এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বণ্টনের রূপরেখা ঠিক করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর বৈঠক হয়েছে সবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা হয়েছে। এরই মধ্যে কেন্দ্রকে মহামারী নিয়ে ফের নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার অভিযোগের সুরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অতিমারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাজ্যগুলিকে কেন্দ্র নামে মাত্র সাহায্য করছে।’ এদিন নবান্নে সাংবাদিকদের সামনে মমতা বিদ্রুপ মিশিয়ে বলেন, ‘ভ্যাকসিন (Covid vaccine) নিয়ে ওরা (কেন্দ্র) অনেক বড় বড় কথা বলছে। কিন্তু, কেউই জানেন না কবে করোনার ভ্যাকসিন আসবে। গত কয়েক মাস ধরে ওনারা ভাষণ দিতেই ব্যস্ত রয়েছেন।’ আক্রমণের নিশানা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হলেও সরাসরি ওনার নাম নেননি মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আর্থিক সাহায্য নিয়ে বারবার আশ্বাস মেলা সত্ত্বেও খুব সামান্য অর্থই তাঁরা কেন্দ্রের কাছ থেকে পেয়েছেন। কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই অভিযোগ তিনি আগেও করেছেন। এদিন আবারও বললেন, ‘কেন্দ্র রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে।’ জিসিটির বকেয়া দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার দাবিও জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি খেদের সঙ্গে বলেন, ‘যদি ওরা সব নিয়ে চলে যায়, রাজ্য সরকার তা হলে কী করবে?’ রাজ্য সরকারও যে নির্বাচিত তা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘এটা ওদের মাথায় রাখা উচিত কোনও কিছু রূপায়ণের অধিকার রাজ্যেরও আছে।’ মমতার কথায়, ‘কোভিড রোগীদের চিকিত্‍‌সা কারা করছেন? রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্মীরা। রাজ্যের সরকারি চিকিত্‍‌সকেরা। কেন্দ্রকে এটা বুঝতে হবে রাজ্যের মাধ্যমেই তাদের এগোতে হবে।’ বিজেপি নানা সময়ে অভিযোগ করেছে (এমনকী রাজ্যপালও), বাংলায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অনুমতি দেওয়া হয় না। এদিন এই প্রশ্নের জবাবও দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রতিটি মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সাথী (Swastha Sathi) প্রকল্পের ঘোষণা করে মমতা পালটা প্রশ্ন তোলেন, ‘আয়ুষ্মান প্রকল্পে (Ayushman scheme) কেন্দ্র ৬০ শতাংশ টাকা দিচ্ছে। বাকি টাকা কোথা থেকে আসবে?’ এর পরেই তিনি যোগ করেন, ‘রাজ্য স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে খরচের পুরোটাই বহন করছে। কেন্দ্রকে এটা অনুসরণ করতে বলুন। কেন এটা ওরা করছে না?’ এদিন স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পকে প্রসারিত করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের প্রতিটি পরিবারই এ বার এই প্রকল্পের আওতায় চলে এল। এদিন নবান্নে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের স্মার্ট কার্ড প্রকাশ করেন মমতা। জানান, রাজ্যের কোনও পরিবার বা কোনও ব্যক্তিই আর সরকারি স্বাস্থবিমার আওতার বাইরে থাকবেন না। বাংলা ১০০% মানুষকেই সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। কাজের সূত্রে অনেকেই সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধে পান। তাঁদের আর আলাদা করে এই কার্ড দেওয়া হবে না। যাঁরা কোনও প্রকল্পের আওতায় নেই, তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের স্মার্ট কার্ড। এর জন্য বাড়তি ২ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে রাজ্যের। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকেই কাজ শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, প্রকল্পের সুবিধা পেতে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে হবে না। ‘‌দুয়ারে সরকার’‌ প্রকল্পের আওতায় সরকারি কর্মীরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাম, ঠিকানা, পরিবারের সদস্য সংখ্যা সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন।এই সময় ডিজিটাল এখন টেলিগ্রামেও। সাবস্ক্রাইব করুন, থাকুন সবসময় আপডেটেড। জাস্ট এখানে ক্লিক করুন।

Source link

Comments

comments