Tag Archives: বোলপুর

Birbhum: বোলপুরের অতীত থেকে বর্তমান – famous tourist destinations in birbhum

হাইলাইটসরবি ঠাকুর ও তার গান, ব্রাহ্মসমাজ, বোলপুরের অতীত থেকে বর্তমান সব কিছু বিষয় নিয়েই আড্ডা চলছিল। এই সময় উঠল ডাঙ্গালী কালি মন্দিরের কথা। আমিতো শুনতে শুনতে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছিলাম না। পার্থময় চ্যাটার্জীবলিপুর থেকে বোলপুর, শান্তিনিকেতন কিভাবে হল সেই গল্পটা আগেই করা উচিত ছিল আমার। সন্ধ্যার আড্ডা বেশ জমে উঠেছিলো রতন পল্লীর অজিতের চপ মুরির দোকানে। শান্তিনিকেতন আসব আর রতন পল্লীর চপ বা কালো দার চা খাবনা সেটা ভাবতেই পারিনা। শীতের সন্ধ্যা আড্ডা। প্রকৃতির উষ্ণতা তখন ৭ কি ৮ ডিগ্রী হবে। মাঝে মাঝে গঙ্গোত্রী কবিতায় শুভ্রা ও চন্দ্রা গানে, আড্ডায় একটা আলাদা মহল তৈরি করেছিল। রবি ঠাকুর ও তার গান, ব্রাহ্মসমাজ, বোলপুরের অতীত থেকে বর্তমান সব কিছু বিষয় নিয়েই আড্ডা চলছিল। এই সময় উঠল ডাঙ্গালী কালি মন্দিরের কথা। আমিতো শুনতে শুনতে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছিলাম না। সত্যি, এতদিন ধরে বোলপুর এর সঙ্গে মিশছি আর এই প্রসিদ্ধ স্থানটিকে দেখা হয়নি! কাউকে কিছু না জানিয়ে, একটা টোটো ভাড়া করে রওনা দিলাম ডাঙ্গালী কালি বাড়ির উদ্দেশ্যে। বোলপুর স্টেশন এর ৩ নম্বর প্লাটফর্ম লাগোয়া এই কালি থান। রেল ব্রিজ টপকে ডান হাতি রাস্তা। যখন পৌঁছালাম তখন সব কিছু শুনশান, নিস্তব্ধ মন্দিরে একজন পুরোহিত ধ্যান করছিলেন। আমি মন্দির সম্পর্কে জানার ইচ্ছা প্রকাশ করাতে উনি মন্দিরের প্রধান পুরোহিত মহাশয় চান্দ্রকুমার মিশ্রকে ডেকে আনলেন। ৫৫ কি ৫৬ বছরের যুবক এই চন্দ্রবাবু,১৯৬৬ সাল মানে ৪ বছর বয়স থেকে মন্দিরের পুজো করছেন। অতি সজ্জন ব্যক্তি। অসম্ভব জ্ঞান আধ্যাত্মিক জগতের উপর। এই মন্দিরের নাম ডাঙ্গালী কালি মন্দির কিন্তু এখানে মা নিরাকার। মন্দিরের বয়স কেউই সঠিক জানেন না। বহু বছর আগে এখানে একটা বিশাল বটগাছ ছিল আর এই বটগাছের গুড়িটার আকৃতি ছিল মা কালির মতো, একটা টিনের চলা ছিল আর ছিল অসংখ্য বিষধর সাপ, যার বেশির ভাগই খরিশ সাপ। বটগাছের গুড়িটার একটা অংশ এখনো দেখা যায় । লোহার রেলিং এ ঘেরা। একটা গা ছম ছম পরিবেশ।সুরজ রাজার সময় থেকেই এই বলি শুরু হয় প্রাণী বলি দিয়ে। কথিত আছে, এই সুরোজ রাজা এক লাখ প্রাণী বলি দিয়েছিলেন একই দিনে আর বোলপুরের মাটি রং লাল হয়ে গেছিলো এই বলির রক্তে। বোলপুরের পূর্বের নাম ছিল বলিপুর। ব্রিটিশ, ফরাসি এরা এখানে নীলচাষ করতে এসেছিল। এই মাটি বিপ্লবের জন্ম ভূমি, অসহযোগ আন্দোলন থেকে শুরু করে ভারত ছাড়ো আন্দোলন, সবেতেই বোলপুর এক বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন। মহাত্মা গান্ধী,নেতাজি সুভষচন্দ্র বোস, এনাদের মত বিপ্লবীরা এই বোলপুরে পা রেখেছিলেন।কালী মন্দিরআবার ফিরে যাচ্ছি ডাঙ্গালী কালি মন্দির প্রসঙ্গে। ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর নিভৃতে ঈশ্বরচিন্তা ও ধর্মালোচনার উদ্দেশ্যে বোলপুরে একটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৯১ সালে মহর্ষিদেব এই আশ্রমের উপাসক হিসেবে অচ্যুতানন্দ পণ্ডিত কে নিয়োগ করেন আর এই আর্য্যসমজের পণ্ডিত পরবর্তী কালে এই ডাঙ্গালী কালি মন্দিরের পুরোহিত হন। বোলপুরের কাছারি পট্টির স্মৃতিকণ্ঠ চট্টোপাধ্যায় এর পরিবার এই মন্দিরের দায়িত্বে আছেন। পন্ডিত অচ্যুতানন্দ মিশ্র বিহার এর বেদৌড়ি গ্রাম থেকে এসেছিলেন। চাঁদ কুমার মিশ্র ওনারই নাতি, যিনি এখন এই মন্দিরের প্রধান পুরোহিত।বোলপুরের কারো ঘরে বিয়ে হলে এই মন্দিরে পুজো দিয়ে তবেই বিবাহ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এমন কি প্রখ্যাত চলচ্চিত্র শিল্পী শ্রীমতী সুচিত্রা সেন ও বিয়ের পরে এই মন্দিরে পুজো দিতে এসেছিলেন। মন্দির ভোর ৪ টে থেকে রাত্রি ১০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। দুপুরে সাময়িক বন্ধ থাকে। রোজ পরমান্ন ভোগ দেওয়া হয়। সমাজের সব ক্ষেত্রের মানুষজন এই মন্দিরে সমান ভাবেই আমন্ত্রিত হয়। ডোম সমাজেও এই ডাঙ্গালী মা অবস্থান করেন। যদি সত্যি সত্যি নিরাকার এর মধ্যেও মনের শক্তি পেতে চান আর ভক্তি দেখতে চান তবে এই মন্দিরে একবার উঁকি মেরে যেতে পারেন।চলবে…টাটকা ভিডিয়ো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন এই সময় ডিজিটালের YouTube পেজে। সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।

