হাইলাইটসমঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এ বছর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্মদিন। সেই কারণে রাজ্য সরকারের তরফে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’বৃহস্পতিবার নবনির্মিত ব্রিজটির উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই।এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: বিতর্ক, রাজনৈতিক চাপানউতোর পিছনে ফেলে, দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর সাধারণ মানুষের জন্য মাঝেরহাট ব্রিজ চালু হতে চলেছে। আর তার ঠিক দু’দিন আগেই বদলে গেল মাঝেরহাট ব্রিজের নাম। বদল করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে মাঝেরহাট ব্রিজের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নাম। মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এ বছর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্মদিন। সেই কারণে রাজ্য সরকারের তরফে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সেই পদক্ষেপেরই প্রথম পদক্ষেপ হল, মাঝেরহাট ব্রিজের নাম পালটে দেওয়া হচ্ছে। এই ব্রিজের নাম পালটে করা হচ্ছে ‘জয় হিন্দ’। আমরা চাই ‘জয় হিন্দ’ শব্দটা সকলের মুখে-মুখে ঘুরুক, সেই কারণেই সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’বৃহস্পতিবার নবনির্মিত ব্রিজটির উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। বেশ কিছু দিন টানাপোড়েনের পর গত শুক্রবারই যাবতীয় জট কেটেছিল এই ব্রিজ ঘিরে। কলকাতার বাকি অংশের সঙ্গে বেহালা হয়ে দক্ষিণ শহরতলির যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই মাঝেরহাট ব্রিজের সুরক্ষা সংক্রান্ত সার্টিফিকেট সেদিনই মিলেছিল রেলের কাছ থেকে।উল্লেখ্য, গত ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ভেঙে পড়েছিল মাঝেরহাট ব্রিজ। ব্রিজ হলেও এটি জাতীয় সড়কেরও অংশ। পূর্ত দপ্তরের আওতায় এসপি সিংলা কনস্ট্রাকশন এই ‘কেবল স্টেইড’ সেতুর নির্মাণের দায়িত্বে ছিল। লকডাউন সত্ত্বেও জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহেই ব্রিজের প্রায় আশি শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। সেতুর মূল অংশ সেই সময়ই তৈরি হয়ে গিয়েছিল। নবনির্মিত ব্রিজটির মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ৬৩৬ মিটার। পুজোর আগে শেষ হয়েছিল ব্রিজের কেবল বসানোর কাজও।কিন্তু বাধা আসে অন্যত্র। সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য ব্রিজটি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায় সুরক্ষা ছাড়পত্র। পূর্ত দফতর অভিযোগ তোলে, অনুমতি দিতে টালবাহানা করছে রেল। কারণ, ব্রিজের যে অংশটি রেললাইনের উপরে রয়েছে, সেই ৭০ মিটারের কাজের তদারকি রেলই করেছে। পূর্তবিভাগের কর্তাদের দাবি ছিল, রেল কর্তৃপক্ষই সুরক্ষা শংসাপত্র দেবে। আবার রেলকর্তাদের বক্তব্য ছিল, তাঁরা পূর্ত দফতরের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক সুরক্ষা শংসাপত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন।আরও পড়ুন: ‘দুয়ারে’ এল সরকার-‘স্বাস্থ্যসাথী’র বিপুল জনপ্রিয়তা, কলকাতায় প্রথম কার্ড প্রাপক মমতা!এ নিয়ে তৃণমূল বনাম বিজেপি রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়। ব্রিজ চালুর দাবিতে গত বৃহস্পতিবার বিজেপির মিছিল ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় তারাতলা-বেহালা এলাকা। এরপর অবশ্য শুক্রবারই অবশ্য রেল জানিয়ে দেয়, পূর্ত দফতরের কাছ থেকে সব নথি মিলেছে। পূর্ত দফতরের কর্তারাও জানান, সুরক্ষা সংক্রান্ত ছাড়পত্র রেল পাঠিয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, ১৮ মিটার চওড়া ব্রিজটি এখন চার লেনের। অর্থাৎ পরিবহণের মাত্রা আগের চেয়ে দ্বিগুন হারে বাড়বে। ব্রিজের এক দিকে থাকবে পথচারীদের জন্য ফুটপাথ। অবশেষে সেই ব্রিজ খুলে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার। এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।

Source link

Comments

comments