Category Archives: Health

কিডনি নষ্ট করে কামরাঙা!

রসালো ফল কাম’রাঙা। এটি ট’ক মিষ্টিজাতীয়। কাম’রাঙা কাঁচা ও রান্না করেও খাওয়া হয়। এতে অ’ত্যধিক পরিমাণ অক্সালেট ও নিউরো ট’ক্সিন থাকে। ফলে কিডনি রোগীর জন্য বিপদ।ভারতের ‘কিডনি কেয়ার সোসাইটি’-র প্রতিষ্ঠাতা ডা. প্রতিম সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, উচ্চ র’ক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং অ’তিরিক্ত স্থূলকায় ভুগছেন এবং কিডনির রোগের ঝুঁ’কিতে আছেন অথবা যাদের কিডনিজনিত রোগের পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে তাদের কাম’রাঙা না খাওয়াই ভাল।গবেষণায় দেখা গেছে, ১০০ মিলিলিটার কাম’রাঙার জুসে ০.৫০ গ্রাম অক্সিলিক এসিড রয়েছে। কাম’রাঙার মধ্যে নিউরো ট’ক্সিনও রয়েছে। যাদের কিডনি দুর্বল বা অকার্যকর তাদের কিডনি এই মা’রাত্মক নিউরো ট’ক্সিনকে বের করে দিতে পারে না।তখন এটি ব্রেন এবং নার্ভাস সিস্টেমের ওপর মা’রাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ফলে মাথা ঘোরা, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, খিচুনি হওয়া, অ’জ্ঞান হয়ে পড়া এমনকি কোমাতে চলে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। গর্ভবতী মায়েদেরও কাম’রাঙা এড়িয়ে চলা উচিত। খেলে গর্ভজাত শি’শুর ক্ষতি হতে পারে।তবে আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা জানান, কাম’রাঙা সবার জন্য ক্ষতিকর নয়। কাম’রাঙার অনেক ঔষধিগুণ রয়েছে। এই ফল রুচি ও হ’জমশক্তি বাড়ায়। পেটের ব্যথায় কাম’রাঙা খুব উপকারী। এটি অন্ত্রের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। র’ক্ত পরিশোধন করে।কাম’রাঙা পুড়িয়ে ভর্তা করে খেলে ঠান্ডাজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে। দীর্ঘদিনের জমাট সর্দি বের করে দিয়ে কাশি উপশম করে। শুকনো কাম’রাঙা জ্বরের জন্য খুব উপকারী। কৃমির সমস্যা সমাধানে কাম’রাঙা কার্যকর।

ক্যান্সার কোষ ও টিউমার রোধে যেভাবে কাজ করে শালগম

শালগম একটি শীতকালীন সবজি। এর শেকড় উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি-এর উৎস। এছাড়া শালগম পাতা ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, ক্যালসিয়াম ও ফলিতের ভালো উৎস। শালগম পাতাতে উচ্চমাত্রার লুটেইনও থাকে। এর রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা-শালগমের পুষ্টিগুণ:প্রতি ১০০ গ্রাম শালগমে আছে ০.৫ গ্রাম আমিষ, ৬.২ গ্রাম শর্করা, ০.৯ গ্রাম আঁশ, ০.২ গ্রাম চর্বি, ২৯ কিলোক্যালরি শক্তি, ৩০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৪০ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ৪৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।শালগমের উপকারিতা-১. শালগমে থাকা আঁশ পরিপাকের উন্নতি ঘটাতে সহায়তা করে। হ’জমেও ভালো কাজ করে। নিয়মিত শালগম খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূরে থাকে।২. শালগম অ্যাজমা, মূত্রথলির সমস্যা, ব্রঙ্কাইটিস, কাশি, লিভারের সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি রোধ করা ও টিউমা’র বৃদ্ধি রোধ করতেও কাজ করে থাকে।৩. শালগম থাকা ভিটামিন ‘কে’ র’ক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে।৪. পটাশিয়াম সমৃদ্ধ শালগম ধমনিকে প্রশস্ত করে। ভিটামিন ও পটাশিয়াম ছাড়াও শালগমে রয়েছে ক্যালসিয়াম। শালগম র’ক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।৫. শরীরের রোগপ্রতিরোধ কোষগুলোর ঠিকভাবে কাজ করার জন্য ও ক্যানসার কোষ বৃদ্ধি প্রতিরোধে ভিটামিন এ প্রয়োজনীয়।৬. শালগমে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে। যা ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় কার্যকরী।৭. শালগমে রয়েছে প্রদাহপ্রতিরোধী উপাদান। এতে ভিটামিন সি এর মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এই উপাদানগুলো অ্যাজমা রোগ সারাতে বেশ কার্যকরী।