Source link

bolpur santiniketan: বোলপুরের আনাচে কানাচে – bolpur santiniketan tour plan guide from kolkata

পার্থময় চ্যাটার্জীকলকাতা বাসিদের কাছে বোলপুর খুব কাছের একটি প্রিয় স্থান। শান্তিনিকেতন যায়নি এমন বাঙালি কলকাতায় খুব কমই আছেন। আমি বোলপুর যাই বারে বারে, কারণে অকারণে। গ্রীষ্মে কৃষ্ণচূড়া দেখতে, বর্ষায় সবুজ রঙে রাঙায়িত হতে, শরতে যাই কাশফুল ছুঁতে, হেমন্তে যাই ঝরা পাতার শব্ধ শুনতে, শীতে যাই শীতলতার স্পর্শ পেতে, বসন্তে যাই পলাশ,শিমুল আর অশোকের রূপে প্রমত্ত হতে।তাই বোলপুর আমার কাছে ভালোলাগা ও ভালোবাসা। বোলপুরও আমাকে যেন ক্ষণে-অক্ষণে কাছে টেনে নেয়। বোলপুর মানে গুরুদেবের প্রতি নিবিড় অনুভূতি। আমি আকাশে, বাতাসে, ফুলেতে, পাতাতে শুনি তার ধ্বনি। বোলপুরের প্রতিটা ইট, পাথর, লালমাটি, প্রতিটা অলি গলি নিয়েই লেখা যায়। আজ আমি সেই কথা গুলোই বীরভূমের সরল কথায় সহজ ভাষায় উত্থাপন করছি।বোলপুর আমার কাছে শান্তির আশ্রয়, গুরুদেবের মন্দির। সেই সঙ্গে খোয়াই হাট, কোপাই পার, বিশ্ববাংলা হাটের চাতাল, সোনাঝুরির লাল ধুলো, আমার কুঠিরের কাঁকরের উঠোন খানি। সৃজনী গ্রামের বহুমুখী রূপ, রায়পুর জমিদার বাড়ির ইটের পাঁজরের ইতিহাস, লাল বাঁধের লাবণ্য, ডিয়ার পার্কের চঞ্চল হরিণের চোখট, ডোঙালি কালি মন্দিরের সন্ধ্যা, কঙ্কালী তলার পবিত্রতা, সবুজ বনের সজীবতা আর উড ফসিল পার্কের অতীতকে খুঁজে দেখাই হল বোলপুরের আশপাশ।এক এক করে আমি জানা অজানা বোলপুরকে তুলে ধরব …ফসিল পার্কবনে বাদাড়ে অনেক ঘুরেছি। পলাশের বনে অনেক হেঁটেছি, কিন্তু কখনও মাতাল হয়নি। এবার এই চৌপাহাড়ি, আর দারোন্ডা এসে আমি মহুয়ার রূপ আর তার পাগল করা মিষ্টি গন্ধে, সত্যি সত্যি মাতাল হলাম। হঠাৎ করে একটা ব্যক্তিগত কাজে বোলপুর আসতে হল। একদিনের জন্য যাওয়া, তাই একটা ছোট্ট ব্যাগ গুছিয়ে সকাল বেলা রওনা হলাম। বিদ্যাসাগর ব্রিজের ১০ টাকা ,ডানকুনি ও পালসিটের ৮০ টাকা আর ভেদিয়া ব্রিজ এর ১০ টাকা করে মানে ১৭০ টাকা পথের কর মিটিয়ে এগিয়ে চললাম। মাঝে সিঙ্গুরের পরে হুগলির শেষ প্রান্তে হিন্দুস্থান ধাবায় রুটি, পোস্ত আলু ভাজা আর ডিমের ওমলেট দিয়ে তিনজন প্রাতঃরাশ সারলাম।