হাইলাইটসশরীর ও মন সুস্থ রাখতে হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হয়ে চলেছে সূর্য নমস্কার বা সূর্যের উপাসনা। ভারতীয় যোগশাস্ত্র বলছে, সূর্যের কিরণ সকল রোগের জীবাণু থেকে সব বস্তুকে বিশুদ্ধ করে। সূর্য নমস্কার আসন ও ব্যায়ামের সমন্বয়ে সৃষ্ট। এটি অভ্যাসের ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা বাড়ে। এই সময় অ্যাস্ট্রো ডেস্ক: শরীর ও মন সুস্থ রাখতে হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহৃত হয়ে চলেছে সূর্য নমস্কার বা সূর্যের উপাসনা। ভারতীয় যোগশাস্ত্র বলছে, সূর্যের কিরণ সকল রোগের জীবাণু থেকে সব বস্তুকে বিশুদ্ধ করে। সূর্য নমস্কার আসন ও ব্যায়ামের সমন্বয়ে সৃষ্ট। এটি অভ্যাসের ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা বাড়ে। তাই সুস্থ শরীর পেতে প্রতিদিন সূর্য নমস্কার করুন। সূর্যদেব সংসৃষ্ট, পরিবর্ধিত ও পুঞ্জীভূত রোগের জীবাণু থেকে বস্তুসমূহকে বিশুদ্ধ করে। সূর্য নমস্কার আসন ও ব্যায়ামের সমন্বয়ে সৃষ্ট। এটি অভ্যাসের ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, পরিপাকযন্ত্র, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস এবং স্নায়ুমণ্ডলীর সবলতা, যকৃতের গোলমাল, বহুমুত্র, সর্দিকাশি, হাঁপানি, বুক ধড়ফড়ানি, হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের ক্রিয়াবৈষম্য, মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের দুর্বলতাজনিত রোগসমূহ, সামান্য শ্রমে বেশি কাতরতা ইত্যাদি নিরাময় হয়।এর মাধ্যমেই পুরো শরীরকে ওয়ার্ম আপ করা হয়৷ বাকি যোগা করার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করা হয়৷ সূর্য নমস্কার বা প্রণাম করেই এই যোগার শুরু৷ এর অর্থই হল সূর্যের প্রতি নিজের প্রণাম জানিয়ে শ্রদ্ধা জানানো৷ মোট বারোটি আলাদা আলাদা অঙ্গবিন্যাস৷ যার প্রতিটির আলাদা আলাদা উপকারিতা রয়েছে৷ এই সূর্যনমস্কারেই শরীরকে সব থেকে বেশি স্ট্রেচ করা যায়৷ একমাত্র এই একটি আসনেই সারা শরীরের প্রসারণ হয়৷ এই আসন করার নিয়ম হল এটি খালি পেটে করতে হয়৷ এবং সঠিক সময় হল ভোর বেলা অথবা রাতে ডিনার করা আগে৷ তবে আপনার হাই ব্লাড প্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপ এবং কোমরে ব্যথা বা স্লিপ ডিস্কের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিন আগে৷ কী ভাবে এই আসন অভ্যাস করবেন, জেনে নিন।সূর্য নমস্কারপদ্ধতি: * প্রথমে হাত জোড় করে নমস্কার করার ভঙ্গিতে দাঁড়ান। * হাতের তালুতে তালুতে খুব জোরে চাপুন যাতে বুকের পেশি শক্ত হয়। তার পর এই চাপ বজায় রেখে অর্ধচন্দ্রাসনের ভঙ্গিতে হাত তুলে পেছনে বেঁকান। * ওখান থেকে সামনে ঝুঁকে হাতপায়ের সামনে মাটিতে রেখে পদহস্তাসন করুন। * এই অবস্থায় হাঁটু ভেঙে বসে পড়ুন। * ওই অবস্থায় ডান পা পেছনে সোজা করে দিন। * এ বার হাঁটু থেকে মাথা তুলে সামনের দিকে তাকান। * বাঁ পা পেছনে সোজা করে দিন। * এ বার ডনের ভঙ্গিতে হাতের জোরে নামুন। * ডন থেকে আস্তে আস্তে উঠুন। * বাঁ পা পূর্বের ভঙ্গিমায় ভাঁজ করে সামনে নিয়ে আসুন। * মাথা নামান। * ডান পা ভাঁজ করে সামনে নিয়ে আসুন। * নিতম্ব গোড়ালিতে লাগিয়ে বসুন। * আবার নিতম্ব তুলে সোজা রেখে পদহস্তাসন করুন। * এ বার হাত তুলে অর্ধচন্দ্রাসনের ভঙ্গিতে পেছনে বেঁকান। * সেখান থেকে সোজা হয়ে হাত জোড় করে নমস্কার করার ভঙ্গিতে ফিরে আসুন। এই ভাবে স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস রেখে তিন বার থেকে ক্রমশ বাড়িয়ে ছ’ বার অভ্যাস করুন। নিয়মিত সূর্য নমস্কার অভ্যাস করলে পরিপাকযন্ত্র, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস এবং স্নায়ুমণ্ডলী সবল হয়। যকৃতের গোলমাল, বহুমূত্র, সর্দিকাশি, হাঁপানি, বুক ধড়ফড়ানি, মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের দুর্বলতাজনিত সব সমস্যার নিরাময় হয়। যারা অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তাঁদের জন্যও সূর্য নমস্কার অত্যন্ত উপযোগী। দেখে নিন সেগুলি কী কী-১) সূর্য প্রণাম এর প্রথম ধাপে নমস্কারের ভঙ্গিতে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হয়। কারণ এতে আমাদের মন ও শরীর শান্ত হয়। এবং পরের আসনগুলি করার জন্য প্রস্তুত হওয়া যায়।২) দ্বিতীয় আসনে হাত দুটি মাথার ওপর তুলে স্ট্রেচ করতে হয়। এতে শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে।৩) এরপর ধীরে ধীরে সামনের দিকে ঝুঁকে পায়ের আঙ্গুল ধরার চেষ্টা করতে হবে। এই আসনটি করলে শিরদাঁড়া ঠিক থাকে। এবং হজম ক্ষমতা ও বৃদ্ধি পায়।আরও পড়ুন: ইউরিক অ্যাসিড শরীরকে অকেজো করে দিচ্ছে? ৫ ঘরোয়া টোটকায় জানুন বাঁচার উপায়!৪) চতুর্থ আসনটি করলে আপনার পায়ের পেশির সঙ্গে পেটের পেশির উন্নতি ঘটে।৫) পঞ্চম আসনটি করলে শরীরের রোগ নিরাময় ক্ষমতা বেড়ে যায়।৬) ষষ্ঠ আসনে কাঁধ ও বুকের ওপর চাপ পরায় শরীরের গঠন সুন্দর হয়।৭) সপ্তম ভঙ্গিটি পুশ আপের মতো হওয়ায় এতে হাত-পা ও বুক ঠিক থাকে।৮) অষ্টম আসনটি বুকের পেশির সাথে সাথে শিরদাঁড়ার কার্যক্ষমতা বাড়ায়।৯) নবম আসনটি হাত ও পা এর পক্ষে খুবই উপকারী।১০) দশম আসনটি চার নম্বর আসনের মতো এবং এর উপকারিতাও একই।এই সময় ডিজিটালের লাইফস্টাইল সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন এখানে।

Source link

Comments

comments