এই সময়: সময় সকাল ১১টা। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তাড়াহুড়ো করে বেলগাছিয়া স্টেশনের ঢোকার চেষ্টা করছিলেন মধ্য চল্লিশের মল্লিকা পোদ্দার। কিন্তু ই-পাস নেই। তাই দাঁড়াতেই হল তাঁকে। ব্যাপারটা কী মল্লিকা জানতেন না। তাঁকে দেখে মনে বল পেলেন স্টেশনের পাশে দাঁড়ানো প্রৌঢ় শুভাশিস বাগচি। দু’জনেরই স্মার্টফোন আছে, কিন্তু ই-পাস কাটতে জানেন না। দু’জনের কথোপকথন শুনে এক মেট্রোযাত্রী এগিয়ে এসে দু’জনকেই ই-পাস কাটিয়ে দিলেন। মুশকিল আসান এতেই হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু হল না। কারণ দেখা গেল, মেট্রো ধরার ই-পাসের জন্য সময় ধার্য হল দুপুর ১২টা। এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে দেখে মল্লিকা এবং শুভাশিস দু’জনেই সিদ্ধান্ত নিলেন, এর থেকে বাসে করে চলে গেলে এই একঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছে যাবেন। তাই নির্দিষ্ট টাইম স্লটের পাস বুক করেও তাঁরা কেউ মেট্রোয় চাপলেন না। ফলে প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও যাত্রীর অভাবে ভুগল কলকাতা মেট্রো। সোমবার ৫০ হাজার ই-পাস বুক হলেও মেট্রো ধরেছিলেন মেরেকেটে ২০ হাজার। মঙ্গলবারও ই-পাস বুক হল ৫২ হাজার। আর যাত্রী? ২৭,১০০। বুকিং স্লট না-পেয়ে কত জন মেট্রো ধরতে পারলেন না, তা অবশ্য জানা গেল না। আরও করুণ অবস্থা ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোয়। সোমবার নিউ নর্ম্যাল যাত্রায় অভিষেকের দিন মাত্র ৮৩ জন উঠেছিলেন এই নতুন রুটে। মঙ্গলবার সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়াল ৯৯! যাত্রীর চাপ ছিল। কিন্তু ওই সময় মহাত্মা গান্ধী রোড স্টেশনে ঢুকে দেখা যায় যাত্রী সাকুল্যে এক কি দু’জন রয়েছেন। এমনকী এসপ্ল্যানেডের মতো ব্যস্ততম স্টেশন থেকেও হাতে গোনা জনা কয়েক যাত্রী মেট্রোতে উঠেছেন। দুপুরের দিকে স্টেশন এবং রেক জনশূন্য থাকলেও সকাল আটটা থেকে ১১টা পর্যন্ত যাত্রীর সংখ্যা মেট্রো কর্তৃপক্ষের উৎসাহ বাড়িয়েছে। তবে সমস্যার জায়গা ই-পাস। জায়গা বুক করে রেখেও শেষ পর্যন্ত স্টেশনে না আসার বিষয়টি নিয়ে ই-পাস প্রস্তুতকারী সংস্থার কর্ণধার এবং সফটওয়্যার ডেভেলপার সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় জানান, একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বুকিং ও যাত্রীসংখ্যার অনুপাত মেলানো হবে। তার পর ই-পাসের সংখ্যা কিছু বাড়িয়ে দেওয়া হবে। ফাঁকা মেট্রোর যাত্রীরা অবশ্য বাকি পথটা খোস মেজাজে গল্প করতে ভোলেননি। কেউ ইলিশপ্রাপ্তির গল্প শুনিয়েছেন, কারও আবার গল্পের বিষয় ছিল, স্যানিটাইজার কী ভাবে তাঁর ত্বকের উপর কুপ্রভাব ফেলছে। এরই মধ্যে দেখা গেল শোভাবাজার থেকে দুই অল্পবয়সী উঠেছেন টালিগঞ্জগামী মেট্রোয়। ফাঁকা আসন থাকতেও তাঁরা ঠিক করলেন দুই কামরার সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে যাবেন। দু’জনই কলেজের ছাত্রছাত্রী। রাহুল সুরানা, পাপিয়া ঘোষ। প্রায় ছ’মাস বাদে একে অপরের সঙ্গে দেখা করছেন। গন্তব্য রবীন্দ্র সদন। উত্তেজনা খানিকটা ধরে রাখতে না পেরে পাপিয়া বলছিলেন, ‘ছ’মাস বাদে নন্দনে যাচ্ছি। জানি সব হয়তো বন্ধ থাকবে। কিন্তু বাইরে থেকে তো আড্ডার জায়গাটা দেখতে পাব। এই বা কম কী!’

Source link

Comments

comments