হাইলাইটসশরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অত্যধিক পরিমাণ বেড়ে গেলে, জল পরিমাণের তুলনায় কম খাওয়া, বারবার কিডনিতে ইনফেকশন হওয়া, অতিরিক্ত প্রোটিন খাওয়া এবং দুগ্ধজাত কোনও খাবার কিংবা দুধও যদি অত্যধিক পরিমাণে খাওয়া হয়, সেখান থেকে কিডনি স্টোন হতে বাধ্যএই সময় জীবনযাপন ডেস্ক: কিডনি স্টোনের সমস্যা বর্তমানে অতিপরিচিত একটি রোগ। প্রায় সব ঘরেই রয়েছে এমন সমস্যা। মূলত জল কম খাওয়া থেকেই কিডনির যাবতীয় অসুখের সূত্রপাত। এছাড়াও ডায়াবিটিস থাকলে কিডনির সমস্যা আসবেই। কিডনির সমস্যা হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। কিডনি বিকল হয়ে গেলে মৃত্যু অবধারিত। কিডনিতে স্টোন হলে সবসময় যে মারাত্মক কিছু উপসর্গ থাকবে এমন নয়। কিন্তু পাথরের আকার যদি ৫ মিলিমিটারের বেশি হয়, তাহলে ইউটেরাসে বাধা পেতে পারে। যেখান থেকে তলপেটে খুব বেশি ব্যথা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে কেন কিডনিতে স্টোন হল এই নিয়ে সঠিক কোনও কারণ না থাকলেও কিছু বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা অত্যধিক পরিমাণ বেড়ে গেলে, জল পরিমাণের তুলনায় কম খাওয়া, বারবার কিডনিতে ইনফেকশন হওয়া, অতিরিক্ত প্রোটিন খাওয়া এবং দুগ্ধজাত কোনও খাবার কিংবা দুধও যদি অত্যধিক পরিমাণে খাওয়া হয়, সেখান থেকে কিডনি স্টোন হতে বাধ্য। প্রস্রাবের রং হলুদ থেকে লালচে হলে, বেশিরভাগ সময় বমি বমি ভাব থাকলে তা কিন্তু কিডনি স্টোনের লক্ষণ। এরকম সমস্যা হলে আগেভাগেই সতর্ক হতে হবে। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়া শুরু করতে হবে। প্রস্রাব পেলে কোনওভাবেই তা চেপে রাখবেন না। ওষুধ ছাড়াও কিডনিতে পাথর হলে মেনে চলুন বেশ কিছু ঘরোয়া টোটকা। এতেও উপশম হবে অনেকটাই। ভিটামিন সি খান- প্রতিদিন সকালে উঠে গরম জলে একটা গোটা পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খান। এতে কিছুটা হলেও উপশম হবে। এছাড়াও ভাতের সঙ্গে লেবু খেতে হবে। কিংবা প্রতিদিন খাওয়ার পর কমলালেবু একটা করে বা দিনের যে কোনও সময় এক গ্লাস করে মুসাম্বির জুস খেতে হবে। আপেল খান- প্রতিদিন আপেল সিডার ভিনিগার বা একটা করে আপেল খান। আপেলের মধ্যে থাকা ম্যালিক অ্যাসিড কিডনির সমস্যা দূর করে। এছাড়াও শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন বের করে দেয় আপেল। কারণ স্টোন হলে কিডনি ভালো করে পরিশোধনের কাজ করতে পারে না। আই আপেল সিডার ভিনিগার খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। বেদানা- বেদানা পুষ্টিতে পরিপূর্ণ। স্বাস্থ্যের জন্যও খুব ভালো। এছাড়াও বেদানা শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। রোজ একটা করে বেদানা খেতে পারলে শরীরে রক্তের পরিমাণও বাড়ে। সেই সঙ্গে কিডনি স্টোনের সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। মেথি-মৌরির জল- প্রতিদিন রাতে একগ্লাস জলে একচামচ মেথি আর একচামচ মৌরি ভিজিয়ে রাখুন। সেই সঙ্গে একটুকরো মিছরি ফেলে দিন। পরের দিন সকালে সেই জল ছেঁকে খেয়ে ফেলুন। এতে রক্ত যেমন পরিষ্কার হয় তেমনই রক্তের সঙ্গে মিশে থাকা টক্সিনও বেরিয়ে যায়। ফলে শরীর থাকে সুস্থ। নিয়মিত খেলে কিডনির পাথর নিজেই বেরিয়ে আসে। আমন্ড আর আখরোট- কিডনি স্টোনের সমস্যায় অনেক চিকিৎসকই প্রতিদিন ওষুধ খাওয়ার বদলে একটা করে আমন্ড আর আখরোট খাওয়ার কথা বলেন। আখরোট পুষ্টিগুণে ভরপুর। এছাড়াও আখরোটের মধ্যে থাকে ওমেগা ৩, প্রোটিন, ফাইবার ও মেলাটোনিন। থাকে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আর তাই সুস্থ থাকতে আখরোটের ভূমিকা অনেকখানি। যেহেতু আখরোট দেহ থেকে দূষিত পদার্থকে বের করে দেয় সেই কারণে চিকিৎসকরা প্রতিদিন আখরোট খাওয়ার পরামর্শ দেন। বাইরের খাবার বন্ধ করতে হবে- বাইরের খাবার একদম বন্ধ করে দিতে হবে। চপ, তেলেভাজা, চিপস, মিষ্টি কিছুই খাওয়া যাবে না। এছাড়াও কাঁচা নুন একদম নয়য। খাবারেও নুন, চিনি যতটা সম্ভব কম দিতে হবে। প্রয়োজনে পিঙ্ক সল্ট খাওয়া যেতে পারে। বাইরের খাবার খেলেই কিন্তু জাঁকিয়ে বসে কিডনির সমস্যা। বিশেষত বিরিয়ানি, মাংস। এই সময় ডিজিটালের লাইফস্টাইল সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন এখানে।

Source link

Comments

comments