আসুন জেনে নেই কোন ব্লাড গ্রুপে কোন রোগের ঝুঁ’কি সবথেকে বেশ

শরীরের ব্লাডগ্রুপ নেগেটিভ না পজিটিভ সেটা নিয়ে মানুষ খুব একটা ভাবত না। তবে বিয়ের ক্ষেত্রে র’ক্তের গ্রুপ ম্যাচিং এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সঠিক ম্যাচিংয়ের ওপরই নির্ভর করে রয়েছেপরবর্তী প্রজন্মের সুস্থতা।তবে কারোর যদি ব্লাড গ্রুপ ‘ও’ নেগেটিভ হয় তাহলে বড় অ’সুখ আপনার শরীরে থাবা বসাতেই পারে। তাই এই গ্রুপের মানুষকে একটু সাবধানতা অবলম্বন করে চলতে হবে। কিন্তু শুধু ‘ও’ গ্রুপের বললে ভুল হবে।বাকি ব্লাড গ্রুপ অর্থাৎ এ’, ‘বি’, ‘ও’ এবং ‘এবি’ গ্রুপের ওপরও নানা রোগের ধরণ ও প্রবণতা নির্ভর করে থাকে। আসুন জেনে নেওয়া যাক কোন গ্রুপের র’ক্তবহনকারীকে কোন কোন রোগ থেকে অ’তিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে….১. হৃদরোগ-যাদের র’ক্তের গ্রুপ এবি বা বি তাদের হার্টের রোগ বা হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁ’কি থাকে প্রবল। আর যাদের ও গ্রুপের র’ক্ত তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে।২. আলসার-যাদের র’ক্তের গ্রুপ ও তাদের অন্য আর যে কারুর চেয়ে আলসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁ’কি অনেক বেশি থাকে। দেখা গিয়েছে, ও গ্রুপের র’ক্তধারীদের পাকস্থলীর আলসার হওয়ার ঝুঁ’কি বেশি থাকে।৩. র’ক্ত জমাট বাধা-এ, ও, বি গ্রুপের র’ক্তের অধিকারীদের ৩০% ঝুঁ’কি থাকে এই সমস্যা হওয়ার। আর যাদের র’ক্তের গ্রুপ ও তাদের র’ক্ত জমাট বাধার ঝুঁ’কি কম থাকে। আর এবি গ্রুপের র’ক্ত আছে যাদের তাদের র’ক্ত জমাট বাধার ঝুঁ’কি ২০%। এ থেকে অনেকসময় স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।৪. গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার-ও গ্রুপের র’ক্তধারী লোকদের গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁ’কি কম। কিন্তু অন্যান্য র’ক্তের গ্রুপধারীদের এবং বিশেষ করে এ গ্রুপের র’ক্তধারীদের গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার ঝুঁ’কি অনেক বেশি।৫. অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার-ও গ্রুপের র’ক্ত যাদের আছে তাদের অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁ’কি কম। কিন্তু এ ব্লাড গ্রুপের র’ক্তধারীদের অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁ’কি ৩২% আর এবি গ্রুপের র’ক্তধারীদের এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৫১%।৬. স্মৃ’তির দুর্বলতা-সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, এবি গ্রুপের র’ক্তধারীদের শেষ বয়সে গিয়ে স্মৃ’তির দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। এবি গ্রুপের র’ক্তের জমাট বাধা এবং র’ক্তের প্রোটিনজনিত কিছু সমস্যার কারণে স্মৃ’তির এই সমস্যা হয় বলে জানা গেছে। তবে এর কোনও ব্যাখ্যা এখনও অবধি জানা যায়নি।৭. মানসিক চাপ-এ গ্রুপের র’ক্তধারীরা মানসিক চাপ সহ’জে মোকাবিলা করতে পারেন না। কেননা এ গ্রুপের র’ক্তধারীদের দেহে কর্টিসোল হরমোনের নিঃসরণ হয় বেশি। আর ও গ্রুপের র’ক্তধারীদের দেহে কর্টিসোল নিঃসরণ কম হয়। কিন্তু মানসিক চাপের সময় তাদের দেহে অ’তিরিক্ত অ্যাড্রেনালিন নিঃসরণ ঘটতে থাকে। যে কারণে তারা তাদের সিস্টেমে থাকা কোনো কর্টিসোল পরিষ্কার করতে পারেন না। ফলে তারাও মাননিসক চাপ মোকাবিলা করতে পারে না সহ’জে। এজন্য এই ধরনের মানসিক অবসাদের রোগীদেরকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে মনোচিকিৎসা দিতে হয়।৮. বি গ্রুপের র’ক্তধারীদের দেহ অসংখ্য ব্যাকটেরিয়ায় পূর্ণ আপনার র’ক্তের গ্রুপ যদি হয় বি তাহলে আপনি ভাগ্যবান। কারণ আপনার দেহ অসংখ্য ব্যাকটেরিয়ায় পরিপূর্ণ। তবে ভয়ের কিছু নেই। এগুলো সব উপকারী ব্যাকটেরিয়া। এগুলো হ’জম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী রাখতে এবং বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়াদের দূরে রাখতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে। বি গ্রুপের র’ক্তধারীদের দেহে ও বা এ গ্রুপের র’ক্তধারীদের চেয়ে ৫০ হাজার গুন বেশি ভালো ব্যাকটেরিয়া থাকে। তার মানে বি গ্রুপের র’ক্তধারীদের হ’জমশক্তি বেশি হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি শক্তিশালী থাকে।

একা থাকা অবস্থায় হার্ট অ্যা**টাক হলে কি করবেন?

