হাইলাইটসরসগোল্লা তৈরি হল ফুল ক্রিমযুক্ত দুধ থেকে। যার মধ্যে ৭০ শতাংশ ফ্যাট থাকবেই। কারণ নইলে ভালো ছানা কাটবে না। আর সেই স্বাদটাও আসবে না। সেই সঙ্গে মিশছে চিনিএই সময় জীবনযাপন ডেস্ক: বিজয়া মানেই মিষ্টিমুখ আর কোলাকুলি। সামাজিক দূরত্বের খাতিরে এবার কোলাকুলি বাদ। কিন্তু মিষ্টিমুখ তো আর থেমে থাকবে না! বাঙালির মিষ্টিমুখ রসগোল্লা ছাড়া কিছুতেই হয় না। এর আগে অবশ্য বিজয়া মানেই ছিল নারকেল নাড়ু আর নিমকি। কিন্তু সেই সব প্রথা অনেক বাড়ি থেকেই উঠে গিয়েছে। ভরসা এখন কেনা মিষ্টিতেই। আজ থেকে ২৫ বছর আগেও ঘরে ঘরে এত ডায়াবিটিসের রোগী ছিল না। বাড়িতে মিষ্টি ঢুকবেই না, এমনটা চালুও হয়নি। আর মিষ্টি এমন একটা খাবার, হাতের সামনে থাকলে লোভ এড়ানো দায়। আর তা যদি হয় নরম তুলতুলে রসগোল্লা। কিন্তু খেয়ে ফেললেই মনে মনে শুরু হয়ে যায় টেনশন। এবার দেখে নেওয়া যাক বিশ্বজুড়ে এতই কদর যে মিষ্টির সেই মিষ্টির মধ্যে ঠিক কতা পরিমাণ ক্যালোরি আছে। একটা রসগোল্লায় ক্যালোরির পরিমাণ ১২১। এর মধ্যে প্রোটিন ১১ ক্যালোরি, ফ্যাট ৩৭ ক্যালোরি, কার্বোহাইড্রেট ৬০ ক্যালোরি। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের ক্যালোরির চাহিদার ৬ শতাংশ পূরণ হয় একটা রসগোল্লা থেকে। দুধ থেকে ছানা কাটিয়ে ভালো করে জল ঝরিয়ে চিনির সরেস পাকে ফেলার পর তবেই তৈরি হয় রসগোল্লা। এবার প্রশ্ন হল রসগোল্লা কি সত্যিই স্বাস্থ্যকর? উত্তর , না। কারণ…রসগোল্লা তৈরি হল ফুল ক্রিমযুক্ত দুধ থেকে। যার মধ্যে ৭০ শতাংশ ফ্যাট থাকবেই। কারণ নইলে ভালো ছানা কাটবে না। আর সেই স্বাদটাও আসবে না। সেই সঙ্গে মিশছে চিনি। আর চিনিকে বলা হয় সাদা বিষ। কার্বোহাইড্রেটের কোনও রকম পুষ্টিমূল্য নেই। বরং শরীরের প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে সুগার লেভেল বেড়ে যায়। ফলে ফ্যাট বার্ন করার ক্ষমতা কমে যায় শরীরের। আর সুস্থ থাকতে জীবন থেকে চিনি বাদ দিন। কারণ শরীরে খুব ধীরে ধীরেই ডায়াবিটিস থাবা বসায়। আর যে কারণে ডায়াবিটিসকে বলা হয় নিঃশব্দ ঘাতক। তবে শুধু রসগোল্লাই নয়, প্রিয় চিপস, কোল্ডড্রিংকের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে প্রচুর পরিমাণ চিনি। হিসেব করলে ১/২ কাপ চিনি থাকবেই। সুগার বা হার্টের সমস্যা যাঁদের রয়েছে তাঁরা কি রসগোল্লা খেতে পারেন? বাংলার সংস্কৃতির প্রতীক রসগোল্লা। বিশ্বজোড়া তার খ্যাতি। ঘন ফ্যাটযুক্ত দুধ থেকে ছানা তৈরি করে তবেই রসগোল্লা বানানো যায়। আর চিনি তো আছেই। ডায়াবিটিস ও হার্টের সমস্যা রয়েছে এমন মানুষদের চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন জোর করে অতিরিক্ত সুগার না খেতে। কারণ এতে যে শুধুই রক্তে সুগারের পরিমাণ বাড়ছে এমনটা নয়, বাড়ে ওজনও। যা আপনি নিজেও টের পাবেন না। অনেকেরই হয়তো মনে হয় দুধে ক্যালশিয়াম থাকে, শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজ থাকে। প্রয়োজনে ফ্যাট ছাড়া দুধ এমনিই খান। ফ্যাটযুক্ত দুধ থেকে তৈরি রসগোল্লাতে কোনও প্রোটিনই থাকে না। আর তাই যাঁদের শারীরিক সমস্যা রয়েছে তাঁদের রসগোল্লা একেবারেই বাদ দিতে বলছেন চিকিৎসকরা। ডায়াবিটিস থাকলে আরই নয়। যাঁরা ওজন কমাতে ডায়েট করছেন, তাঁরাও চিট ডে তে মন ভরে রসগোল্লা খাবেন না, পরামর্শ চিকিৎসকদের। কারণ এতে হার্টের উপর চাপ পড়ে। তাহলে মিষ্টির চাহিদা মেটাতে কি খাওয়া যেতে পারেকম মিষ্টিযুক্ত গাজরের হালুয়া খেতে পারেন। ড্রাই ফ্রুটস, খেজুর খান। চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করুন। ওটসের সঙ্গে গুড়, শুকনো ফল মিশিয়ে লাড্ডু বানিয়ে নিন। কিংবা ক্ষীর, শুকনো ফল দিয়ে বরফিও বানিয়ে নিতে পারেন। তবে তা ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য নয়। যাঁরা ডায়েট করছেন এই মিষ্টি বানিয়ে তাঁরা খেতে পারেন। ওটস, জোয়ার, বাজরা এসব দিয়ে মিষ্টি বানান। চলতে পারে মধুও। কিন্তু রসগোল্লা নয়। ডায়াবিটিসের জন্য একেবারেই বিষ হল রসগোল্লা। এই সময় ডিজিটালের লাইফস্টাইল সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন এখানে।

Source link

Comments

comments