Durga Puja 2020: তর্পণ-ঘাটে দূরত্ববিধি রক্ষাই আজ চ্যালেঞ্জ – the challenge today is to maintain distance at tarpan ghat

এই সময়: আজ মহালয়া। গঙ্গার ঘাটে-ঘাটে তর্পণ চলছে সকাল থেকেই। প্রতি বছরই এ জন্য বাড়তি নজরদারি ও নিরাপত্তার বন্দোবস্ত রাখা হয়। এ বছর করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশ ও পুরসভার কাছে দূরত্ববিধি রক্ষাই আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ভোর ৪টে থেকে গঙ্গার ঘাটগুলিতে মাইকে প্রচারের পাশাপাশি ঘাট পর্যন্ত পথে ধাপে ধাপে ব্যারিকেডিং করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রের খবর। মহালয়া থেকে দুর্গাপুজোর ব্যবধান এ বার এক মাসেরও বেশি। দুর্গাপুজোয় ভিড় সামাল দেওয়ার প্রাথমিক পরীক্ষাও হয়তো হতে চলেছে আজ মহালয়ায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতায় গঙ্গার ২৬টি ঘাটে মূলত তর্পণের জন্য ভিড় করেন মানুষ। প্রতিটি ঘাটে রিভার ট্র্যাফিক পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর বড় দল মোতায়েন রাখা হচ্ছে। যাতে যে কোনও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। ডিসি (পোর্ট) সৈয়দ ওয়াকার রেজা জানিয়েছেন, এক সঙ্গে বেশি মানুষ যাতে ভিড় না-করেন, সে জন্য ঘাটের পাশাপাশি বোট থেকেও লাগাতার প্রচার করা হবে। করোনা সংক্রমণ রুখতে তর্পণেও বস্তুত সাধারণ মানুষের সচেতনতার উপরেই বেশি ভরসা রাখতে হচ্ছে। এক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন, কোনও কারণে ভিড় বেশি হয়ে গেলে ঘাটে আসার পথে ব্যারিকেড করে ধাপে ধাপে লোকজনকে ছাড়া হবে। প্রতিটি ঘাটে পুলিশ কিয়স্কও করা হচ্ছে। সেখান থেকে চলবে মাইকিং। তবে প্রবীণ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সুকুমার মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘এমন মহামারী পরিস্থিতিতে গঙ্গার ঘাটে সকলে তর্পণ করতে গেলে তা তাঁর নিজের জন্য এবং অন্যের জন্যেও ঝুঁকির। কেউ জানে না, কত উপসর্গহীন করোনা সংক্রমিত মানুষ গঙ্গায় নামবেন। তবে শুনছি, প্রশাসন নাকি দূরত্ববিধি মেনে চলায় জোর দিচ্ছে। জানি না, তা কতটা বাস্তবায়িত হবে। এ বছর তর্পণের ব্যাপারটা গঙ্গার ঘাটে না-হলেই বোধ হয় ভালো হত।’ চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের এপিডেমিয়োলজির প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান করবী দত্তও বলেন, ‘তর্পণের বিষয়টায় সরকারের এ বছর আরও কড়া হওয়া উচিত ছিল। ব্যাপারটা বেশ ঝুঁকির। তবে মেট্রোর মতো এ ক্ষেত্রেও দূরত্ব-রক্ষা, মাস্ক পরে তর্পণ বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। সবাই মিলে গঙ্গার ঘাটে ভিড় না-করে স্থানীয় জলাশয়ে তর্পণ করলেও তো পারেন।’পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ঘাটগুলি যাতে নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্যানিটাইজ করা হয়, সে ব্যাপারে পুরসভার সঙ্গে কথাবার্তা হয়েছে। পুরকর্তারা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। বুধবারও কয়েকটি ঘাটে স্যানিটাইজেশন হয়। তবে কত মানুষ আসবেন, সেটা নিয়ে ধন্দ রয়েছে পুলিশের মনেও। কারও কারও ধারণা, এ বার ভিড় কিছুটা কমও হতে পারে।আজ গঙ্গার বানও অবশ্য আর একটা চিন্তা। বেলার দিকে বান আসার কথা। তাতে জলের উচ্চতা অনেক বেড়ে যাবে। পুলিশ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে জালের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ডুবুরিও থাকবেন। রিভার ট্র্যাফিকের বোট টহল দেবে। বড় ঘাটগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে কন্ট্রোলরুম থেকেই নজরদারি চালানো হবে।

Source link

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *