সত্যিকার ভূতুড়ে কিছু মন্দির

ভূতে বিশ্বাস করা বা না করা আপনার উপরে। কিন্তু বাস্তবেই যে বিশ্বের বহু স্থানে ভূতুড়ে কাণ্ডকারখানা দেখা যায়, সে বিষয়ে কারো সন্দেহ নেই। ভারতেও রয়েছে কয়েকটি ভূতুড়ে মন্দির। এ লেখায় পাচ্ছেন তেমন কিছু ভূতুড়ে মন্দিরের কথা।

১. মাহেন্দিপুর বালাজি মন্দির, রাজস্থান
এই মন্দিরটিতেই বোধহয় সবথেকে বেশি উদ্ভট কাজকারবার হয়। ভারতে একমাত্র এই মন্দিরটিতেই এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে ঝাড়ফুঁক করা হয়। রাজস্থানের দৌসা জেলার এই মন্দিরটিতে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত ভিড় করে বিভিন্ন অদ্ভুত উপায়ে প্রায়শ্চিত্ত করেন। কেউ নিজেদের গায়ে গরম জল ঢালেন, তো কেউ আবার নিজেদের দেওয়ালের সঙ্গে চেন দিয়ে বেঁধে রাখেন। অনেকেরই ধারণা, এই মন্দিরটির চারপাশে প্রচুর অশুভ আত্মা রয়েছে। সবমিলিয়ে ভীষণ গা ছমছম পরিবেশ।

২. শ্রী কাস্তাভঞ্জন দেব হনুমানজি মন্দির, গুজরাট
হনুমানের পুজোর জন্য ভক্তরা এলেও অনেকেই মনে করেন, এই মন্দিরে এলে অশুভ শক্তির নজর এবং অতৃপ্ত আত্মাদের হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যায়।

৩. হজরত সইদ আলি মিরা দাতার দরগা, গুজরাট
গুজরাটের উনিভা গ্রামের এই দরগাটিতে মানুষ ভূত তাড়াবার জন্য আসে। এমনকী, যাঁদের উপরে দীর্ঘদিন ধরে ভূতে ভর করেছে বলে তাঁদের প্রিয়জনেরা মনে করেন, তাঁদেরকেও এখানে ভূত তাড়াবার জন্য নিয়ে আসা হয়। সব ধর্মের মানুষই এখানে আসেন। আর ভূত তাড়ানোর সেই পদ্ধতিগুলিই আপনাকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

৪. দেবী মহারাজ মন্দির, মধ্য প্রদেশ
এই মন্দিরে ঢুকলেই আপনার গায়ে লোম খাড়া হয়ে যেতে বাধ্য। মন্দিরের মধ্যে অনেককেই উদভ্রান্তের মতো ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। যাঁরা ছোটাছুটি করেন, তাঁদের নাকি ভূতে ধরেছে। ভূত তাড়ানোর জন্যই মন্দিরের মধ্যে ঘুরে বেড়ান তাঁরা। অনেকে আবার হাতের তালুর উপরে কর্পূর রেখে আগুন জ্বালিয়ে ঘুরে বেড়ান। প্রতি বছর এই মন্দিরে একটি ভূত মেলারও আয়োজন করা হয়।

৫. দত্তাত্রেয় মন্দির, মধ্যপ্রদেশ
মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলার গঙ্গাপুরের এই মন্দিরটিতে যাঁরা ভূত তাড়াতে আসেন, তাঁরাই মন্দিরের আরাধ্য দেবতাকে উদ্দেশ্য করে গালাগাল করতে থাকেন। মানুষ চিৎকার করেন, নানা রকমের অপ্রকৃতিস্থ আচরণ করেন। যাঁদের ভূতে ধরে, তাঁরা মন্দিরের একটা নির্দিষ্ট অংশে রাখা লোহার কাঠামোর উপর থেকে ঝুলতে থাকেন। অনেকে আবার মন্দিরের দেওয়ালের গা বেয়ে ওঠার চেষ্টা করেন।

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *