হাইলাইটসফের এরাজ্যে করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসার কথা কেন্দ্রীয় দলের। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ৩৫৯১ জন নতুন করোনা-আক্রান্তর খোঁজ মিলেছে, কিন্তু মৃত্যু হয়েছে ৪৯ জনের। করোনা অতিমারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলা যে ফের ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করলেই তার খানিকটা আভাস মেলে।এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: শীতের আগে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা চিন্তায় কেন্দ্রীয় সরকার। এই মুহূর্তে দেশের ৫টি রাজ্য নিয়েই বেশি চিন্তা তৈরি হচ্ছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেই তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নামও। ফলে ফের এরাজ্যে করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসার কথা কেন্দ্রীয় দলের। অপরদিকে, মঙ্গলবারই বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মাঝে দুদিন অনেকটাই কম থাকার পর আবার বাংলায় বাড়তে শুরু করেছে দৈনিক করোনা সংক্রমণ। যদিও ওই দুদিন টেস্টের সংখ্যাও ছিল সার্বিকভাবে কম। তবে, বেশ কিছুদিন ধরে লোকাল ট্রেন পরিষেবা শুরু হলেও যেমন আশঙ্কা করা হয়েছিল, সেই মতো সংক্রমণের ছবি এখনও সামনে আসেনি। অনেকেরই আশঙ্কা ছিল, ট্রেনের কামরায় স্বাস্থ্যবিধি না মানলে ব্যাপক আকারে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে বাংলায়। তবে লোকাল চালু হওয়ার পর প্রায় দু সপ্তাহ হতে চললেও এখনও তেমন আশঙ্কার চিত্র দেখা যাচ্ছে না। তবে মাঝে কমে আবার দৈনিক সাড়ে তিন হাজারের মতো আক্রান্ত হতে থাকায়, কিছুটা চিন্তিত চিকিৎসকমহল। তবে, একইসঙ্গে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে সুস্থতার হারও। স্বাভাবিক কারণেই দ্রুত গতিতে কমতে শুরু করেছে অ্যাক্টিভ আক্রান্তের সংখ্যাও। সব মিলিয়ে হাজারো আশঙ্কার মাঝেও রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখা যাচ্ছে স্বাস্থ্যভবনের বুলেটিনে। রবিবার রাজ্যে ডিসচার্জ রেট অর্থাৎ সুস্থতার হার পৌঁছল ৯২.৭২ শতাংশে। এ দিন স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, গতকালের তুলনায় কিছুটা কমেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। মোটের উপর তা নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ৩৫৯১ জন নতুন করোনা-আক্রান্তর খোঁজ মিলেছে, কিন্তু মৃত্যু হয়েছে ৪৯ জনের। যা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, রাজ্যের বর্তমান অ্যাক্টিভ করোনা-রোগীর সংখ্যাও একধাক্কায় কমে হয়েছে ২৫ হাজার ২০৭ জন।সার্বিক ভাবে রাজ্যের অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা কমলেও রাজ্যের ‘হাই বার্ডেন’ দুই জেলা, কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগনায় অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা এখনও মাথা ব্যথার কারণ। ওই দু’টি জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় যথাক্রমে ৮৭৯ এবং ৮২৮ জন করোনা-আক্রান্তর খোঁজ মিলেছে। ফলে, কলকাতার মোট করোনা-আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৯০৯। মোট আক্রান্তের সংখ্যায় অবশ্য বেশি পিছিয়ে নেই কলকাতা লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনা জেলাও। সেখানে রবিবার পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯৪ হাজার ২৭৫ জন।স্বাস্থ্যভবনের আশঙ্কা ছিল, লোকাল ট্রেন চালু হওয়ার কয়েকদিন পর পরিস্থিতি কী হবে, কে জানে! এখনও আশঙ্কাজনক কোনও পরিস্থিতি হয়নি। ফলে আশাতে বুক বাঁধছেন চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা।উল্লেখ্য, পুজোর দিন কয়েক আগে থেকে শুরু করে পুজোর দিনগুলি-বাংলায় দৈনিক করোনা সংক্রমণ হচ্ছিল প্রায় সাড়ে চার হাজার করে। বর্তমানে দৈনিক করোনা সংক্রমণ একধাক্কায় কমে এসেছে সাড়ে ৩ হাজারের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। রাজ্যে আশা জাগিয়ে ব্যাপক হারে বাড়তে শুরু করেছে সুস্থতার হারও। করোনা অতিমারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলা যে ফের ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের রিপোর্ট বিশ্লেষণ করলেই তার খানিকটা আভাস মেলে।আরও পড়ুন: আসল মালিক কে? অশান্তি থামাতে DNA পরীক্ষা হবে কুকুরের!রবিবার (২২ নভেম্বর) রাজ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ হাজার ৭২৬ জন। সব মিলিয়ে রাজ্যে করোনামুক্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪ লক্ষ ২৩ হাজার ১২৯ জন। রবিবারও সারাদিনে ৪৪ হাজারের উপর কোভিড নমুনা টেস্ট হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গোটা রাজ্যে এদিন সবমিলিয়ে ৪৪ হাজার ৬৫৩টি নমুনার কোভিড টেস্ট হয়েছে। পজিটিভিটির হার ৯ শতাংশের অনেক নীচে (৮.২৬ শতাংশ) নেমে এসেছে। রাজ্যে এ পর্যন্ত ৫৫ লক্ষ ২২ হাজার ৯৬৪টি নমুনার কোভিড টেস্ট করা হয়েছে। প্রতি ১০ লক্ষ জনসংখ্যা-পিছু ইতিমধ্যে ৬০,৩৭৯ জনের কোভিড টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে।এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।

Source link

Comments

comments