৮৫১ জন করোনা-আক্রান্তর খোঁজ মিলেছে। ফলে, কলকাতার মোট করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৩ হাজার 3৮৮ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যায় অবশ্য বেশি পিছিয়ে নেই কলকাতা লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনা জেলাও। সেখানে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯৭ হাজার ৬১০ জন।স্বাস্থ্যভবনের আশঙ্কা ছিল, লোকাল ট্রেন চালু হওয়ার কয়েকদিন পর পরিস্থিতি কী হবে, কে জানে! এখনও আশঙ্কাজনক কোনও পরিস্থিতি হয়নি। ফলে আশাতে বুক বাঁধছেন চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা।উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোর দিন কয়েক আগে থেকে শুরু করে পুজোর দিনগুলি-বাংলায় দৈনিক করোনা সংক্রমণ হচ্ছিল প্রায় সাড়ে চার হাজার করে। বর্তমানে দৈনিক করোনা সংক্রমণ একধাক্কায় কমে এসে সাড়ে ৩ হাজারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। রাজ্যে আশা জাগিয়ে ব্যাপক হারে বাড়তে শুরু করেছে সুস্থতার হারও। করোনা অতিমারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলা যে ফের ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করলেই তার খানিকটা আভাস মেলে।আরও পড়ুন: ‘উন্নত ভারতের জন্য প্রয়োজন’, ফের ‘এক দেশ-এক ভোট’ দাবি তুললেন মোদী!বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) রাজ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ হাজার ৫৩৭ জন। সব মিলিয়ে রাজ্যে করোনামুক্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪ লক্ষ ৩৭ হাজার ৬০৪ জন। বৃহস্পতিবারও সারাদিনে ৪৪ হাজারের উপর কোভিড নমুনা টেস্ট হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গোটা রাজ্যে এদিন সবমিলিয়ে ৪৪ হাজার ৭১৩টি নমুনার কোভিড টেস্ট হয়েছে। পজিটিভিটির হার ৯ শতাংশের অনেক নীচে (৮.২৬ শতাংশ) নেমে এসেছে। রাজ্যে এ পর্যন্ত ৫৬ লক্ষ ৯৯ হাজার ২৩৭টি নমুনার কোভিড টেস্ট করা হয়েছে। প্রতি ১০ লক্ষ জনসংখ্যা-পিছু ইতিমধ্যে ৬৩,৩২৫ জনের কোভিড টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে।এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।

Source link

Comments

comments