এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: যেনতেনপ্রকারেণ রোগা হতেই হবে। অতএব পছন্দের চকোলেট বিস্কিট, ক্রিম বিস্কিট তালিকা থেকে বাদ। চায়ের ঠেকে বাদ পড়েছে প্রজাপ্রতি বিস্কিটও। সকালে উঠে গ্রিন টি-র সঙ্গে দুটো ডাইজেস্টিভ বিস্কিট আর খিদে পেলে বড়জোর একটা ক্রিমক্র্যাকার– ব্যাস এই হল নিয়ন্ত্রিত খাদ্য তালিকা। পছন্দের বিস্কিট বাদে ডাইজেস্টিভ বিস্কিট খেয়ে আপনি আত্মতৃপ্ত হন। মনে করেন চিনি কম খেলাম। হেলদি ফাইবার পেটে পড়ল। কিন্তু নিউট্রিশনিস্টরা অন্য কথা বলছেন। তাঁদের কথায়, দাবি করা হয় অন্য বিস্কিটের তুলনায় এই বিস্কিটে প্রোটিন, ফাইবার বেশি থাকে। কিন্তু সুগার, সল্ট, ময়দা এবং অপ্রয়োজনীয় কিছু ফ্যাটও যে থাকে তা বিজ্ঞাপনে বলা হয় না। দীর্ঘদিন ধরে এই বিস্কিট খেলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।ডাইজেস্টিভ বিস্কিট কী?আটার সঙ্গে সোডিয়াম বাইকার্বোনেট, অ্যামোনিয়াম বাইকার্বোনেট, ম্যালিক অ্যাসিড, ভেজিটেবল অয়েল, গুঁড়ো দুধ, চিনি এবং বেকিং সোডা মিশিয়ে তৈরি করা হয়। আটার সঙ্গে সোডিয়াম বাইকার্বোনেট, অ্যামোনিয়াম বাইকার্বোনেট, ম্যালিক অ্যাসিড, ভেজিটেবল অয়েল, গুঁড়ো দুধ, চিনি এবং বেকিং সোডা মিশিয়ে তৈরি করা হয়। Digestive-এর অর্থ হজম সহায়ক। সোডিয়াম বাইকার্বোনেট এবং আটা দিয়ে এই বিস্কিট বানানো হয়। এছাড়াও থাকে বেকিং সোডা। যা স্টার্চ ভেঙে সরাসরি পরিপাকে সাহায্য করে। দুটো ডাইজেস্টিভ বিস্কিটে ক্যালোরির পরিমাণ ১৫০ গ্রাম। কার্বোহাইড্রেটস-২০ গ্রাম, ফ্যাট-৪.৬ গ্রাম, সুগার-৫ গ্রাম, প্রোটিন-২ গ্রাম, ফাইবার-১ গ্রাম, সোডিয়াম-১৬০ মিলিগ্রাম।ডাইজেস্টিভ বিস্কিট থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়বাজারে প্রচলিত এমন বেশ কিছু ওষুধ ও খাবার রয়েছে, যা খেলে নাকি রোগা হওয়া যায়। সঙ্গে এমনও দাবি যে, এই খাবারগুলি স্বাস্থ্যকর এবং কোনও প্বার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও নেই। কিন্তু সত্যিই কি তাই? প্রচলিত ধারণা, এই বিস্কুট স্বাস্থ্যকর। এবং এই বিস্কুট খেলে ওজনও বাড়ে না। কিন্তু, এ তথ্য সম্পূর্ণ ঠিক নয়। ডাইজেস্টিভ বিস্কুট মূলত তৈরি হয়েছিল সেই সব মানুষকে মাথায় রেখে, যাঁদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে। সহজে হজম হয়ে যাওয়া এই বিস্কুট, চায়ের সঙ্গে এক-আধটা খেলে খুব একটা সমস্যা নেই। কিন্তু জেনে রাখুন, এই বিস্কুট প্রসেস্‌ড ফুডের একটি আদর্শ উদাহরণ। এবং চিকিৎসকরাই বারণ করছেন এই বিস্কুট খেতে, মূলত ৩টি কারণে। উপকরণ, প্রসেস্‌ড ফুড, ক্যালোরি।গ্লুটেনের মাত্রা বেশি থাকে যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকরবেকারি আইটেমগুলি ময়দা দিয়ে তৈরি করা হয়। ইজেস্টিভ বিস্কুটে অন্তত পক্ষে ৫০ ক্যালোরি থাকে, যা খুব সহজেই শরীরের ওজন বাড়িয়ে দেয়। সুগার, ফ্যাট, সোডিয়াম, ময়দায় থাকে ‘আনহেলদি’ ক্যালোরি। এই বিস্কুটগুলিতে গ্লুটেনের মাত্রা বেশি থাকে যা আপনার পক্ষে স্বাস্থ্যকর নাও হতে পারে। গ্লুটেনের অতিরিক্ত মাত্রায় পেটে ব্যথা, গ্যাস, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।কোলেস্টেরল সম্পর্কিত রোগগুলির ঝুঁকি বাড়ায়অনেক হজম বিস্কুট প্যাকেট ফ্যাটবিহীন বলে জানা গেছে। তবে এগুলিতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং অন্যান্য ফ্যাট ব্যবহার করা হয়। অধিক স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ করলে কোলেস্টেরল সম্পর্কিত রোগগুলির ঝুঁকি বাড়ায়। ডাইজেস্টিভ বিস্কুটে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। কিন্তু তার সঙ্গে থাকে সুগার, ফ্যাট, সোডিয়াম ও রিফাইন্ড ময়দাও। যা শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে। কখনও দেখেছেন ডাইজেস্টিভ বিস্কুট পচে গিয়েছে বা তাতে ছাতা পড়েছে? না তো! এর থেকেই প্রমাণিত হয় যে এই ধরনের বিস্কুটে ব্যবহার করা হয় প্রিজারভেটিভ জাতীয় জিনিস।সোডিয়াম থাকে এই বিস্কুটেএই বিস্কুটের স্বাদ বাড়াতে এবং এটিকে কিছুটা নোনতা যুক্ত করতে হয়। হাই সোডিয়াম গ্রহণ করলে উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্ট্রোকের মতো মারাত্মক রোগও হতে পারে।ডাইজেস্টিভ বিস্কিটের পরিবর্তে আপনার জলখাবারে ড্রাইফ্রুট, স্প্রাউট বা ফল অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করুন। অথবা ভাত, সাগু বা নারকেলের ময়দা বা অনুরূপ জিনিস দিয়ে তৈরি স্ন্যাকস, যা কোনও ধরণের ক্ষতি, অ্যালার্জি বা রোগ এড়াতে আপনাকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করতে পারে।

Source link

Comments

comments