উন্নত প্রযুক্তির যুগ হলেও বহু মানুষের মৃ’ত্যুর কারণ হার্ট অ্যাটাক। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসার অভাবেও অনেকের মৃ’ত্যু হয়। তবে বেশিরভাগই একা থাকা অবস্থায় মৃ’ত্যুবরণ করেন। তাই একটু সচেতনতাই পারে এ বিপদ থেকে বাঁ’চাতে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক একা থাকা অবস্থায় হার্ট অ্যাটাক হলে করণীয়-হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ> বুকে অস্বস্তি কিংবা ব্যথা হওয়া।>শরীরের ওপরের দিকে অস্বস্তি বা ব্যথা, বিশেষ করে হাতে, পিঠে ও চোয়ালে বা পেটে ব্যথা হওয়া।> একটুতেই হাঁপিয়ে ওঠা, হঠাৎ ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা হালকা লাগা বা ঘোরানো।> পুরুষের ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা বা অস্বস্তিটা হার্ট অ্যাটাকের প্রধান লক্ষণ। কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে মাত্র ৩০ শতাংশের বুকে ব্যথা করে। অনেক সময়ই মেয়েদের লক্ষণগুলো এমনভাবে উপেক্ষিত হয় যে, অনেকেই মনে করেন সাধারণ শরীর খা’রাপ লাগছে।হার্ট অ্যাটাক হলে যা করবেনহার্ট যখন অ’পর্যাপ্ত এবং অনিয়মিতভাবে র’ক্ত সঞ্চালন করে তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়। আর হার্ট অ্যাটাকের ১০ সেকেণ্ডের মধ্যেই রোগী অ’জ্ঞান হতে পারেন। তবে আপনি অ’জ্ঞান হবেন কি না সেটা আগেই বলে দেয়া যায় না।> যদি শরীরে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো অনুভব করেন কিংবা মনে হয়, হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে- সেক্ষেত্রে প্রথমেই ঘাবড়ে যাবেন না। তাহলে পরিস্থিতি আরও খা’রাপ হবে। জ্ঞান হারাবার আগে যে ১০ সেকেণ্ড সময় পান, এই সময়টুকুর মাঝেই নিজেকে বাঁ’চানোর চেষ্টা করুন।> হার্টবিট অনিয়মিত অনুভূত হলে সঙ্গে সঙ্গে খুব দ্রুত, জো’রে এবং ঘন ঘন কাশি দিতে থাকুন। এমনভাবে কাশতে থাকুন যেন কাশির সঙ্গে কফও বের হয়ে আসে।> প্রতিবার কাশি দে‌য়ার আগে লম্বা করে বুক ভরে শ্বা’স নিন। এভাবে ঘন ঘন কাশি এবং লম্বা নিঃশ্বা’স প্রতি ২ মিনিট পর পর করতে থাকুন। এতে করে আপনার হার্ট কিছুটা হলেও নিয়মিতভাবে র’ক্ত সঞ্চালন করতে শুরু করবে। অর্থাৎ আপনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারাবেন না, অন্তত কেউ আসার আগ পর্যন্ত নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারবেন।> কাশির ফাঁকেই নিজের অবস্থান পরিবর্তন করুন। দাঁড়িয়ে থাকলে বসে পড়ুন, বসা থাকলে শুয়ে পড়ুন।হাসপাতালে নেয়ার আগে একজন রোগীকে বাঁ’চাতে অনেক সাহায্য করবে এই টিপসগুলো। কারণ লম্বা নিঃশ্বা’স নেয়ার ফলে শরীরে অক্সিজেন গ্রহণ বেশি হবে। আর ঘন ঘন এবং জো’রে কাশি দেয়ার ফলে বুকে যে চাপের সৃষ্টি হয়, তাতে হার্ট পর্যাপ্ত ও নিয়মিতভাবে র’ক্ত সঞ্চালনের জন্য প্রস্তুত হয়। মনে রাখবেন, লম্বা নিঃশ্বা’স আর জো’রে জো’রে কাশি, হার্ট অ্যাটাকের সময় এই ২টি জিনিসই নিজেকে রক্ষা করার সুযোগ দিবে।

চুল ও ত্বক সুন্দর রাখতে অবশ্যই ব্যবহার করুন বেকিং সোডা | baking soda benifits for skin and hair


