এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: সোমবার থেকে দফায় দফার বৃষ্টি হচ্ছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে মৌসুমী অক্ষরেখা ক্রমাগত হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করেছে এই মৌসুমী অক্ষরেখা। আর এর ফলেই আগামী কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি চলবে গোটা উত্তরবঙ্গে।হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ৯ তারিখ থেকে শুরু হবে ভারী থেকে অভিভারী বৃষ্টি। চলবে রবিবার পর্যন্ত। সূত্রের খবর, উত্তরের জেলাগুলিতে ইতোমধ্যে জারি হয়েছে অরেঞ্জ সতর্কতা। সূত্রের খবর, ওই চারদিন ধরে বৃষ্টির ফলে ভূমিধস নামতে পারে পাহাড়ি এলাকায়। মাটি আলগা হয়ে তার জেরে ধস হলে রাস্তাঘাট বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রবল বৃষ্টিতে নদীর জল অত্যধিক মাত্রায় বৃদ্ধি পেলে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে পারে উত্তরের অধিকাংশ নদী। যার জেরে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তবে দক্ষিণবঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি মাপের বৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। প্রায় একই সঙ্গে দেশের দুই প্রান্তে হাজির হয়েছে দু’টি নিম্নচাপ। আর তার প্রভাবে আগামী কয়েক দিন পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে জোরালো বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে দিল্লির মৌসম ভবন। সূত্রের খবর , মৌসুমি অক্ষরেখার অবস্থানের ফলে উত্তর-পশ্চিম এবং মধ্য ভারতেও বৃষ্টি হবে।হাওয়া অফিস থেকে জানা গিয়েছে, হিমালয়ের পাদদেশের ৫ জেলা যথা দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়িতে ৯ জুলাই ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হবে। আলিপুরের পূর্বাভাস বৃহস্পতিবার ৭০ থেকে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবার এবং শনিবার এই পাঁচ জেলাতেই ২০০ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কবার্তা জারি করেছে হাওয়া অফিস। উত্তরের সব জেলাতেই রবিবার পর্যন্ত দুর্যোগ চলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।উত্তর পশ্চিম ও পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে ঘন্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সমুদ্রের ঢেউ ৪ মিটারের বেশি হতে পারে। ফলে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূলে ৮ জুলাই পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভুটানে বৃষ্টি শুরু হলে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে। তিস্তা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে জলপাইগুড়ি প্রশাসন। অন্যদিকে, বৃষ্টি হলেও বাতাসে আর্দ্রতার পরিমান বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম রয়েছে কলকাতায়।

Source link

Comments

comments