হাইলাইটসমহতী উদ্যোগ নিল কলকাতার মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজের সাংবাদিকতা বিভাগের পড়ুয়ারা। শহর ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে এবার অন্যরকম পুজো পরিক্রমা করল তাঁরা। এই বছরই এই উদ্যোগের দশম বর্ষ।মঙ্গলবার চতুর্থীর দিন সেই গ্রামেরই ১২০ জন আদিবাসী ও দুঃস্থ শিশুর মুখে হাসি ফোটাল সাংবাদিকতার পাঠ নিতে আসা কলেজ পড়ুয়ারা। এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: করোনাকালেও আকাশে-বাতাসে পুজোর গন্ধ। ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। নিউ নর্ম্যাল জীবনে এবার এক অন্যরকম পুজো। ইতিমধ্যেই দর্শকশূন্য পুজোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তবু ভাইরাসের আতঙ্ককে দূরে সরিয়ে একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর সংকল্প এই পুজো। ঠিক এরকমই একটা মহতী উদ্যোগ নিল কলকাতার মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজের সাংবাদিকতা বিভাগের পড়ুয়ারা। তবে বিগত ৯ বছরের মতো এবার আর শিশুদের নিয়ে শহরের পুজো দেখা নয়। শহর ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে এবার অন্যরকম পুজো পরিক্রমা করল তাঁরা। এই বছরই এই উদ্যোগের দশম বর্ষ।ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ির কাছে ছোট্ট গ্রাম বালিচুয়া। মঙ্গলবার চতুর্থীর দিন সেই গ্রামেরই ১২০ জন আদিবাসী ও দুঃস্থ শিশুর মুখে হাসি ফোটাল সাংবাদিকতার পাঠ নিতে আসা কলেজ পড়ুয়ারা। ওই শিশুগুলোর পেটে দু’বেলা ভাত নেই, মাথার উপর কংক্রিটের ছাদ নেই। পুজোয় একটা নতুন জামাও হয়নি ওদের। সেই ওদেরই যেন ইচ্ছেপূরণ করল মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজের সাংবাদিকতা বিভাগের পড়ুয়ারা। সকল শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হল নতুন জামা। পাত পেড়ে মাংস-ভাত খেতে খেতে মুখে আনন্দের হাসি সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া উদয়, সবুজ, মন্দিরাদের। কলকাতার একদল দাদা-দিদি হরেক রঙের নতুন জামা আর পছন্দের সব খাবার পাঠিয়েছে ওদের জন্য। তবে সবটাই সম্পন্ন হল স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে। এই আতঙ্কের সময়েও ওইসব শিশুদের মুখে হাসি ফুটিয়ে খুশি পড়ুয়ারাও। নিজেদের পুজোর খরচা বাঁচিয়েই তো এত আয়োজন করেছে ওরা। কিন্তু সামনে থেকে ওদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও তা আর এই পরিস্থিতিতে সম্ভব হয়নি। তবে বাড়িতে থেকে দিনভর ফেসবুক লাইভে সঙ্গ দিয়েছে পড়ুয়ারা। এই উদ্যোগে এবারও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কলেজের প্রাক্তনী এবং অধ্যাপকরাও। মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ বালিচুয়া দুর্গোৎসব কমিটির পুজো প্রাঙ্গনে শুরু হয় অনুষ্ঠান। নতুন জামা, মাস্ক, স্যানিটাইজার তুলে দেওয়া হয় শিশুদের হাতে। তারপর ভুরিভোজ শেষ করে শহর ও গ্রামীণ সংস্কৃতির মেলবন্ধন ছিল দেখার মতো। ওরা ওদের মতো করে মিশে গেল সকলের সঙ্গে। গোটা উদ্যোগকে নেতৃত্ব দেওয়া অধ্যাপক বিশ্বজিৎ দাস অনুষ্ঠান শেষে একটু আবেগতাড়িত। তিনি বললেন, ‘এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা এবং অন্যান্য অধ্যাপকরা যেভাবে পাশে থেকেছে, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, তার জন্য শিক্ষক হিসেবে আমি গর্বিত। সকলে হয়তো আসতে পারেনি। তবে ভার্চুয়াল প্রযুক্তির সৌজন্যে সকলেই ছিল গোটা অনুষ্ঠানে। আমরা কয়েকজন এসে ছাত্রছাত্রীদের সংকল্পকে বাস্তব রূপ দিলাম। আদিবাসী গ্রাম এই বালিচুয়া। গ্রামের আন্তরিকতা হার মানাবে শহরকে। এমন আরও পিছিয়ে পড়া সমাজের শিশুদের জন্য ভালো কিছু করার অঙ্গীকার নিয়ে আজকের অনুষ্ঠান শেষ করলাম। সকলের পুজো ভালো কাটুক।’আরও পড়ুন: ‘বিজেপিকে জেতালেই রাম মন্দির দর্শন করতে পারবেন!’ বিহারে ভোট-প্রচার যোগীরএই দুঃসহ পরিস্থিতিতে একদল ছাত্রছাত্রীর এমন সাহসী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজের সাংবাদিকতা বিভাগে শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয়, দেওয়া হয় মানবিকতার পাঠও। ফের সেটারই প্রমাণ দিলেন একদল পড়ুয়া।এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।

Source link

Comments

comments