Beauty oi-Arindam Pradhan |

Published: Saturday, November 23, 2019, 15:34 [IST]
বেকিং সোডা, চলতি কথায় যার নাম খাবার সোডা। সাধারণত রান্নার চিরপরিচিত উপাদান হল বেকিং সোডা, যার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম বাই কার্বোনেট। কেক বা বিভিন্ন ভাজাভুজি জাতীয় খাবারে এর ব্যবহার ছাড়াও, ঘর পরিষ্কার রাখার বিভিন্ন কাজে খুবই কার্যকরী। আবার, রান্নাঘরের অতি প্রাচীন উপাদান বেকিং সোডা কিন্তু আমাদের শরীর, ত্বক ও চুলের যত্নের ক্ষেত্রেও খুবই প্রয়োজনীয় এবং উপকারি উপাদান। বেকিং সোডায় প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকায় ত্বকের পি.এইচ লেভেল বজায় রাখে এবং ত্বককে ভাল রাখে, পাশাপাশি এটি চুলকেও ভাল রাখতে সাহায্য করে। জলে মিশিয়ে বেকিং সোডা পান করার কথা হয়ত সবার জানা। তবে, রূপচর্চার ক্ষেত্রে যদি বেকিং সোডার কথা না ভেবে থাকেন তাহলে দেরি না করে দেখে নিন কিছু ঘরোয়া উপায়, যা আপনার চুল ও ত্বক যত্ন নিতে সাহায্য করবে। ত্বকের যত্ন ১) ট্যান দূর করতে রোদের তাপকে উপেক্ষা করে কাজের জন্য সবাইকেই বাইরে বেরোতে হয়। ফলে, ত্বকে ট্যান হওয়া খুব স্বাভাবিক ঘটনা।বেকিং সোডা দিয়ে খুব সহজেই দূর করুন ট্যান। নারকেলের তেল ও পরিমাণ মত বেকিং সোডা নিয়ে এগুলি মিশিয়ে ভাল করে পেস্ট বানিয়ে নিন। এরপর, ট্যানের জায়গাগুলোয় হালকা করে দিয়ে ম্যাসাজ করুন। আপনার ত্বক যদি তেলতেলে হয়, তাহলে নারকেল তেলের বদলে জলের সঙ্গে বেকিং সোডা মেশান এবং একই পদ্ধতিতে ম্যাসাজ করুন। এর ২-৩ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ২) ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে বেকিং সোডা আপনাকে কালো বা শ্যামবর্ণ থেকে ফর্সা করবে না। তবে, এটি আপনার স্কিন টোনটি ধরে রাখবে এবং ত্বককে উজ্জ্বল ও সতেজ রাখতে সাহায্য করবে। কারণ, বেকিং সোডা এক্সফোলিয়েটিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। এক টেবিলচামচ বেকিং সোডা নিন, তাতে পরিমাণমতো জল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। অনেক সময় বেকিং সোডা ত্বককে ড্রাই করে দেয়, তাই অলিভ অয়েল ও লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এরপর মুখে পেস্টটা ভাল করে লাগান এবং ম্যাসাজ করুন। তিন থেকে চার মিনিট ম্যাসাজ করে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ৩) ঘামের গন্ধ দূর করতে ঘামের গন্ধ দূর করতে বেকিং সোডা খুবই উপকারি, এর মাধ্যমে ঘরোয়া উপায়ে খুব সহজেই ঘামের গন্ধ দূর করতে সক্ষম হবেন। বেকিং সোডার সঙ্গে জল মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। এরপর আন্ডারআর্মস-এ মিশ্রণটা ভাল করে এক মিনিট মত ঘষে নিয়ে তা শুকিয়ে যেতে দিন। পরে, তা ধুয়ে ফেলুন। ৪) ব্রণ প্রতিরোধক হিসেবে মুখের ব্রণ ও দাগগুলো বেশ অস্বস্তিকর হয়। এই ব্রণ এবং দাগ, ফুসকুড়ি কমাতে অসাধারণ উপকার করে বেকিং সোডা। বেকিং সোডায় থাকা অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টিসেপটিক উপাদান ব্রণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে এবং দাগহীন ত্বক পেতে সাহায্য করে। বেকিং সোডার সাথে জ্বল বা মধু মিশিয়ে মিশ্রণটি তৈরী করুন। মিনিট তিনেক ব্রণের জায়গায় এটি ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। ৫) ঠোটের কালো ভাব কমাতে ও দাঁত উজ্জ্বল করতে বয়সের সাথে সাথে এবং অত্যাধিক সিগারেট সেবন করলে ঠোঁট কালো হয়ে যায়। ঠোঁটের এই কালো ভাব দূর করতে সহায়ক একমাত্র বেকিং সোডা। মধু এবং বেকিং সোডা মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরী করুন। প্রতিদিন তিন মিনিট করে তা ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন। তারপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে রোজ করলে ঠোঁটের কালোভাব দূর হবে। বয়সের কারণে এবং ভাল করে দাঁত না মাজার ফলে খাবার জমে দাঁতে বিভিন্ন দাগের সৃষ্টি হয়। দাঁতের ওপর থেকে এই দাগ তোলার জন্য বেকিং সোডার ভূমিকা অসাধারণ। এক চিমটি বেকিং সোডা নিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা জল মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি তৈরী করে দাঁতে ঘষতে থাকুন কিছুক্ষন। পরে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। চুলের যত্ন ১) তৈলাক্ত চুলের যত্ন যাদের তৈলাক্ত চুল তাদের খুব সহজেই মাথায় ময়লা জমে। বিশেষ করে মাথার তালুতে। ফলে, অতিরিক্ত ঘাম ও দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। এই সমস্ত কিছু অতি সহজে বেকিং সোডার মাধ্যমে দূর করতে সক্ষম হবেন। পরিমাণ মত বেকিং সোডা ও জলের মিশ্রণ তৈরি করে মাথায় ব্যবহার করুন। চার থেকে পাঁচ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। তবে মাসে এক থেকে দু-বারের বেশি করবেন না। ২) খুশকি দূর করতে মাথায় খুশকি হওয়া বর্তমান দিনে সাধারণ ঘটনা। এটি দূর করতে আমরা বিভিন্ন উপায় প্রয়োগ করে থাকি। এক্ষেত্রে ঘরোয়া উপায়ে বেকিং সোডা খুবই কার্যকর। বোকিং সোডা ও লেবুর রস মিশিয়ে সেই মিশ্রণটি মাথায় ম্যাসাজ করুন বা চুল জল দিয়ে ধুয়ে নিন এবং পরিমান মত বেকিং সোডা নিয়ে মাথায় ঘষতে থাকুন। এক থেকে দু মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একবার করুন। ৩) চুলের শ্যাম্পু বেকিং সোডা ক্ষার প্রকৃতির হওয়ায় চুলের বিভিন্ন ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। চুলের গোড়ার মৃত কোষগুলোকে ঠিক করে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের বৃদ্ধি ঘটায়। নিয়মিত ব্যবহার করলে এটি আপনার চুলকে মজবুত ও লম্বা করে তুলবে। সহজ উপায়ে চুলকে মজবুত করতে ব্যবহার করুন বেকিং সোডা। আপনি যে শ্যাম্পু ব্যবহার করেন তার সাথে এক চিমটি বেকিং সোডা মিশিয়ে মাথায় ব্যবহার করুন। আবার আপেলের রস, ভিনেগারের সাথে বেকিং সোডা মিশিয়ে ব্যবহার করুন। এক থেকে দু মিনিট রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। মজবুত চুল পেতে সপ্তাহে একবার করুন। ৪) চুল পড়া বন্ধ ও নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে স্ট্রেস, দূষণ, খাওয়ায় অনিয়ম ও জলের কারণে অসময়ে চুল পড়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা দেয়। চুল রুক্ষ ও পাতলা হয়ে যাওয়া থেকে থেকে পড়ে যাওয়া, এই সকল সমস্যার সমাধান করবে এই বেকিং সোডায় তৈরী শ্যাম্পু। এক টেবিল চামচ বেকিং সোডার সাথে হাফ কাপ জল মিশিয়ে নিন। তবে, যার যত বড় চুল, সেই পরিমাণ মত মিশ্রণটি বাড়িয়ে নেবেন। এরপর মিশ্রণটি চুলের গোড়ায় লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন। তিন থেকে চার মিনিট রাখার পর উষ্ণ গরম জল দিয়ে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে একবার করুন। সাবধানতা ১) মুখে বা মাথায় বেকিং সোডার মাস্ক বা মিশ্রণ ব্যবহার করার আগে হাত বা পায়ের ত্বকে লাগান। কিছুক্ষণ রাখার পর যদি পুড়ে যাওয়া বা যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতি হয়, তবে দ্রুত ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। মুখে ও মাথায় আর ব্যবহার করবেন না। ২) ত্বকে কাঁটাছেড়া, পোড়া বা ক্ষত থাকলে বেকিং সোডা ব্যবহার করবেন না। ৩) মিশ্রণগুলি মুখে দেওয়ার সময় যেন চোখে না যায়। ৪) যাদের ত্বক খুব সেনসিটিভ তাদের বেকিং সোডা ব্যবহারের ফলে অনেক সময় ত্বক পুড়ে যায় বা লাল র‍্যাশ দেখা দেয়। ৫) নিয়মিত ব্যবহার করবেন না। এতে ত্বক কালো হয়ে যেতে পারে। ৬) অতি অবশ্যই ভাল বিদেশি কোম্পানির বেকিং সোডা ক্রয় করুন এবং অবশ্যই এক্সপায়ার ডেট দেখে নিন।

GET THE BEST BOLDSKY STORIES!