গত রাতে প্রায় চার ঘন্টা আড্ডা মেরে যখন আমরা ক্লান্ত দেহে বিছানায় গেলাম তখন ভোর হতে আর দু’ঘন্টা বাকি ছিল। আজ খুব ভোরে চারতলার খোলা জানালা দিয়ে শীতের শীতলতা আর কুয়াশার আলিঙ্গনে ঘুমটা ভেঙে গেল। এই এপ্রিলের প্রথম দিনটাতেও যে শীতের পরশে আমার দিনটা শুরু হবে তা ভাবিনি। আজ কলকাতায় ফিরতে হবে তাই খুব সকালেই ঘুম থেকে টেনে তুললাম ক্লান্ত দেহটাকে। সত্যি কথা বলছি আমার এই ওঠার পেছনে শীতের দাপট বেশি সাহায্য হয়েছে, স্নান সেরে বেরিয়ে পড়ব কলকাতা ফেরার পথে। একবার চৌপাহাড়ি জঙ্গলে একটু তাড়াহুড়ো করেই বের হলাম। পথে লুচি ঘুগনি আর চমচম দিয়ে ব্রেক ফাস্ট সারলাম। প্রথমে ঢুকলাম মহুল গ্রামের পথে , লালমাটির পথ দুধারে ঘন বিস্তীর্ন জঙ্গল , তারই মাঝে ইতিউতি দেখা যায় কাঠকুড়ানি মেয়ের দল। বাতাসে একটা মাদকতা, এই সময় বাঁকুড়া বীরভূম পুরুলিয়ার বাতাসকে মাতাল করে দেয় মহুয়ার গন্ধ। রসে টুসটুসে মহুয়া ফলগুলো নির্লজ্জের মতো আপনার শরীরে আছড়ে পরবে। খুব সুন্দর এই পথটা, পথের দু’ধারে মহুয়া আর পিয়াল গাছে ফল ধরে আছে, তার মধ্যে দিয়ে গন্ধে মাতাল হয়ে আমরা চলেছি আমখাই গ্রামে। পৌঁছনোর পরে বেশ খানিক্ষন চুপ করে একটা বিশাল বট গাছের নিচে বসে এই সরল জঙ্গল আর তার আদিবাসী গ্রামটাকে দেখছিলাম। এখানে এলে আমি নিজেকে ধাতস্থ করতে একটু সময় লাগে। এই ফসিল পার্ক ২০০৬ সালে সরকারের একশো দিনের প্রকল্পের কাজে গ্রামের কিছু মানুষ একটা পুকুর করছিল। মাত্র চোদ্দ ফুট গভিরে গিয়ে তারা আর কাটতে পারেনি , কারণ সেখানে ছিল দেড় দু’কোটি বছরের পুরোনো এক প্রস্থর যুগের সপুষ্পক উদ্ভিদ। যার শরীর, যা আজ পাথরে রূপান্তরিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে এখানে গড়ে উঠেছে এই ফসিল পার্ক। সুন্দর পরিবেশ, চৌপাহাড়ি জঙ্গলের মধ্যে যেন এক রাজ্ মুকুট পরে মায়োসিন যুগের সাক্ষ্য বহন করছে। এই রাজ্যের এটাই একমাত্র Wood Fossil Park । মুহুয়ার দুষ্টুমী এখানেও শেষ হয়নি, সমানে মাথায় ঘাড়ে বুকে, আছড়ে পড়ছে , সারা শরীরে একটা কেমন যেন গোবিন্দ ভোগ চালের গন্ধ লেগে আছে। দু’চারটে মুখেও নিলাম, তালশাঁস , আঙুরের এর মতো স্বাদ। আমার সারথি তো পেট ভোরে মহুয়া ফল আস্বাদন করে গাড়িতে উঠেই ঘুম দিল, আমি গাড়ির স্টিয়ারিন ধরলাম।(লেখক পরিচিতি: পেশা ভিন্ন হলেই ভ্রমণের টানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। বছরভর ভ্রমণেই কেটে যায় তাঁর। ভ্রমণ সংক্রান্ত লেখালেখি প্রায় ১০ বছর।)এই সময় ডিজিটালের লাইফস্টাইল সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে। সাবস্ক্রাইব করতে ক্লিক করুন এখানে।

Source link