জহির খান ও রাহুল দ্রাবিড়কে কোচিং প্যানেলের সদস্য বানিয়ে রবি শাস্ত্রীর মুখ বন্ধ করে দিয়েছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী। এতে শাস্ত্রীর ওপর সৌরভের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকত। তবে এত সহজে গাঙ্গুলীর ফাঁদে পা দেওয়ার ব্যক্তি তো নন ভারতীয় সাবেক এই অধিনায়ক। কোচ হিসেবে যোগ দিয়েই রাহুল দ্রাবিড় ও জহিরের চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এরপর বোর্ড জানায়, জহির ও দ্রাবিড়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি এখনো হয়নি। শোনা যায়, বছরে ১৫০ দিন বোলিং উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাবেন জহির। আবার দ্রাবিড়ের বিষয়টিও গোলমেলেই রয়েছে এখন। এবার  নিজের সবচেয়ে বড় চালটা চাললেন শাস্ত্রী। শচীন টেন্ডুলকারকে দলের পরামর্শক হিসেবে চাইলেন তিনি।

কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর নিজের পছন্দের স্টাফ নিয়োগ দেন রবি শাস্ত্রী। বোলিং কোচ হিসেবে ভারত অরুণ, সহকারী ব্যাটিং কোচ হিসেবে সঞ্জয় বাঙ্গার আর ফিল্ডিং কোচ হিসেবে শ্রীধরকে নিয়েছেন শাস্ত্রী। এরপরই পরামর্শক হিসেবে শচীনকে চেয়ে বসেন তিনি। মঙ্গলবার বিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সি কে খান্না, ভারপ্রাপ্ত সচিব অমিতাভ চৌধুরী এবং ক্রিকেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সিওএ) সদস্য দিয়ানা ইদুজির সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাব করেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের নবনিযুক্ত এই কোচ। ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে দ্রাবিড়ের নিয়োগ যেহেতু এখনো নিশ্চিত নয়, আর ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও আইপিএলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন রাহুল দ্রাবিড়। ভারতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত হতে হলে তাঁকে অনূর্ধ্ব ১৯ ও আইপিএলের দলের পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। সেই কারণেই শচীনকে স্বল্প মেয়াদে পরামর্শক হিসেবে চাইলেন শাস্ত্রী। এতে করে সৌরভ গাঙ্গুলীর ওপরও শাস্ত্রীর খানিকটা প্রভাব থাকবে।

শোনা যাচ্ছে, স্বল্প মেয়াদে ভারতীয় দলের সঙ্গে কাজ করতে চান না জহির খান। কারণ এমনটা করতে হলে তাঁকেও অন্য সব চুক্তি থেকে সরতে হবে। অন্যদিকে শচীনের বিষয়েও শাস্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ক্রিকেট বোর্ড। এমনকি শচীনও এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। মাস্টার এই ব্যাটসম্যান যদি শাস্ত্রীর প্রস্তাব গ্রহণ করেন তাহলে তাঁকে ক্রিকেট অ্যাডভাইজরি কমিটি, আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের পরামর্শক পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে। এখন দেখা যাক, কোথাকার জল কোথায় গড়ায়।

Comments

comments