Allow Notifications

You have already subscribed

Source link

Bloating : গ্যাস-অম্বল কমাতে কাজে আসবে এই ৫ ধরনের চা – 5 teas that can help to reduce your bloating

এই সময় জীবন যাপন ডেস্ক: গ্য়াস অম্বল হলে অনেক সময় আমাদের পেট ভার লাগে। মনে হয় পেট যে একেবারে ভর্তি হয়ে রয়েছে, যে কোনও সময় ফেটে যাবে। এর থেকে পেটে ব্যাথা, হাঁশফাঁশ অবস্থা, গা গুলনো হতে পারে। আমরা প্রায় সবাই কখনও না কখনও এই অস্বস্তিকর শারীরিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছি।
পেট থেকে গ্যাস বের করে না ফেলতে পারা পর্যন্ত স্বস্তি মেলে না। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই ওষুধ খেয়ে নেন। কিন্তু যে কোনও ওধুষেরই পার্শপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। তাই ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করে উপকার পাওয়া গেলে তাতেই বেশি লাভ। জেনে নিন গ্যাসের সমস্যায় পাঁচ ধরনের চা-এর কথা। যা আপনাকে গ্যাসের হাত থেকে নিশ্চিত মুক্তি দেবে।
হলুদ চা
বদহজমের যে কোনও সমস্যাতেই হলুদ চা অত্যন্ত উপকারী। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বদহজম ও পেট ফাঁপায় মুক্তি দিতে সহায়ক। হলুদ চায়ের মধ্যে এক চিমটে গোলমরিচ গুড়ো যোগ করে নিলে আরও বেশি উপকার পাবেন।
মৌরি চা
হজম ক্ষমতা ভালো করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে মৌরি খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। এই কারণে অনেকে খেয়েদেয়ে উঠে মৌরি চিবোন। কারণ মৌরির মধ্যে থাকা উপাদান হজমে সহায়ক। মৌরি চা পেটে জমে থাকা গ্যাস বের করে দিতে সাহায্য করে।
পুদিনা চা
পুদিনা পাতা পেটকে ঠান্ডা করে। যে কোনও রকম হজমের সমস্যায় পুদিনা পাতা অত্যন্ত উপকারী। পুদিনা চা পেট থেকে গ্যাস বের করে দিয়ে স্বস্তি দেয়।
ক্যামোমিল চা
গ্যাস, বদহজম, ডায়েরিয়া, বমিভাবের জন্য বহুকাল ধরেই আয়ুর্বেদিক ওষুধে ক্যামোমিলের ব্যবহার রয়েছে। এই ফুলের রস পেটব্যাথা ও হজমের সমস্যায় অত্যন্ত উপকারী। চায়ের মধ্যে ক্যামোমিল মেশালে তা পেট থেকে অতিরিক্ত গ্যাস বের করে দেবে।
আদা চা
পেটের যে কোনও সমস্যায় আদার ভূমিকা লা-জবাব। অনেকে কাঁচা আদাও চিবিয়ে খেয়ে থাকেন। আদা চা খাওয়ার প্রচলন আমাদের মধ্যে যথেষ্ট রয়েছে। শুধু সর্দি-কাশিতে নয়, আদা চা গ্যাস-অম্বলের জন্যও উপকারী।

Source link

তাৎক্ষনিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে এই খাবারগু’লি

রিয়ারের ইদুঁর দৌড়ে যুবক–যুবতী থেকে নব–দম্পতি তাদের একান্ত সময় কা’টানোর কথা ভুলে যাচ্ছেন। কাজের চাপে নিজেদের বৈবাহিক জীবনের আনন্দের স্বাদ ক্রমশ ফিকে হয়ে যাচ্ছে। ‌এনার্জির অভাবে একান্ত সময় না কাটিয়ে অনেকেই জীবনের আদিম সুখ থেকে বিরত থাকছেন এনার্জির অভাবে।অনেক চিকিৎসক থেকে ডায়াটিসিয়ানদের মত, অ’তিরিক্ত কাজের জন্য মানসিক চাপ এবং খাওয়া দাওয়া সঠিকভাবে না করাই এর কারণ। আর এর থেকে রেহাই পেতে ও যৌবনের শক্তি বাড়াতে নারী ও পুরুষ উভ’য়ের সুস্থ জীবনের জন্য পটাসিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন বি–৬, ভিটামিন–এ এবং সি যুক্ত খাবার একান্ত প্রয়োজন। দেখে কিন কোন কোন খাবার খেতে হবে–• স্ট্রবেরি ফলিক অ্যাসিড ও ভিটামিন ‘বি’ এর চ’মৎকার উৎস। নারীদের বন্ধ্যাত্ব কমিয়ে উর্বরতা বাড়িয়ে দেয় এবং পুরুষের যৌন সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে। পুরুষের প্রচুর পরিমাণে শুক্রাণু বৃদ্ধির সহয়তা করে।• মধু খেলে মস্তিস্ক শক্তি লাভ করে। দেহের স্বাভাবিক শক্তি তৈরি হয়। রতি শক্তি বৃদ্ধি হয়।• রসুন‌‌ নিস্তেজ লোকদের মধ্যে যৌ’ন ক্ষমতা সৃষ্টি করে। শুক্রাণু তৈরিতে সাহায্য করে। ‌পাকস্থলী, এ্যাজমা রোগের উপকার সাধন করে।• ‌চকলেটে ইথাইল মাইন নামক উপাদান থাকে। গবেষকেরা যার নাম দিয়েছেন ‘লাভ কেমিক্যাল’। তাই সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্যও নিয়মিত ডার্ক চকলেট খাওয়া যেতে পারে।• শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে পুদিনা পাতার রস খুব সাহায্য করে। স্নানের আগে জলের মধ্যে কিছুক্ষণ পুদিনা পাতা ফেলে রাখু’ন। সেই জল দিয়ে স্নান করলে শরীর ও মন চাঙ্গা থাকে।• সলোমন মাছ ‌খেলে মহিলাদের পিরিয়ড জনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়াও ব্যথা, ক্র্যাম্প, গর্ভে থাকা শি’শুর এবং মস্তিষ্কের রক্ষনাবেক্ষন করতে সাহায্য করে সলোমনে থাকা খাদ্যগুন।• সঠিক ব্যায়াম, একটি স্বাস্থ্যকর খাওয়ানোর নিয়মের পাশাপাশি, ওজন কমানোর বা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।• আভাকাডো হচ্ছে স্বাস্থ্যকর খাদ্য যা ওজন নিয়ন্ত্রণের সাথে সাহায্য করে। আভাকাডো ফলিক অ্যাসিড, লিবডো বুস্টিং ভিটামিন–সি ভরপুর। এই খাদ্য দম্পতিদের যৌ’ন জীবন সুস্থ করতে সাহায্য করে।

