হাইলাইটসশুক্রাণুর গুণগত মানের হ্রাস ও শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া দৈনিক পরিশ্রম এতই বেড়েছে যে প্রায় সব পুরুষই এই সমস্যায় ভুগছেনসারা বিশ্বজুড়েই এখন বিজ্ঞানীরদের চিন্তার বিষয়। প্রশ্ন: আমার ২ বছর হল বিয়ে হয়েছে। আমরা বহুবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। এখনও মা হওয়ার ইচ্ছা ছাড়িনি। কিছুদিন আগে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলাম। সেখান থেকেই জানতে পারি যে আমার স্বামীর স্পার্ম কাউন্ট কম। এছাড়াও আরও একটি সমস্যা রয়েছে। সহবাসের সময় আমার স্বামীর শীঘ্রপতন হয়। আমি কি কোনওদিনও সন্তানের মা হতে পারব না ? দয়া করে যদি কোনও সমাধান বলবেন। খুব হতাশ হয়ে পড়েছি। (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)বিশেষজ্ঞের উত্তরপ্রথমেই বলি আশা ছাড়বেন না। আপনারা দুজনেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা অভ্যাস করুন। সময়ে খাওয়া, ঘুম, শরীরচর্চা প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চেষ্টা করুন। আপনার আশাও পূর্ণ হবে। শুক্রাণুর গুণগত মানের হ্রাস ও শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া সারা বিশ্বজুড়েই এখন বিজ্ঞানীদের চিন্তার বিষয়। দৈনিক পরিশ্রম এতই বেড়েছে, যে প্রায় সব পুরুষই এই সমস্যায় ভুগছেন। তবে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। আমূল বদলে যাওয়া লাইফস্টাইল অন্যান্য অসুখবিসুখের সঙ্গে বাড়াচ্ছে বন্ধ্যাত্ব। বিশেষ করে পুরুষের ক্রমবর্ধমান বন্ধ্যাত্বের অন্যতম কারণ আমাদের রোজকার জীবনযাত্রা। এর ফলে শুক্রাণুর পরিমাণ কমার সঙ্গে সঙ্গে তার গুণগত মানও খারাপ হচ্ছে। সাধারণত প্রতি সিসি সিমেনে ৮০ থেকে ১২০ মিলিয়ন গতিশীল স্পার্ম থাকলে পুরুষদের বাবা হতে কোনও অসুবিধে হয় না। কিন্তু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাচ্ছে। এই সমস্যা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি উন্নত দেশেরই। সাধারণত ভাবে প্রতি সিসি সিমেনে কুড়ি মিলিয়ন (অর্থাৎ ২ কোটি) বা তার কিছুটা কম স্পার্ম থাকলেও পুরুষদের বাবা হতে কোনও অসুবিধে হবার কথা নয়। তবে শুক্রাণুর সংখ্যা কমতে কমতে দশ মিলিয়নের থেকেও কম হয়ে গেলে তখন সমস্যা হয়। আরও জেনে রাখা জরুরি, সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা আর পুরুষত্বহীনতা কিন্তু এক নয়। সহবাসে অক্ষম পুরুষদের সন্তান উৎপাদন সত্যিই সমস্যার সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে সিমেনে স্পার্ম কাউন্ট কম থাকলে বা যথাযথ গতিশীল শুক্রাণুর পরিমাণ অপর্যাপ্ত থাকলে এবং শুক্রাণু নিঃসরণের পথে কোনও বাধা থাকলে ভ্রূণ তৈরি সম্ভব হয় না। এর কারণগুলি জেনে নেওয়া যাক। প্রায় ব্যাঙাচির মত দেখতে শুক্রাণুদের মাথার নিচে কিছু বিশেষ ধরনের শক্তি উৎপাদনকারী রাসায়ানিক থাকে, যা এদের গতিশীল হতে সাহায্য করে। এই রাসায়ানিকের পরিমাণের তারতম্য হলে অথবা নেকপিসের কোনও গঠনগত ত্রুটি থাকলে স্পার্মের গতিশীলতা কমে যায়। এমনকী শুক্রাণুর টেল অর্থাৎ লেজের কোনও সমস্যা থাকলেও স্পার্ম এগিয়ে যেতে পারে না। গতিশীলতা মানে শুক্রাণু তীব্র বেগে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। একই জায়গায় নড়াচড়া করা মানে গতিশীলতা নয়।আরও পড়ুন: ‘কন্ডোম ছাড়া অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে সেক্স! AIDS-এর আশঙ্কা করছি’স্পার্মের মরফোলজি অর্থাৎ আকৃতি স্বাভাবিক না হলে নিষেক অর্থাৎ ভ্রূণ তৈরি সম্ভব নয়।কোনও সংক্রমণ ও যৌন রোগ থাকলে স্পার্মের সংখ্যা ও গতিশীলতা কমে যাবার সম্ভাবনা থাকে।আরও পড়ুন: ‘কন্ডোম ছাড়া সেক্স…পিরিয়ডেও দেরি, গর্ভবতী কিনা চিন্তায়!’বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিমেনে স্পার্মের সংখ্যা ও গতিশীলতা ক্রমশ কমতে শুরু করে। মেয়েদের যেমন মেনোপজ হয়, তেমনই ছেলেদের অ্যান্ড্রোপজ হয়। তাই সঠিক সময়ে সন্তান উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিলে সমস্যায় পড়তে হয় না। সারাদিন কোলে ল্যাপটপ বসিয়ে কাজ করলেও স্পার্ম কাউন্ট কমে যায়। ফিটনেস থেকে ফোসকা সারানোর বিজ্ঞান, সেক্স থেকে স্ট্যামিনা বাড়ানোর উপায়… সব কিছুই জানতে মেইল করতে পারেন লাইফস্টাইল কোচ জীবক আচার্যকে। ঠিকানা- ask.jeebak.acharya@gmail.comএই সময় ডিজিটালের লাইফস্টাইল সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন এখানে

Source link

Comments

comments