হাইলাইটসশরীরে অস্বস্তি নিয়ে যেমন কোনও কাজ হয় না তেমনই কোনও কিছু খেলে হজম হয় না। এমনও হয়েছে এই সমস্যায় ছুটতে হয়েছে হাসপাতাল পর্যন্ত। যাবতীয় টেস্ট করেও সমস্যার সমাধান হয়নিএই সময় জীবনযাপন ডেস্ক: খাওয়ার পরই গলা জ্বালা, পেটে জ্বালা, অস্বস্তির সমস্যায় নাকাল? কোনও কিছু খেলেই হজম হচ্ছে না? নিয়মে চলেও অ্যাসিডিটির সমস্যায় জেরবার? আপাত দৃষ্টিতে দেখে এই সমস্যাকে খুব বেশি কিছু মনে না হলেও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকলে খুবই ভুগতে হয়। শরীরে অস্বস্তি নিয়ে যেমন কোনও কাজ হয় না তেমনই কোনও কিছু খেলে হজম হয় না। এমনও হয়েছে এই সমস্যায় ছুটতে হয়েছে হাসপাতাল পর্যন্ত। যাবতীয় টেস্ট করেও সমস্যার সমাধান হয়নি। এদিকে মুঠো মুঠো অ্যান্টাসিড খাচ্ছেন। শীতকালে গ্যাস, অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়ে। ভেতরে চাপা অম্বল হয়ে থাকলেও অনেকে বুঝতে পারেন না। এছাড়াও শীতে অনেকেই গরম জলে স্নান করেন, গায়ে জামাকাপড় বেশি থাকে, শাক-ফুলকপি-বাঁধাকপি-সিম এসব বেশি খাওয়া হয়য। এখান থেকে সহজেই অ্যাসিড হতে পারে। আর তাই অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকলে কিছু জিনিস মেনে চলতেই হবে। তবে তার আগে জেনে নেওয়া দরকার অ্যাসিড রিফ্লাক্স হয় কেন।আরও পড়ুন: অনিদ্রায় ভুগছেন? এই ঘরোয়া জাদুতে লাভ হবেই!আমাদের খাদ্যনালী (ইসোফেগাস) খাবার ও পানীয় বয়ে নিয়ে যায় পাকস্থলীতে (স্টমাক)। এই গতিটা নিম্নমুখি – সাধারণ পরিস্থিতিতে উপরের দিকে অ্যাসিডের উঠে আসার কথা নয়। তা খাবার হজম করার জন্য নিঃসৃত হয় এবং পাকস্থলীর দিকেই যায়। আমরা যখন ঢেকুর তুলি, তখনও ভিতর থেকেই হাওয়া উঠে আসে, তবে তাতে তেমন কোনও সমস্যা নেই। এক-আধবার চোঁয়া ঢেকুরও উঠতে পারে। কিন্তু বার বার আপনার খাদ্যনালীতে অ্যাসিড উঠে এলে সেখানে প্রদাহ তৈরি হবে। ফলে বুক জ্বালা করবে, গলা পর্যন্ত টকভাব টের পাবেন।যাঁদের অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা আছে, তাঁরা কখনও পেট ভর্তি করে খাবেন না। খাদ্যনালী যেখানে পাকস্থলীতে মেশে, সেখানে একটি রিং গোছের মাসল থাকে, এই মাসলটির নাম ইসোফেগাল স্পিঙ্কটার। এই পেশিটি দুর্বল হয়ে গেলেই রিফ্লাক্স বেশি হয়। তার উপর অতিরিক্ত খাবার খাওয়াটা ঠিক না – তাতে সমস্যা বাড়বে। সারা দিনে অল্প অল্প করে বার বার খেতে থাকুন, এতে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণটাও সহজ হবে। ইন ফ্যাক্ট, যাঁরা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যায় বার বার ভোগেন, ওজন কমলেই তাঁদের সমস্যা কমতে আরম্ভ করে। খুব বেশি কার্বোহাইড্রেট খাওয়া বন্ধ করতে পারলেও ভালো হয়। বিশেষ করে ময়দায় তৈরি ভাজাভুজি যত কম খাবেন তত ভালো। অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট হজম করতে সময় বেশি লাগে। তখন পেট ফাঁপে, গ্যাস হয়। জন্ম নেয় ব্যাকটেরিয়া, তার ফলে গ্যাস হয় আরও বেশি।কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটে সাধারণত সমস্যা হয় না।যাঁরা খুব বেশি কফি, ফলের রস বা সফট ড্রিঙ্ক খেতে অভ্যস্ত, তাঁদেরও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের জটিল সমস্যা দেখা দেয়। এড়িয়ে চলুন কাঁচা পেঁয়াজ, তাতেও বুক জ্বালার সমস্যা বাড়তে পারে। সেই সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে মুখ যেন শুকিয়ে না যায়। লালাগ্রন্থির ক্ষরণ এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ লালাগ্রন্থির ক্ষরণ ভালো হলেই হজম ভালো হবে। হজম ভালো হলে অ্যাসিডের সম্ভাবনা কমে যায়। এছাড়াও আরও যা যা খাবেন- প্রতিদিন সকালে উঠে গরম জলে দারুচিনি, গোলমরিচ, লবঙ্গ, আদা দিয়ে ফুটিয়ে খান। এতেও শরীর ভালো থাকবে। রাতে একগ্লাস জলে মিছরি আর মৌরি ভিজিয়ে রাখুন। পরেরদিন ছেঁকে খান। তাও কিন্তু শরীরের জন্য ভালো। দুধে সমস্যা না থাকলে এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ খান দুপুরের দিকে। পাকস্থলির গ্যাসট্রিক অ্যাসিডকে নিয়ন্ত্রণ করে অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি দেয় ঠান্ডা দুধ।প্রতিদিন একগ্লাস জলের সঙ্গে রয়েকটা আমলকি চিবিয়ে খান। পেটে গ্যাস থাকলে, বদহজম থাকলে খুবই উপকারে আসে আমলকি। প্রতিদিন খাওয়ার পর একটুকরো করে খান। এছাড়াও নুন দিয়ে আদা চিবিয়ে খান। এতেও কাজ হবে খুব ভালো। মাছ, মাংস, ডিম খাদ্যতালিকা থেকে একেবারেই বাদ রাখার চেষ্টা করুন। বন্ধ করতে না পারলে খুবই কম খান। এছাড়াও তেল-মশলা একদম বাদ রাখুন। খুব কম খাবার খান। খিদে না পেলে একেবারেই খাবেন না। লোভ আর চোখের খিদে দূরে রাখুন। গ্যাস, অম্বল থেকেই কিন্তু হতে পারে হার্টের সমস্যাও। তাই সুস্থ থাকতে এড়িয়ে চলুন এই সব খাবার। এই সময় ডিজিটালের লাইফস্টাইল সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন এখানে।

Source link

Comments

comments