শীতে ঠান্ডা পানির গোসলে উপকারিতা

শীত এলেই সবার মাঝে গোসল নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভ’য় কাজ করে। গোসলের সময় এলেই যেন ভ’য়ে কাবু! কারণ হিম হিম এই আবহাওয়ায় পানিও ভীষণ ঠান্ডা হয়ে থাকে। তাই বলে তো গোসল না করেও থাকা যায় না। আর তাইতো শেষমেশ দ্বারস্থ হতে হয় গরম পানির। কিন্তু আপনি জানেন কি, ঠান্ডা পানিতে গোসল করার রয়েছে অনেক উপকারিতা। তাই একটু ক’ষ্ট করে হলেও ঠান্ডা পানিতে গোসলটা সেরে নিন-ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে দে’হের র’ক্ত প্রবাহমাত্রা যেমন বেড়ে যায়। ঠিক তেমনি ঠান্ডা পানির স্প’র্শ পেলেই ত্বক সংকুচিত হয়ে আসে। কারণ এই সময় ত্বক কিছুটা তাপমাত্রা হারায়। ফলে র’ক্ত চলাচল কিছুটা ধীর গতিতে হওয়ার কারণেই র’ক্তচাপ বেড়ে যায় এবং শিরা-উপশিরায় দ্রুত গতিতে ধাবিত হতে থাকে। ঠান্ডা পানি গায়ে ঢাললে শীত লাগে। এর কারণ হলো, ত্বক তার স্বাভাবিক তাপমাত্রা হারায়।বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য দে’হ নিজেই তাপ উৎপন্ন করে। এর জন্য শরীরে সঞ্চিত কার্বোহাই’ড্রেট পোড়াতে হয়। এছাড়া ঠান্ডা পানির গোসলে প্রতিরো’ধক ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। পেশির ক্ষত নিরাময়েও সাহায্য করে কনকনে ঠান্ডা পানিতে গোসল। ঠান্ডা পানি মুহূর্তেই দে’হের সতেজতা ফিরিয়ে আনে। এতে অনিদ্রা রোগের উপশম হয়। দে’হের অস্বস্তিকর উত্তে’জনা প্রশমিত হয় এবং স্নায়বিক দুর্বলতা দূর হয়। ঠান্ডা পানির গোসলে অনেক পুরনো ব্যথা হ্রাস পায়।-পূর্বকোণvvvvv

ইসবগুলের ভূষিতে ৮টি উপকারিতা এবং সতর্কতা

ইসবগুলের ভূষিতে ৮টি – ইসবগুল বা ইসবগুলের ভূষি (Ispaghula husk) আমাদের দেশে কনস্টিপেশনের চিকিৎসায় একটি বহুল ব্যবহৃত পণ্য। অনেকেই আম’রা রোযা’র সময় শরবতের সাথেও এটি খাই।এর মূল উপাদান মিউসিলেজিনাস পলিস্যাকারাইড। এরা আমাদের অন্ত্র বা ইন্টেসটাইনে পানি শোষণ করে ফুলে যেয়ে পরিমাণে বৃদ্ধি পায় (নিজের ওজনের ৪০ গুণ পর্যন্ত) এবং এভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। এছাড়াও এর অনেক ধরনের উপকারিতা রয়েছে। চলুন তাহলে একে একে জেনে নিই ইসবগুলের ভুষির আরো অনেক উপকারিতা।১. কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণেইসবগুলের ভুষিতে থাকে কিছু অদ্রবণীয় ও দ্রবণীয় খাদ্যআঁশের চ’মৎকার সংমিশ্রণ যা কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য খুব ভালো ঘরোয়া উপায় হিসেবে কাজ করে। ইসবগুলের ভুষি পাকস্থলীতে গিয়ে ফুলে ভেতরের সব বর্জ্য পদার্থ বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে। প্রাকৃতিকভাবে জলগ্রাহী হওয়ার কারনে পরিপাকতন্ত্র থেকে পানি গ্রহণ করে মলের ঘনত্বকে বাড়িয়ে দিয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ২ চামচ ইসবগুল এক গ্লাস কুসুম গরম দুধের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন ঘুমাতে যাবার আগে পান করে নিন।২. ডায়রিয়া প্রতিরোধেযদিও শুনলে অ’বাক লাগে, ইসবগুল একই সাথে ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দুটিই প্রতিরোধ করতে সক্ষম। ডায়রিয়া প্রতিরোধে ইসবগুল দইয়ের সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। কারণ দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক পাকস্থলীর ইনফেকশন সারায় এবং ইসবগুল তরল মলকে শক্ত করতে সাহায্য করে খুব কম সময়ের মাঝে ডায়রিয়া ভালো করতে পারে। ডায়রিয়া প্রতিরোধে ২ চামচ ইসবগুল ৩ চামচ টাট’কা দইয়ের সাথে মিশিয়ে খাবার পর খেতে হবে। এভাবে দিনে ২ বার খেলে বেশ কার্যকরী ফলাফল পাওয়া সম্ভব।৩. অ্যাসিডিটি প্রতিরোধেবেশির ভাগ মানুষেরই অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকে আর ইসবগুলের ভুষি হতে পারে এই অবস্থার ঘরোয়া প্রতিকার।ইসগুল খেলে তা পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে একটা প্রতিরক্ষা মূলক স্তর তৈরি করে যা অ্যাসিডিটির বার্ন থেকে পাকস্থলীকে রক্ষা করে। এছাড়া এটি সঠিক হ’জমের জন্য এবং পাকস্থলীর বিভিন্ন এসিড নিঃসরণে সাহায্য করে।ইসবগুল অ্যাসিডিটিতে আক্রান্ত হওয়ার সময়টা কমিয়ে আনে। প্রতিবার খাবার পর ২ চামচ ইসবগুল আধা গ্লাস ঠাণ্ডা দুধে মিশিয়ে পান করুন। এটি পাকস্থলীতে অ’ত্যাধিক এসিড উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে অ্যাসিডিটির মাত্রা কমায়।৪. ওজন কমাতেওজন কমানোর উদ্দেশ্যকে সফল করতে ইসবগুলের ভুষি হচ্ছে উত্তম হাতিয়ার। এটি খেলে বেশ লম্বা সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয় এবং ফ্যাটি খাবার খাওয়ার ইচ্ছাকে কমায়। এছাড়াও ইসবগুলের ভুষি কোলন পরিষ্কারক হিসেবেও পরিচিত।এটি পাকস্থলী থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে, হ’জম প্রক্রিয়াকে আরো বেশি কার্যকর করে স্বাস্থ্যবান থাকতে সাহায্য করে। ভেষজ শাস্ত্র অনুযায়ী এটি পাকস্থলীর দেয়ালে যেসব বর্জ্য পদার্থ থাকে তা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে যা অন্যান্য হ’জমজনিত সমস্যাও দূর করে। কুসুম গরম পানিতে ২ চামচ ইসবগুলের ভুষি ও সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে নিয়ে ভাত খাবার ঠিক আগে খেতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে খেলেও তা ওজন কমাতে সাহায্য করবে।৫. হ’জমক্রিয়ার উন্নতিতেদ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় খাদ্যআঁশে ভরপুর ইসবগুলের ভুষি হ’জম প্রক্রিয়াকে সঠিক অবস্থায় রাখতে সাহায্য করে।এটি শুধু পাকস্থলী পরিষ্কার রাখতেই সাহায্য করে না এটি পাকস্থলীর ভেতরের খাবারের চলাচলেও এবং পাকস্থলীর বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনেও সাহায্য করে।তাই হ’জম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে নিয়মিতভাবে ইসবগুল খেতে পারেন। এছাড়া মাঠা বা ঘোলের সাথে ইসবগুল মিশিয়ে খেতে পারেন ভাত খাওয়ার পরপরই। তবে একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে তা হল ইসবগুল মিশিয়ে রেখে না দিয়ে সাথে সাথেই খেয়ে ফেলতে হবে।৬. হৃদস্বাস্থ্যের সুস্থতায়ইসবগুলের ভুষিতে থাকা খাদ্যআঁশ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে যা আমাদেরকে হৃদরোগের থেকে সুরক্ষিত করে।হৃদরোগের সুস্থতায় ইসবগুল সাহায্য করে কারন এটি উচ্চ আঁশ সমৃদ্ধ এবং কম ক্যালরিযুক্ত। ডাক্তাররা সব সময় হৃদরোগ প্রতিরোধে এমন খাবারের কথাই বলে থাকেন।এটি পাকস্থলীর দেয়ালে একটা পাতলা স্তরের সৃষ্টি করে যার ফলে তা খাদ্য হতে কোলেস্টেরল শোষণে বাধা দেয় বিশেষ করে র’ক্তের সিরাম কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। এছাড়াও এটি র’ক্তের অ’তিরিক্ত কোলেস্টেরল সরিয়ে দেয় যা থাকলে ধমনীতে ব্লকের সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলে তা হৃদরোগ এবং কোরোনারী হার্ট ডিজিজ থেকে আমাদের রক্ষা করে। তাই হার্ট’কে সুস্থ রাখতে নিয়মিত ভাবে খাবারের ঠিক পরে বা সকালে ঘুম থেকে উঠে ইসবগুল খান।৭. ডায়াবেটিস প্রতিরোধেইসবগুলের ভুষি যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য খুবই ভালো। এটি পাকস্থলীতে যখন জে’লির মত একটি পদার্থে রূপ নেয় তখন তা গ্লুকোজের ভাঙন ও শোষণের গতিকে ধীর করে। যার ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে। খাবার পর নিয়মিতভাবে দুধ বা পানির সাথে ইসবগুলের ভুষি মিশিয়ে পান করুন ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে।তবে দইয়ের সাথে মিশিয়ে খাবেন না এতে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।৮. পাইলস প্রতিরোধেপ্রাকৃতিক ভাবে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় খাদ্যআঁশে ভরপুর ইসবগুলের ভুষি যারা পায়ুপথে ফাটল এবং পাইলসের মত বেদনাদায়ক সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য উত্তম। এটা শুধু পেট পরিষ্কার করতেই সাহায্য করেনা মলকে নরম করতে সাহায্য করে অন্ত্রের পানিকে শোষণ করার মাধ্যমে এবং ব্যাথামুক্ত অবস্থায় তা দেহ থেকে বের হতেও সাহায্য করে। এটি প্রদাহের ক্ষত সারাতেও সাহায্য করে। ২ চামচ ইসবগুল কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে ঘুমাতে যাবার আগে পান করুন।সতর্কতা:১. এটি শুধুমাত্র উল্লেখিত সমস্যা গুলোর ঘরোয়া সমাধান। যদি খুব বেশি গুরুতর অবস্থা হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরাম’র্শ নিন।২. ইসবগুল কেনার সময় দেখে নিন৩. ইসবগুলের ভুষি আমাদের দেশে বাজার থেকে শুরু করে সুপার মা’র্কেট সব জায়গাতেই বেশ সহ’জলভ্য। তবে কেনার আগে কিছু ব্যাপার অবশ্যই খেয়াল রাখবেন-ক. প্যাকেটজাত ইসবগুল কিনুন। খ. কখনোই খোলা ইসবগুল কিনবেন না সেগুলো নষ্ট ও ভেজাল থাকতে পারে যার ফলে এটি খেয়ে হয়তো ভালো ফলাফল নাও পেতে পারেন।৪. আজকাল প্যাকেটজাত বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম স্বাদের ইসবগুলের ভুষিপাওয়া যায়। তবে ভালো ফলাফল পেতে গেলে এসব কৃত্রিম স্বাদের ইসবগুল না খেয়ে সাধারণ ইসবগুল খান।৫. বিভিন্ন দোকানে সাধারন ইসবগুলে কৃত্রিম স্বাদ ও রঙ যোগ করে বিশেষ কার্যকারিতার কথা বলে তা বিক্রয় করা হয় যা মূলত স্বাস্থ্যের জন্য খুবই খা’রাপ। তাই সাধারণ ইসবগুলের ভুষি খাওয়াই সবচেয়ে উত্তম।৬. ডায়েবেটিস রোগীদের ইসুবগুলের ভুসি চিনি ছাড়া খেতে হবে।৭. কিডনি রোগীদের জন্যও ইসবগুলের ভুসি না খাওয়ার পরাম’র্শ দেওয়া হয়।৮. নিন্ম র’ক্তচাপের রোগীদের জন্য ইসবগুলের ভুসি না খাওয়ার পরাম’র্শ দেওয়া হয়।৯. কিছু অ্যালার্জি রোগী এটি সহ্য করতে পারে না। তাদের ক্ষেত্রে এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ।পুষ্টিবিদ শওকত আরা সাঈদা(লোপা)

শীতে গরম না-কি ঠাণ্ডা, কয় লিটার পানি পান করবেন?

শীতে কি আপনি দিনে দুই তিন লিটার পানি পান করে থাকেন? ভাবতে নিশ্চয়ই সময় নিচ্ছেন! যদি পান করেন তবে তো ভালো কথা। তবে শীতে আম’রা অনেকেই পানি কম পান করি। এসময় শরীর এমনিতেই শুষ্ক থাকে আর কম পানি পানের জন্য আরো শুষ্ক হয়ে যায়।যদি শীতে ঠাণ্ডা পানি পান করতে ভয় করে তবে না হয় গরম পানিই পান করুন। এর স্বাস্থ্যপোকারিতাও কিন্তু অনেক। এক গ্লাস গরম পানি পান করে দিন শুরু করলে হ’জম সহ’জ হয়। তবে বেশি গরম নয়, ৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মাঝে তাপমাত্রা রাখতে হবে। এবার জেনে নিন শীতে দেখে নিন গরম পানি পানের উপকারিতাগুলো-ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেঅন্য কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু গরম পানি পান করলে আপনার ওজন কমবে না। তবে ডায়েট ও ব্যায়ামের পাশাপাশি নিয়মিত গরম পানি পান করলে ওজন কমে। প্রতিদিন এক গ্লাস গরম পানিতে, মধু, আদা মিশিয়ে খেলে মিলবে উপকার। এছাড়া এতে পেট ফাঁপা রোধ হয়।সাইনাস পরিষ্কার হয়শীতে সাইনাসের সমস্যা আরো বেড়ে যায়। এজন্য ছোট পাত্রে পানি গরম করে মাথায় তোয়ালে ঢেকে নিন। অন্তত পনেরো মিনিট টানা গরম পানিতে ভাপ নিন। গরম পানির কারণে সর্দি পাতলা হয়ে আসে এবং শরীর থেকে দ্রুত বের হয়ে যায়।দাঁতের উপকারে আসেআসল ও নকল- দুই ধরণের দাঁতের জন্যই গরম পানি উপকারী। ঠাণ্ডা পানি পান করলে অনেক সময় দাঁতের ফিলিং দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। অবশ্য খুব বেশি গরম পানিও ক্ষতি করে। দাঁত ভালো রাখতে কুসুম গরম পানি পান করুন।হ’জমে সহায়কগরম পানি পান করার ফলে র’ক্তনালিকাগুলো প্রসারিত হয় এবং হ’জমে সহায়তা করে। সকালে খালি পেটে গরম পানি পান করলে তা পরিপাকতন্ত্রকে উত্তপ্ত করে এবং এর আশেপাশের র’ক্তনালিকাগুলোকে সচল করে। এরপর খাবার খাওয়া হলে তা সহ’জে হ’জম হয়।শরীর থেকে ট’ক্সিন দূর করেশরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বাড়ায় গরম পানি। এতে শরীর ঘামে, ফলে শরীর থেকে বিষাক্ত ও বর্জ্য পদার্থের নির্গমন ত্বরান্বিত হয়। গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া গ্রিন টি ও পান করতে পারেন।ব্যথা কমায়ঠাণ্ডা পানি পান করলে পেশী টানটান হয়ে আসে, অন্যদিকে গরম পানি পান করলে পেশীতে র’ক্ত চলাচল বাড়ে এবং পেশী শিথিল হয়। জয়েন্টের ব্যথা থেকে শুরু করে পিরিয়ডের ক্র্যাম্প, সব ধরণের ব্যথা কমাতে কাজে আসে গরম পানি। এছাড়া ঘুমাতে যাবার আগে পানি পান করাটাও শরীর ঝরঝরে এবং ব্যথামুক্ত রাখে।র’ক্ত চলাচল ভালো করেগরম পানিতে গোসল করাটা যেমন র’ক্ত চলাচলের জন্য উপকারী, তেমনি গরম পানি পান করাটাও উপকারী। এতে র’ক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদযন্ত্র থাকে সুস্থ।শীতে কে কতটুকু পানি পান করবেন:আমাদের শরীরের ৭০ ভাগের বেশিই হচ্ছে পানি, এজন্য সারাবছরই পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। তবে স্বাভাবিক পানির চাহিদা কিন্তু একেক জনের আলাদা।যেমন, শি’শুদের, পুরুষ ও নারীর পানির চাহিদাও ভিন্ন। আবার যারা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন, নিয়মিত ব্যায়াম করেন তাদের অন্যদের তুলনায় বেশি পানি পান করতে হবে।> নারীদের প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ গ্লাস> ব্যায়াম বা ভারী কাজ করেন এমন নারীরা ৮ থেকে ১০ গ্লাস> পুরুষের জন্য ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানিই যথেষ্ট, তবে যারা অ’তিরিক্ত পরিশ্রম করেন তারা ১০ থেকে ১৪ গ্লাস পানি পান করুন।